মূল কনটেন্টে যান
আজঃ মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ -এ ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ - ৯ রবিউস সানি ১৪৪৮

রংপুরে জ্বালানি তেলের বর্ধিত মূল্য পুনর্বিবেচনার আহ্বান

রংপুরে জ্বালানি তেলের বর্ধিত মূল্য পুনর্বিবেচনার আহ্বান

মাসফিকুল , রংপুর সদর , রংপুর প্রতিনিধিঃ

প্রকাশিতঃ ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩৬ দুপুর আপডেটঃ ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৪৩ রাত

সংক্ষেপে

রংপুরে জ্বালানি তেলের দাম ২০ টাকা বাড়ায় পরিবহন ও কৃষি ব্যয় বৃদ্ধির আশঙ্কায় ভুক্তভোগীরা মূল্য পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন।

  • উপজেলা: রংপুর সদর
  • জেলা: রংপুর
  • বিভাগ: রংপুর

জ্বালানি তেলের বর্ধিত মূল্য পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন রংপুরের ভুক্তভোগীরা। এক লাফে পেট্রোলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ায় পরিবহন চালকদের মধ্যে অস্বস্তি দেখা দিয়েছে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় পরিবহন ভাড়া, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য এবং উত্তরাঞ্চলের কৃষিতে উৎপাদন ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা ও দাম কমানোর দাবি জানিয়েছেন তারা। অনেকেই জ্বালানি তেলের এই মূল্যবৃদ্ধিকে সরকারের অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত বলেও মন্তব্য করেছেন।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় রোববার দিবাগত রাত ১২টার পর থেকে জ্বালানি তেলের নতুন মূল্য কার্যকর করেছে। নতুন দামে ডিজেল লিটারপ্রতি ১৩৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৬৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

দাম বাড়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রোববার রাতে রংপুরের বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার, ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। বেশিরভাগ পাম্পে তেল পাওয়া যায়নি। কিছু পাম্পে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে কর্তৃপক্ষ চলে যাওয়ায় তেল নিতে আসা গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। পুরোনো দামে কেনা তেল নতুন দামে বিক্রির কারসাজি হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট পাম্প মালিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে নগরীর মিজান ফিলিং স্টেশন, ইউনিক ফিলিং স্টেশন, সালেক ফিলিং স্টেশন, সিটি ফিলিং স্টেশনসহ বিভিন্ন পেট্রোল পাম্প ঘুরে নতুন দামে ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি করতে দেখা যায়। তেল নিতে আসা অনেক গ্রাহক সরকারের সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়ছে রংপুরের বিভিন্ন খাতে। পরিবহন ভাড়া ও ব্যয় বৃদ্ধি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়াসহ ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।

কৃষিনির্ভর রংপুরেও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে গত কয়েক বছর ধরে সেচ নিয়ে সমস্যায় পড়ছেন কৃষকরা। বর্ষা মৌসুমেও পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় অনেক সময় শুষ্ক মৌসুমের মতো সেচের মাধ্যমে ফসল উৎপাদন করতে হচ্ছে। এর মধ্যে দফায় দফায় জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় কৃষিতে উৎপাদন খরচ আরও বেড়ে যাচ্ছে।

অন্যদিকে ধান ও আলুতে ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় কৃষকরাও সংকটে রয়েছেন। ভুক্তভোগীরা বলছেন, গণশুনানির মাধ্যমে জ্বালানি তেলের নতুন মূল্য নির্ধারণ করা উচিত ছিল। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে মূল্য সমন্বয়ের বিষয়টি বিবেচনা করা হলেও দেশের মানুষের আর্থিক সক্ষমতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তেলের দাম পুনর্নির্ধারণের দাবি জানান তারা।

স্কুলশিক্ষক আমিনুল ইসলাম জুয়েল বলেন, আগে প্রতিদিন মোটরসাইকেলে যাতায়াতে প্রায় ২০০ টাকার তেল লাগত। এখন একই কাজে প্রায় ২৫০ টাকার তেল প্রয়োজন হচ্ছে। এতে প্রতিদিন ৪০ টাকার বেশি অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে, যা মাসে প্রায় এক হাজার ২০০ টাকা বাড়তি ব্যয় তৈরি করছে। প্রান্তিক মানুষের কথা বিবেচনা করে জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণ করা হলে জনগণ উপকৃত হতো।

ট্রাকচালক মফিজার রহমান বলেন, তেলের দাম বাড়লে পরিবহন ভাড়া নিয়ে প্রতিদিনই গ্রাহকদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা হয়। অনেক গ্রাহক বাড়তি ভাড়া দিতে চান না। ফলে কখনো কখনো লোকসান হলেও টিকে থাকার জন্য ট্রাক চালাতে হয়।

সিটি ফিলিং স্টেশনের স্বত্বাধিকারী হারুন অর রশিদ বলেন, তারা সরকার নির্ধারিত দামেই জ্বালানি তেল বিক্রি করছেন। এখন পর্যন্ত তেলের কোনো সংকট নেই। তবে দাম বাড়ায় গ্রাহকের সংখ্যা কিছুটা কমতে পারে। ফলে আগের মতো প্রতিদিন সমপরিমাণ তেল বিক্রি নাও হতে পারে।

এদিকে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানো, ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা, পরিমাপে কারচুপি রোধ এবং গ্রাহক হয়রানি কমাতে জেলা প্রশাসন, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নজরদারি বাড়িয়েছে। সোমবার সকালে নগরীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে তদারকি ও সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে দেখা গেছে।
 

মন্তব্য লিখুন

সাম্প্রতিক মন্তব্য

এখনও কোনো মন্তব্য নেই।