মূল কনটেন্টে যান
আজঃ মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর, ২০২৬ -এ ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ - ২৩ রবিউস সানি ১৪৪৮

রংপুর শিক্ষা অফিস থেকে চার বস্তা নথি সরানোর চেষ্টা, স্থানীয়দের বাধায় আটক

রংপুর শিক্ষা অফিস থেকে চার বস্তা নথি সরানোর চেষ্টা, স্থানীয়দের বাধায় আটক

মাসফিকুল , রংপুর সদর , রংপুর প্রতিনিধিঃ

প্রকাশিতঃ ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:২১ বিকাল আপডেটঃ ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:০৮ বিকাল

সংক্ষেপে

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের ভাষ্য, দুপুরে বিভাগীয় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অফিসের পেছনের সড়কে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় মুখ সেলাই করা চারটি বড় বস্তা তোলা হচ্ছিল।

  • উপজেলা: রংপুর সদর
  • জেলা: রংপুর
  • বিভাগ: রংপুর

রংপুরে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা (মাউশি) আঞ্চলিক উপ-পরিচালকের কার্যালয় থেকে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথিপত্রভর্তি চারটি বস্তা সরিয়ে নেওয়ার সময় একটি অটোরিকশা আটক করেছেন স্থানীয়রা। সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে শিক্ষা অফিসের পেছনের সড়ক থেকে বস্তাগুলো আটক করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের ভাষ্য, দুপুরে বিভাগীয় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অফিসের পেছনের সড়কে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় মুখ সেলাই করা চারটি বড় বস্তা তোলা হচ্ছিল। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে স্থানীয়রা অটোরিকশাটি ঘেরাও করে বস্তাগুলো আটকে দেন। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

ঘটনাস্থলে শিক্ষা অফিসের কর্মচারী আবু তালেব ও অটোরিকশার চালক মোহাম্মদ জাহিদ উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয়দের প্রশ্নের জবাবে তারা দাবি করেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতিতেই বস্তাগুলো সরিয়ে নেওয়া হচ্ছিল। এমনকি বিভাগীয় পরিচালকের নির্দেশেই নির্দিষ্ট স্থানে এসব নথি পৌঁছে দিতে তারা এসেছেন বলেও জানান তারা।

এ ঘটনায় বিভাগীয় উপ-পরিচালক কামরুজ্জামান পাইকার ও পরিচালক মাজেদ আলীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাটিকে ‘চুরির অপচেষ্টা’ হিসেবে দেখছেন বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে প্রধান স্টোররুম তালাবদ্ধ ও অক্ষত থাকার পরও সেখানে থাকা গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র কীভাবে বাইরে আনা হলো, তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথি সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। তাদের অভিযোগ, কোনো অনিয়ম, দুর্নীতি বা অডিট আপত্তির তথ্য গোপন কিংবা সংশ্লিষ্ট নথি নষ্ট করার উদ্দেশ্যে এসব কাগজপত্র সরানো হয়ে থাকতে পারে। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে এর সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এর আগে গত ২৯ সেপ্টেম্বর রংপুর মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা আঞ্চলিক কার্যালয়ে অভিযান চালায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযানে দুটি প্রতিষ্ঠানের দুজনের এমপিও-সংক্রান্ত নথি যাচাই করা হয়। সংস্থাটি জানায়, আঞ্চলিক কার্যালয়ের সাবেক পরিচালক আমীর আলীর দায়িত্বকালে এমপিওভুক্তির ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে।

দুদকের রংপুর কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক এ কে এম নুরে আলম জানান, সাবেক পরিচালক আমীর আলীর কর্মকাণ্ড নিয়ে পাওয়া অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কার্যালয়ের নথিপত্র যাচাই করা হয়েছে। এতে সৈয়দপুর মহিলা মহাবিদ্যালয়ের হাবিবুর রহমান ও নীলফামারীর মীরগঞ্জ হাট ডিগ্রি কলেজের ফৌজিয়া আক্তারের এমপিওভুক্তির ক্ষেত্রে বিভিন্ন অনিয়মের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায়। তাদের এমপিওভুক্তির জন্য ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহার করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে।

দুদকের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, কয়েকজনের নথি যাচাইয়ের চেষ্টা করা হলেও প্রায় দুই ঘণ্টা সংশ্লিষ্ট সফটওয়্যার কাজ না করায় এবং অনেক নথির হার্ডকপি কার্যালয়ে সংরক্ষিত না থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে সেগুলো যাচাই করা সম্ভব হয়নি। প্রয়োজনীয় নথি সংরক্ষণ এবং কার্যক্রম আধুনিক করার বিষয়ে বর্তমান কর্তৃপক্ষকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

দুদকের অভিযানের ছয় দিনের মাথায় চার বস্তা নথি সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টার ঘটনাটি অন্য কোনো বিষয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কি না, তা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক—সুজন রংপুর জেলা সভাপতি অধ্যক্ষ খন্দকার ফখরুল আনাম বেঞ্জু।

তিনি বলেন, স্টোররুম থেকে এভাবে চার বস্তা কাগজ বাইরে নেওয়ার পেছনে কোনো কারণ থাকতে পারে। এসব বস্তায় বিভিন্ন সময়ে সংঘটিত অনিয়ম-দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত অধ্যক্ষ, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রয়োজনীয় নথি রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। বিশেষ করে দুদকের অভিযানের এক সপ্তাহ না পেরোতেই এমন ঘটনা ঘটায় বিষয়টি রহস্যজনক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মন্তব্য লিখুন

সাম্প্রতিক মন্তব্য

এখনও কোনো মন্তব্য নেই।