জুলাই-পরবর্তী বেরোবির গণিত বিভাগ নির্বাচনে প্রার্থী সাবেক ছাত্রলীগ নেতারা
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) গণিত বিভাগ ছাত্র সংসদের নির্বাচন আজ ২৮ জুলাই অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নির্বাচনকে ঘিরে বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ থাকলেও কয়েকজন প্রার্থীর অতীত রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়ে ক্যাম্পাসে আলোচনা-সমালোচনা দেখা দিয়েছে।
নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মো. আহসান হাসান হাবিব সৌরভ এবং সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মো. পিয়াল হাসান।
ক্যাম্পাসের বিভিন্ন শিক্ষার্থীর দাবি, উভয় প্রার্থী অতীতে ছাত্রলীগের বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। জুলাই অভ্যুত্থানের পর দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে শিক্ষার্থীদের একাংশ প্রশ্ন তুলছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে নানা আলোচনা চলছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। তাই প্রার্থীদের অতীত রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়ে স্বচ্ছতা থাকা প্রয়োজন।
গণিত বিভাগ ছাত্র সংসদের নির্বাচন কমিশনার আরমান হোসেন বলেন, আমাদের গঠনতন্ত্রে আছে, যারা রানিং ছাত্র, তারা ভোট এবং প্রার্থী হতে পারবে। ওদের বিরুদ্ধে যদি কোনো শাস্তি থেকে থাকে, তবেই তারা প্রার্থী হতে পারবে না। কিন্তু এদের বিরুদ্ধে তালিকাভুক্ত নেই। এরা তালিকাভুক্ত থাকলে অবশ্যই এদের ছাত্রত্ব বাতিল হতো এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারত না। তাঁদের এটা অধিকার, ভোট দেওয়া এবং প্রার্থী হওয়া, যেহেতু তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই। আমরা এটার সঙ্গে কোনো আপোষ করি নাই। আমাদের বিভাগের যাদের আবু সাঈদ হত্যা মামলার অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের প্রার্থিতা রাখি নাই। তাঁদের বিরুদ্ধে আমরা কোনো ছাড় রাখি নাই।
বেরোবি শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মো. রিফাত হোসেন রাফি বলেন, ছাত্রলীগের যারা বিষয়গুলো ক্লিয়ার করে নাই, যারা কমিটিতে ছিল, ২০২৪ গণঅভ্যুত্থানকে বিশ্বাস করে না, তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনো রয়েছে। তারা বিভিন্নভাবে তাদের কার্যক্রম চালাতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয় তাদের বিভাগের কার্যক্রম বন্ধ রাখা উচিত। তাদের বাইরে তাদের বিভাগের শিক্ষকদের আরও সতর্ক থাকা উচিত ছিল। তারা কেন ছাত্রলীগকে অংশগ্রহণ করতে দেয়।
অন্যদিকে, বেরোবি শাখা শিবিরের নেতা শিবলী সাদিক বলেন, এটা বিভাগের দেখা উচিত ছিল, যেন ছাত্রলীগের কেউ নির্বাচন করতে না পারে। এটা নিয়ে আমরা বসব। কোনো সিদ্ধান্ত নিলে আমরা জানাব।
সাম্প্রতিক মন্তব্য
কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য লিখুন