প্রতিবেশীর পরিকল্পনায় অধ্যক্ষের বাড়িতে ডাকাতি, গ্রেফতার ৬
পঞ্চগড় সদর উপজেলার মফিজার রহমান কলেজের অধ্যক্ষ নুরুল্লাহর বাড়িতে সংঘটিত ডাকাতির ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত মোবাইল ফোন, সিমকার্ডসহ ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে একজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
শুক্রবার (৬ মার্চ) দুপুরে পঞ্চগড় পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম।
গ্রেফতারকৃতরা হলো- একই ইউনিয়নের মাধইপাড়া এলাকার মিনহাজ আলীর ছেলে মজিবর রহমান (৩৫), পশ্চিম মাধইপাড়া এলাকার মৃত বছির উদ্দিনের ছেলে রমজান আলী (৩০), যুগিভিটা এলাকার আবু আলমের ছেলে সাদ্দাম হোসেন (৩০), রাজমহল পূর্ব বাগান এলাকার হাবিবের ছেলে আশিক (১৯), একই এলাকার আজিজ মিয়ার ছেলে জুবায়ের ওরফে জিদান (১৯) এবং যুগিভিটা এলাকার মৃত আব্দুল জলিলের ছেলে আলম (৩৭)।
পুলিশ জানান, গ্রেফতারকৃত আলম নুরুল্লাহর প্রতিবেশী। তিনি দরিদ্রতার কারণে এক সময় অধ্যক্ষ নুরুল্লাহর কাছে এক বিঘা জমি বর্গা চেয়েছিলেন। জমি না পেয়ে ক্ষোভ থেকে তিনি ডাকাতির পরিকল্পনা করে। পরে কামরুল নামের এক সহযোগীর সঙ্গে বিষয়টি আলোচনা করলে কামরুল তার পরিচিত কয়েকজনকে নিয়ে ডাকাতির পরিকল্পনা করে। ঘটনার দুই দিন আগে তারা পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে। ডাকাতির রাতে তারা নুরুল্লাহর বাড়ির পশ্চিম পাশের সুপারি বাগান দিয়ে এসে গ্রিলবিহীন একটি জানালা সাবল দিয়ে ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে। পরে নুরুল্লাহর স্ত্রী, শাশুড়ি ও সন্তানদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট করে নেয়।
এর আগে, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি রাত ২টার দিকে হাফিজাবাদ ইউনিয়নের যুগিভিটা এলাকায় অধ্যক্ষ মো. নুরুল্লাহর বাড়িতে সশস্ত্র ডাকাত দল হানা দেয়। ওই সময় নুরুল্লাহ ও তার মা ওমরাহ পালনের জন্য সৌদি আরবে অবস্থান করছিলেন। বাড়িতে তার স্ত্রী, সন্তান ও শাশুড়ি ছিলেন। ডাকাতদল অস্ত্রের মুখে তাদের জিম্মি করে প্রায় ৮ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ ২ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন লুট করে নেয়।
ঘটনার পর পঞ্চগড় সদর থানায় মামলা দায়ের হলে ডিবি পুলিশের একটি টিম তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে গত ৪ মার্চ গভীর রাতে পঞ্চগড়ের গাড়াতি ছিটমহল, পুকুরীডাঙ্গাসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঘটনায় জড়িত পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে ৫ মার্চ রাত ১টা ৩৫ মিনিটে অভিযান চালিয়ে এ ডাকাতির মূল পরিকল্পনাকারী ও নুরুল্লাহর প্রতিবেশী আলমকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি আদালতে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম বলেন, এ চক্রটি একটি সংঘবদ্ধ আন্তঃজেলা ডাকাত দল। তারা একাধিক ডাকাতির সঙ্গে জড়িত বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে। এ ঘটনায় জড়িত আরো দুইজন পলাতক আসামিকে গ্রেফতার এবং অবশিষ্ট লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সাম্প্রতিক মন্তব্য
কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য লিখুন