পঞ্চগড়ে প্রিন্টিং প্রেস জবর দখল চেষ্টার অভিযোগে নারী উদ্যোক্তার সংবাদ সম্মেলন
পঞ্চগড় জেলা শহরের ঐতিহ্যবাহী নিউ সিটি অফসেট প্রিন্টিং প্রেস জবরদখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নানা মাধ্যমে হুমকি-ধামকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী নারী উদ্যোক্তা রেহেনা আক্তার। নিজের একমাত্র জীবিকার অবলম্বন প্রেসটি বর্তমানে তালাবদ্ধ থাকায় তিনি চরম সংকটে পড়েছেন বলে দাবি করেছেন। একইসঙ্গে প্রেসটির শ্রমিকরাও কাজ হারিয়ে মানবেতর দিন পার করছেন।
শুক্রবার বিকেলে পঞ্চগড় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রেহেনা আক্তার জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, ১৯৮০ সালে পঞ্চগড় বাজারের কদমতলা এলাকায় ৫ দশমিক ৬২ শতক জমির ওপর তার স্বামী গোলাম রব্বানী বানী ‘সিটি স্টিল’ নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। পরবর্তীতে ২০০৭ সালে ব্যবসার ধরন পরিবর্তন করে ওই স্থানেই ‘নিউ সিটি অফসেট প্রিন্টিং প্রেস’ প্রতিষ্ঠা করেন এবং দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন।
২০২১ সালে গোলাম রব্বানী বানীর মৃত্যুর পর প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্ব নেন তার স্ত্রী রেহেনা আক্তার। তিনি জানান, ২০২৫ সালের মার্চ মাসে নতুন করে ডিসিআর নিয়ে নিয়ম মেনেই প্রেসটির কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন। কিন্তু গত ৩১ জানুয়ারি তার স্বামীর ভাই ইকবাল কায়সার মিন্টুর স্ত্রী দিল আফরোজ ও মেয়ে সুমাইয়া কায়সার ভাড়াটে লোকজন নিয়ে এসে প্রেসটি তালাবদ্ধ করে দেন।
পরে বণিক সমিতির মধ্যস্থতায় প্রায় এক সপ্তাহ পর প্রেসটি খুলে দেওয়া হলেও গত ৫ মার্চ আবারও লোকজন নিয়ে এসে প্রেসটি জবরদখলের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বণিক সমিতির সদস্যরা প্রেসটি তালাবদ্ধ করে দেন।
এ ঘটনায় দুই মেয়েকে নিয়ে মানবিক সংকটে পড়েছেন বলে জানান রেহেনা আক্তার। তিনি বলেন, আমার স্বামী চার দশকেরও বেশি সময় ধরে এখানে ব্যবসা করেছেন। তার মৃত্যুর পর এই প্রেস চালিয়েই আমরা জীবিকা নির্বাহ করছি। আমাদের আয়ের আর কোনো পথ নেই। কিন্তু আমার স্বামীর ভাইয়ের স্ত্রী ও মেয়ে ভাড়াটে লোকজন নিয়ে বারবার প্রেসে এসে তালাবদ্ধ করে দিচ্ছে এবং আমাকে হুমকি-ধামকি দিচ্ছে। অথচ আমি নিয়মতান্ত্রিকভাবে প্রেসটি পরিচালনা করছি এবং সরকারের কাছ থেকে ডিসিআরও নিয়েছি।
তিনি আরও বলেন, প্রেসটি বন্ধ থাকায় আমরা চরম সমস্যায় পড়েছি। সামনে ঈদ কীভাবে চলব তা বুঝতে পারছি না। আমার শ্রমিকরাও কাজ না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। আমি চাই প্রশাসন বিষয়টি দ্রুত সমাধান করুক এবং যারা প্রেসটি জবরদখলের চেষ্টা করেছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
এ বিষয়ে পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল ইসলাম বলেন, ওই প্রেসে মারামারির ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় একটি পক্ষ লিখিত অভিযোগ করেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাম্প্রতিক মন্তব্য
কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য লিখুন