২৮ বছর বয়স পর্যন্ত তরুণদের ব্যবসায় ২০ লাখ টাকা অর্থায়ন
সংক্ষেপে
বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘উদ্যোগ’ কর্মসূচিতে ৬৪ উপজেলার তরুণরা সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা অর্থায়ন ও প্রশিক্ষণের সুযোগ পাবেন।
- উপজেলা: রংপুর সদর
- জেলা: রংপুর
- বিভাগ: রংপুর
বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘উদ্যোগ’ কর্মসূচির আওতায় দেশের ৮ বিভাগের ৮ জেলার ৬৪ উপজেলায় তরুণ উদ্যোক্তাদের ব্যবসায়িক উদ্যোগে অর্থায়ন করা হবে। নতুন উদ্যোক্তা তৈরি, উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও স্থানীয় পর্যায়ে ব্যবসার প্রসারে এ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমইএসপিডি সার্কুলার নং-০৫-এর মাধ্যমে গত ১৩ সেপ্টেম্বর এ কর্মসূচির নীতিমালা জারি করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট ও এসএমই পোর্টালে এ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
কর্মসূচির প্রাথমিক পর্যায়ে মানিকগঞ্জ, ফেনী, নওগাঁ, ঝিনাইদহ, ভোলা, হবিগঞ্জ, রংপুর ও নেত্রকোনা জেলার সব উপজেলায় কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এসব জেলার মোট ৬৪ উপজেলায় সম্ভাবনাময় তরুণ উদ্যোক্তাদের খুঁজে বের করে তাদের ব্যবসায়িক উদ্যোগে অর্থায়নের আওতায় আনা হবে।
আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে ‘উদ্যোগ’ কর্মসূচির আওতায় আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। নির্ধারিত ফরমে আগামী ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত আবেদন করা যাবে। নির্ধারিত সময়ের পর কোনো আবেদন গ্রহণ বা বিবেচনা করা হবে না।
বাংলাদেশ ব্যাংক, এসএমই পোর্টাল এবং তফসিলি ব্যাংকগুলোর নিজস্ব ওয়েবসাইট থেকে আবেদন ফরম সংগ্রহ করা যাবে। যথাযথভাবে পূরণ করা আবেদন সংশ্লিষ্ট উপজেলার যেকোনো তফসিলি ব্যাংকের শাখায় জমা দেওয়া যাবে। আবেদনকারীর সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে আগে থেকে হিসাব থাকা বাধ্যতামূলক নয়। আবেদন করতে কোনো ফি বা অতিরিক্ত খরচ দিতে হবে না।
আবেদনের শেষ তারিখে সর্বোচ্চ ২৮ বছর বয়সী প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকরা এ কর্মসূচিতে আবেদন করতে পারবেন। আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। পাশাপাশি তার নিজস্ব ব্যবসায়িক উদ্যোগ, ব্যবসায়িক ধারণা অথবা নতুন ব্যবসা প্রতিষ্ঠার বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা থাকতে হবে। একটি বাস্তবসম্মত ব্যবসায়িক ধারণা থাকলেই আবেদন করা যাবে।
তবে কোনো আবেদনকারী ব্যবসা পরিচালনার জন্য আগে কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়ে থাকলে এবং ওই ঋণ খেলাপি হলে তিনি এ কর্মসূচির অর্থায়নের জন্য যোগ্য বিবেচিত হবেন না। সরকারি, আধা-সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিরাও এ কর্মসূচির আওতায় অর্থায়নের জন্য বিবেচিত হবেন না।
নির্বাচিত উদ্যোক্তাদের ব্যবসায়িক চাহিদা ও প্রস্তাবিত ব্যয়ের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত সমন্বিত অর্থায়ন দেওয়া হবে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা ব্যাংক ঋণ এবং সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা অনুদান হিসেবে দেওয়া হবে। ঋণের বিপরীতে কোনো সহায়ক জামানত ছাড়াই অর্থায়নের সুযোগ থাকবে।
তবে উদ্যোক্তার প্রকৃত ব্যবসায়িক চাহিদা, প্রস্তাবিত ব্যয় পরিকল্পনা ও চূড়ান্ত মূল্যায়নের ভিত্তিতে অর্থায়নের পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে। ব্যাংক ঋণ ও অনুদান একই সময়ে এককালীনভাবে অনুমোদিত পরিমাণে উদ্যোক্তার ব্যাংক হিসাবে দেওয়া হবে। নগদ অর্থ প্রদান করা হবে না।
নির্ধারিত সময়ে ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে অথবা ঋণের অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহার না করার প্রমাণ পাওয়া গেলে বিতরণ করা অনুদানের সমপরিমাণ অর্থ ঋণে রূপান্তর করা হবে। পরবর্তীতে তা সরকারি পাওনা হিসেবে প্রচলিত আইন অনুযায়ী আদায়যোগ্য হবে।
কর্মসূচিটি শুধু অর্থায়নের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এর আওতায় আবেদনকারীদের আর্থিক সাক্ষরতা কর্মসূচিতে যুক্ত করা হবে। নির্বাচিত উদ্যোক্তারা প্রশিক্ষণ, অভিজ্ঞ মেন্টরের ধারাবাহিক পরামর্শ, ব্যবসা নিবন্ধন ও ব্যবসায়িক পরিকল্পনা তৈরিতে সহায়তা এবং বাজারের সঙ্গে সংযোগের সুযোগ পাবেন।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, কর্মসূচির সুবিধা পাওয়ার জন্য কোনো পর্যায়ে তদবির করা হলে সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীকে অযোগ্য বিবেচনা করা হবে এবং তার আবেদন বাতিল বলে গণ্য হবে। এছাড়া মিথ্যা তথ্য প্রদান বা অন্যের ধারণা নিজের নামে ব্যবহার করে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা প্রমাণিত হলে আবেদন বাতিলের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীকে কালো তালিকাভুক্ত করা হবে।
কর্মসূচির বিস্তারিত নীতিমালা, উদ্যোক্তার যোগ্যতা, অর্থায়নের কাঠামো, আবেদন পদ্ধতি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বাংলাদেশ ব্যাংকের ১৩ সেপ্টেম্বর জারি করা এসএমইএসপিডি সার্কুলার নং-০৫-এ উল্লেখ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক আশা করছে, ‘উদ্যোগ’ কর্মসূচির মাধ্যমে উপজেলা পর্যায়ের সম্ভাবনাময় তরুণ উদ্যোক্তাদের ব্যাংক অর্থায়নের আওতায় এনে নতুন ব্যবসা ও উৎপাদনশীল কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব হবে।
সাম্প্রতিক মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই।
মন্তব্য লিখুন