ছাত্রদলের অবস্থান কর্মসূচি ঘিরে থমথমে বেরোবি, জোরদার নিরাপত্তা
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের অবস্থান কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে অংশ নেন রংপুর মহানগর ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন মহানগর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জহির আলম নয়ন, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ইমরান হোসেন, সদস্য সচিব নূর হাসান সুমন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব জাকারিয়া ইসলাম জিম, জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শরীফ নেওয়াজ জোহা, সদস্য সচিব আফতাবুজ্জামান সুজন, মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক আল ইমরান সুজন এবং সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম রবি।
অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং ক্যাম্পাসসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান নেন। একই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের উদ্যোগে একটি বিক্ষোভ মিছিলও অনুষ্ঠিত হয়। সম্ভাব্য সংঘর্ষের আশঙ্কায় ক্যাম্পাসজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয় এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
এর আগে সোমবার (৩ আগস্ট) রাতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত পাঁচজন আহত হন। ওই ঘটনার পর থেকেই ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মঙ্গলবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. ফেরদৌস রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত অতিথি, দর্শনার্থীসহ সব ধরনের বহিরাগতদের ক্যাম্পাসে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়। একই সঙ্গে বাইসাইকেল, মোটরসাইকেল, রিকশা, প্রাইভেট কারসহ বিভিন্ন যানবাহনের প্রবেশেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ক্যাম্পাসজুড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের টহলও বৃদ্ধি করা হয়েছে।
এদিকে চলমান পরিস্থিতিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। সম্ভাব্য সংঘর্ষের আশঙ্কায় অনেক শিক্ষার্থী প্রয়োজন ছাড়া ক্যাম্পাসে অবস্থান করছেন না।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ইয়ামিন বলেন, "যারা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকে কটাক্ষ করবে এবং জুলাইয়ের চেতনাকে খাটো করার চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল সর্বাত্মক প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।"
তাজহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, "পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমাদের পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছে। আমরা সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং আমাদের নিয়ন্ত্রণে আছে।"
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী বলেন, "সোমবারের ঘটনার পর আমরা দুই ছাত্র সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। আজকের কর্মসূচিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নয়; এটি রংপুর মহানগর জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কর্মসূচি। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।"
অন্যদিকে, সোমবার রাতের ঘটনার প্রতিবাদ এবং গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে ইসলামী ছাত্রশিবির 'অদম্য জুলাই' শিরোনামে মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫টায় কারমাইকেল কলেজ থেকে বিক্ষোভ মিছিলের ঘোষণা দিয়েছে। এ কর্মসূচিকে ঘিরেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
সাম্প্রতিক মন্তব্য
কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য লিখুন