নীলফামারীতে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগে স্বামী গ্রেফতার
নীলফামারীতে যৌতুকের দাবিতে ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে হত্যা মামলার প্রধান আসামি স্বামী মোঃ আলামিনকে (২২) গ্রেফতার করেছে র্যাব-১৩।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) বিষয়টি নিশ্চিত করেন র্যাব-১৩ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক বিপ্লব কুমার গোস্বামী।
এর আগে, বুধবার (২০ মে) রাত ১১টা ১৫ মিনিটে নীলফামারী সদর উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের বড়ডাঙ্গা বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
র্যাব জানায়, গত ২৩ মে ২০২৫ তারিখে ভিকটিম সাদিয়া আক্তারের সঙ্গে আলামিনের ইসলামী শরীয়াহ মোতাবেক বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই আলামিন ও তার পরিবারের সদস্যরা সাদিয়ার কাছে দুই লাখ টাকা যৌতুক দাবি করতে থাকেন। কিন্তু সাদিয়ার মা একজন দরিদ্র বিধবা হওয়ায় সেই টাকা দিতে পারেননি।
যৌতুকের টাকা না পেয়ে আলামিন প্রায়ই সাদিয়ার ওপর শারীরিক নির্যাতন চালাতেন। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সালিশ বৈঠক হলেও আসামিরা তাদের দাবিতে অনড় ছিলেন। ভিকটিম ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর তার ওপর নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে যায়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে পুনরায় যৌতুকের টাকা দাবি করলে এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে আলামিন বাঁশের লাঠি দিয়ে সাদিয়াকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। পরে অন্যান্য আসামিদের সহায়তায় তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার পর আলামিন মোবাইল ফোনে ভিকটিমের মাকে জানায়, তার মেয়ে আত্মহত্যা করেছে। পরে ভিকটিমের স্বজনরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বাড়িঘর তালাবদ্ধ দেখতে পান। পরে ঘরের ভেতরে ঢুকে সাদিয়ার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান তারা।
এ ঘটনায় গত ২ মার্চ ২০২৬ তারিখে ভিকটিমের মা বাদী হয়ে নীলফামারী সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর ১১(ক)/৩০ ধারায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
র্যাব জানায়, ঘটনার পর থেকেই আলামিন আত্মগোপনে ছিলেন। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
র্যাব-১৩ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক বিপ্লব কুমার গোস্বামী জানান, গ্রেফতার আসামিকে পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রমের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়া এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সাম্প্রতিক মন্তব্য
কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য লিখুন