চিকিৎসার অর্থের অভাবে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে মাদ্রাসাছাত্রী উম্মে হানী
চিকিৎসার অর্থের অভাবে মৃত্যুর সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়াই করছে দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার ১১ বছর বয়সী মাদ্রাসাছাত্রী উম্মে হানী। এপ্লাস্টিক অ্যানিমিয়া (Aplastic Anemia) রোগে আক্রান্ত শিশুটিকে বাঁচাতে প্রয়োজন ব্যয়বহুল চিকিৎসা ও অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন (বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট) অথবা বিশেষায়িত চিকিৎসা। কিন্তু প্রায় ১৬ থেকে ১৮ লাখ টাকা ব্যয়ের সামর্থ্য নেই দরিদ্র পরিবারটির।
উম্মে হানী উপজেলার বোয়ালদাড় ইউনিয়নের বড় চেংগ্রাম (নওনাপাড়া) গ্রামের সবজি বিক্রেতা হানিফের বড় মেয়ে। সে বিশাপাড়া দারুল হুদা দ্বিমুখী দাখিল মাদ্রাসার চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী। অসুস্থ হয়ে পড়ার পর থেকে নিয়মিত বিদ্যালয়ে যেতে পারছে না। বর্তমানে অধিকাংশ সময় তাকে শয্যাশায়ী অবস্থায় কাটাতে হচ্ছে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দেড় বছর আগে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার এপ্লাস্টিক অ্যানিমিয়া ধরা পড়ে। এরপর দিনাজপুর, পার্বতীপুর ও বগুড়াসহ বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নেওয়া হলেও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা তাকে ঢাকায় উন্নত চিকিৎসার পরামর্শ দেন। বর্তমানে প্রতি মাসেই তাকে রক্ত দিতে হচ্ছে। সময়মতো রক্ত না পেলে তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে।
উম্মে হানীর বাবা হানিফ বলেন, মেয়ের চিকিৎসা করাতে গিয়ে তাঁর একমাত্র আয়ের উৎস ছোট্ট সবজির দোকানটিও বন্ধ হয়ে গেছে। দেড় শতক জমির ওপর টিনের একটি ঘর ছাড়া তাঁদের আর কোনো সম্পদ নেই। এত বিপুল অর্থ জোগাড় করা তাঁদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
তিনি বলেন, “মেয়েকে বাঁচাতে সমাজের বিত্তবান ও হৃদয়বান মানুষের সহযোগিতা চাই। সবার একটু সহযোগিতা পেলে হয়তো আমার মেয়েটা আবার সুস্থ জীবনে ফিরতে পারবে।”
মা-ও কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, মেয়ের কষ্ট আর দেখতে পারছেন না। প্রতিদিনই তার শারীরিক অবস্থা খারাপের দিকে যাচ্ছে। দ্রুত চিকিৎসা শুরু না হলে বড় ধরনের বিপদের আশঙ্কা রয়েছে।
বিশাপাড়া দারুল হুদা দ্বিমুখী দাখিল মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট রোস্তম আলী সরকার বলেন, উম্মে হানী অত্যন্ত মেধাবী ও ভদ্র ছাত্রী। দ্রুত চিকিৎসা পেলে সে আবারও লেখাপড়ায় ফিরতে পারবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতারও আহ্বান জানান তিনি।
বোয়ালদাড় ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান নাজিমুল হোসাইন বলেন, সময়মতো চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে উম্মে হানী সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারে। তাই তিনি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে সবাইকে শিশুটির পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।
পরিবারের প্রত্যাশা, সমাজের সামর্থ্যবান ও মানবিক মানুষের সহযোগিতায় উম্মে হানী আবারও বিদ্যালয়ে ফিরবে, সহপাঠীদের সঙ্গে খেলাধুলা করবে এবং স্বপ্নের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলবে।
সহযোগিতা পাঠানোর মাধ্যম (পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী):
নগদ: ০১৭৮০৯১৮০৪৯
সাম্প্রতিক মন্তব্য
কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য লিখুন