আজঃ সোমবার, ০৯ মার্চ, ২০২৬ -এ ২৫ ফাল্গুন ১৪৩২ - ২০ রমজান ১৪৪৭
  • আজ রংপুরের আবহাওয়া
• নারী দিবসে নারী প্রশিক্ষক লাঞ্ছনার প্রতিবাদে পঞ্চগড়ে মানববন্ধন, উপপরিচালকের প্রত্যাহার দাবি • ফুলছড়িতে আন্তর্জাতিক নারী দিবসে কুইজ, র‍্যালি, মানববন্ধন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত • বিজিবি ও সাংবাদিকদের লাঞ্ছনা : পাথর খেকোদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে তিস্তার চরাঞ্চল • তারাগঞ্জে মেধাবী বন্ধুর সুস্থতায় বন্ধুদের নিরলস প্রচেষ্টা • লালমনিরহাট জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত • নারী দিবসে নারী প্রশিক্ষক লাঞ্ছনার প্রতিবাদে পঞ্চগড়ে মানববন্ধন, উপপরিচালকের প্রত্যাহার দাবি • ফুলছড়িতে আন্তর্জাতিক নারী দিবসে কুইজ, র‍্যালি, মানববন্ধন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত • বিজিবি ও সাংবাদিকদের লাঞ্ছনা : পাথর খেকোদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে তিস্তার চরাঞ্চল • তারাগঞ্জে মেধাবী বন্ধুর সুস্থতায় বন্ধুদের নিরলস প্রচেষ্টা • লালমনিরহাট জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

তারাগঞ্জে মেধাবী বন্ধুর সুস্থতায় বন্ধুদের নিরলস প্রচেষ্টা

Nuclear Fusion Closer to Becoming a Reality6

এনামুল হক দুখু

এনামুল হক দুখু , তারাগঞ্জ , রংপুর প্রতিনিধিঃ

আপডেটঃ 9 মার্চ, 2026

রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় মানসিক ভারসাম্যহীন সেই মেধাবী হাছানুর রহমানের সুস্থতার জন্য নিরলস প্রচেষ্টা করে যাচ্ছে তার বন্ধুরা।

সুঠম দেহের অধিকারী হাছানুর দেখতে যেমন ছিলো অনেক সুন্দর পড়াশোনায় ও ঠিক তেমনি ছিলো মেধাবী। ২০০২ সালে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ভালো ফলাফল নিয়ে কৃতকার্য হন। ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে পরে ভর্তি হন রংপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে। 

এরপর জীবনের সেই সুসময় আর বেশি দিন থাকেনি হাছানুরের জীবনে। রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়কের পাশে তারাগঞ্জ নতুন চৌপথী বাসস্ট্যান্ডের পাশে ব্রিজের কাছে বাবা-মায়ের সঙ্গে নিজ বাড়িতে থাকতো হাছানুর। হঠাৎ করে একরাতে ডাকাতরা তাদের বাড়িতে ঢুকে রাতের আঁধারে তার পরিবারের সদস্যদের কুপিয়ে জখম করে রক্তাক্ত করে। এরপর থেকে ধীরে ধীরে মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পরে হাছানুর। পরে পড়ালেখা আর শেষ করতে পারেনি হাছানুর। থেমে যায় ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন। বাবা-মা অনেক চেষ্টা করেও সুস্থ্য করতে পারেনি হাছানুরকে। 

বাবা হোটেল চালিয়ে কোনোরকম পরিবার চালাতো। মা-বাবা যতদিন বেঁচে ছিলো হাছানুরকে দেখেশুনে রেখেছিলো। বাবা-মা মারা যাওয়ার পর হাছানুরের জীবনে নেমে ঘোর অন্ধকার। থেমে হাছানুরের চিকিৎসা। তার বড় ভাই হাছানুরের যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে শিকলে বন্দী করে রাখেন। 

হাছানুরের বড় ভাই রয়েছে একজন। তিনি ভ্যান চালিয়ে পরিবার নিয়ে কোনরকম চলে। 

কিন্তু কথা রয়েছে যে, বিপদেই আসল বন্ধু চেনা যায়। এটি একটি প্রচলিত কথা। জীবনে ক'জনই বা বিপদের সময়ে বন্ধুকে পায়। কিন্তু হাছানুরের জীবনে বন্ধুরা দেখালেন মানবিক রূপ। বিপদে পাশে এসে দাঁড়ালেন তারা। দায়িত্ব নিলেন সুস্থ স্বাভাবিক জীবনে ফিরে না আসা পর্যন্ত তার দায়িত্ব। মেধাবী হাছানুরের শিকল কেঁটে বন্ধুরা তাকে নিয়ে গেলেন মানসিক ডাক্তারের কাছে। করাচ্ছেন চিকিৎসা। শিকল থেকে মুক্ত এখন হাছানুর। খানিকটা সুস্থ এখন হাছানুর। ভালো-মন্দ বুঝতে শুরু করেছেন হাছানুর। হাছানুরের থাকার ঘর ছিলো না। ঘর নির্মাণের কাজও প্রায় শেষ করে ফেলেছেন তার বন্ধুরা। 

তারাগঞ্জ ও/এ সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের ২০০২ সালের ব্যাচের হাছানুরের বন্ধুরা নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে হাছানুরকে সুস্থ্য-স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে। বন্ধুরা বিভিন্ন কর্মসংস্থানে রয়েছে। বন্ধু হাছানুরের চিকিৎসার জন্য টাকা দিচ্ছে খোঁজখবর নিচ্ছে। কিন্তু সামনে থেকে যারা মুখ্য নেতৃত্ব দিচ্ছেন তারা হলেন, আব্দুল মতিন, হরলাল রায় ও জুয়েল ইসলাম বাবু। 

হরলাল রায় বলেন, আমরা তিন বন্ধু তাকে তিনবেলা ওষুধ খাওয়াই। তাকে গোসল করিয়ে দেই। তার ভালোমন্দের খোঁজখবর রাখি। আমরা তাকে মানসিক ডাক্তারকে দেখাই। সে এখন একটু সুস্থ। সে এখন অনেকটাই নিজের ভালো-মন্দ বুঝে। আগে শিকলে বাঁধা ছিলো। এখন শিকল ছাড়া থাকে। আগে চিল্লাইতো এখন আর চিল্লায় না। আমার বিশ্বাস সে সুস্থ হয়ে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরবে।

হাছানুরের বন্ধু আব্দুল মতিন বলেন, হাছানুরের জীবনে এমন কঠিন সময় আসবে আমি কল্পনাও করতে পারিনি। দারুণ মেধাবী ছাত্র ছিলো হাছানুর। সে দেখতেও ছিলো সুদর্শন। আজ তার জীবনে কঠিন সময় নেমে এসেছে। তার এই জীবনের দুঃসময়ে আমি বন্ধু হয়ে বসে থাকতে পারিনা। তাই বিবেকের তাড়নায় তার পাশে এসে দাঁড়িয়েছি। হাছানুর স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে শুরু করেছে। আমি মন থেকে চাই সে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরুক।

হাছানুরের আরেক বন্ধু জুয়েল ইসলাম বাবু বলেন, হাছানুর যেমন মেধাবী ছিলো তেমনি বিনয়ীও ছিলো। আমরা তার বন্ধুরা তাকে সুস্থ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার জন্য দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছি। তাকে তো আমরা আর ফেলে দিতে পারি না।
 

মন্তব্য লিখুন

সাম্প্রতিক মন্তব্য

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

সম্পাদকের কলাম

সাইদুর রহমান
সাইদুর রহমান
সাইদুর রহমান
সাইদুর রহমান

মতামত ও কলাম

ড. মাহফুজ পারভেজ
অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
মামুন রশীদ
মো. নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া
ডঃ সাদিক আহমেদ বিপুল
image