রংপুরে ৪ খুনের ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি আইনজীবী ঐক্য পরিষদের
সংক্ষেপে
রংপুরের চার খুনের ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিতে বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ আইনজীবী ঐক্য পরিষদ।
- উপজেলা: রংপুর সদর
- জেলা: রংপুর
- বিভাগ: রংপুর
রংপুর নগরীতে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ পরিবারের চার খুনের ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ আইনজীবী ঐক্য পরিষদের নেতারা।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নগরীর মাছুয়াপাড়ায় গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে তারা এ দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ আইনজীবী ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অনুপ কুমার সাহা বলেন, ‘চার খুনের সুষ্ঠু তদন্তের জন্য হাইকোর্ট ডিভিশনে রিট ফাইল করেছি। ন্যায়বিচারের স্বার্থে এবং তদন্তকারীদের সুপারভিশনের জন্য আমরা এসেছি। এ ধরনের বড় কোনো ঘটনা ঘটলে সুষ্ঠু তদন্ত হবে আমি ব্যক্তিগতভাবে তা বিশ্বাস করি না।’ তিনি বলেন, ‘বাড়িটি পরিদর্শনের জন্য পুলিশের আইজিপি ও কমিশনার বরাবর চিঠি দেওয়া হয়েছে। এদিন বাড়িতে আসার পর চার আইনজীবীকে ক্রাইম সিনে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার জন্য পুলিশ কমিশনারের কাছে অনুরোধ করা হলেও অনুমতি দেওয়া হয়নি।’
অনুপ কুমার সাহা আরও অভিযোগ করেন, পুলিশ কমিশনার তার কর্মকর্তাকে বলেছেন, উপরে যাওয়া যাবে না। তার মোবাইল নম্বর পুলিশ কমিশনার ব্লক করে দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের আইন বিষয়ক সম্পাদক অপূর্ব কুমার ভট্টাচার্য বলেন, ‘এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে জনমনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ কমিশনার একসময় একেক কথা বলেছেন। ডোমের কথা এক রকম, চিকিৎসকের কথা আরেক রকম।’
তিনি বলেন, “ঘটনাটি পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটেছে বলেই আমাদের মনে হচ্ছে। এজন্য আমরা হাইকোর্টের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির মাধ্যমে তদন্তের দাবি জানাচ্ছি, যাতে পুলিশের মনগড়া ‘জজ মিয়া’ নাটকের পুনরাবৃত্তি না ঘটে।”
নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের ঘটনার উদাহরণ টেনে অপূর্ব কুমার ভট্টাচার্য বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের ঘটনা যেমন বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে হয়েছে, চার খুনের ঘটনাতেও আমরা এমন একটি বিচার বিভাগীয় তদন্ত চাই।’
তিনি দাবি করেন, স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের অনেকেই ভয়ের কারণে মুখ খুলছেন না। প্রত্যেক মানুষের জীবন, জীবিকা ও বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে। বাংলাদেশে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটুক এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
বাংলাদেশ আইনজীবী ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জয়া ভট্টাচার্য বলেন, ‘আমরা কিছু তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করার জন্য এসেছি, যাতে রিট পিটিশনের সময় আদালতকে সহযোগিতা করতে পারি। কিন্তু এখানে এসে আমরা ঘটনাস্থলে যেতে পারিনি। যদিও আমরা বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করেছি।’
তিনি বলেন, ‘এমন একটি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এ ধরনের নির্মম ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে নিজেদের চোখে দেখে আমরা হতবাক হয়েছি। গণপতি চক্রবর্তীর পুরো বংশ নির্বংশ হয়ে গেল।’
এ সময় উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশে জয়া ভট্টাচার্য মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে সহযোগিতা করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত দিয়ে আইনজীবী ঐক্য পরিষদকেও সহায়তা করার অনুরোধ জানান।
এর আগে বিকেলে গণপতি চক্রবর্তী ওই বাড়িতে যান আইনজীবী ঐক্য পরিষদের নেতারা। বাড়ীর ভেতরে প্রবেশ করে সেখানে পাহারায় থাকা পুলিশের কাছে বাড়ির দ্বিতীয় তলা ও ছাদে যাওয়ার অনুমতি চান তারা।
পুলিশ সদস্যরা জানান, এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি প্রয়োজন। পরে আইনজীবী ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ মহানগর পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছে চার সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলকে ‘ক্রাইম সিনে’ প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার অনুরোধ জানান। তবে তাদের সেই অনুমতি দেওয়া হয়নি।
এরপর তারা বাড়িটির নিচতলা ও আশপাশের এলাকা ঘুরে দেখেন। পরে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযুক্ত হয়ে গ্রেপ্তার হওয়া সিদ্ধার্থ দাসের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন আইনজীবী ঐক্য পরিষদের নেতারা।
এ সময় সাবেক জেলা জজ সুধোন্দু কুমার বিশ্বাস, বাংলাদেশ আইনজীবী ঐক্য পরিষদের দপ্তর সম্পাদক প্রজ্ঞা পারমিতা দাস, সাংগঠনিক সম্পাদক মিন্টু চন্দ্র দাস, রংপুর আইনজীবী সমিতির সভাপতি শাহেদ কামাল ইবনে খতিব, ধর্ম ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক কাওছার আলী, রংপুর মহানগর নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক পলাশ কান্তি নাগসহ বাংলাদেশ আইনজীবী ঐক্য পরিষদের নেতা ও বিভিন্ন হিন্দু সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সাম্প্রতিক মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই।

মন্তব্য লিখুন