রংপুরে এসডোর জিরো ওয়েস্ট মডেলের সাফল্য: বর্জ্যমুক্ত গ্রাম থেকে উঠে আসছেন নতুন নারী উদ্যোক্তা
রংপুর জেলার বেতগাড়ী ইউনিয়নে জিরো ওয়েস্ট ভিত্তিক টেকসই উন্নয়ন ও নারী উদ্যোক্তা গড়ে তোলার একটি সফল উদ্যোগ বাস্তবায়িত হচ্ছে। গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ইনসিনারেটর অলটারনেটিভস (GAIA)-র সহায়তায়, এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন- এসডো, বাস্তবায়ন করছে “Scaling the Zero Waste Community Model: Biogas, Composting, and Circular Economy in Bangladesh” প্রকল্প। এই প্রকল্পর আওতায় বেতগাড়ী ইউনিয়নের দুটি গ্রাম ইতোমধ্যে জিরো ওয়েস্ট গ্রাম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এখানে কৃষিতে রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমিয়ে জৈব সার ব্যবহারের মাধ্যমে অর্গানিক ফসল উৎপাদন করা হচ্ছে, যা পরিবেশবান্ধব ও টেকসই উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত।
এই উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করতে উক্ত দুটি গ্রামের মোট ৩০ জন নারীকে সেলাই প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হয়েছে। প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে Youth Career & Development Organization (YCDO)। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারী নারীরা বিভিন্ন ধরনের পোশাক ও ব্যাগ তৈরি, জিরো ওয়েস্ট ভিত্তিক ইকো-ফ্রেন্ডলি পণ্য উৎপাদন, YCDO-এর রুফটপ গ্রিন সিটি প্রজেক্ট-এর জন্য জিও ব্যাগ তৈরি, এবং ট্রাইকো কম্পোস্ট সার উৎপাদনের দক্ষতা অর্জন করছেন।
শুধু দক্ষতা উন্নয়নই নয়, তাদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রশিক্ষণও প্রদান করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে তারা নিজেদের তৈরি পণ্য দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রয়ের সুযোগ পাচ্ছেন।এই উদ্যোগের মাধ্যমে নতুন নারী উদ্যোক্তা তৈরি হচ্ছে, কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে, পরিবার ও সমাজে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটছে এবং একইসাথে পরিবেশবান্ধব জীবনধারা গড়ে উঠছে।
এসডো-এর সেক্রেটারি জেনারেল ড. শাহরিয়ার হোসেন বলেন, “জিরো ওয়েস্ট কেবল একটি পরিবেশগত উদ্যোগ নয়, এটি একটি সামাজিক ও অর্থনৈতিক রূপান্তরের পথ। বেতগাড়ীর এই মডেল দেখাচ্ছে কীভাবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে সম্পদে রূপান্তর করে নারীদের ক্ষমতায়ন সম্ভব।”
এসডো-এর নির্বাহী পরিচালক সিদ্দিকা সুলতানা বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, টেকসই উন্নয়ন তখনই সম্ভব যখন স্থানীয় জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে নারীরা, এর নেতৃত্বে থাকে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে আমরা পরিবেশ সুরক্ষা ও নারী উদ্যোক্তা তৈরির একটি কার্যকর মডেল প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি।”
এসডো-এর উপদেষ্টা মোঃ সাবদার হোসেন বলেন, “এই উদ্যোগ স্থানীয় পর্যায়ে সার্কুলার ইকোনমি বাস্তবায়নের একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ। এটি শুধু বর্জ্য কমাচ্ছে না, বরং নতুন অর্থনৈতিক সুযোগও সৃষ্টি করছে।”
YCDO-এর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক মোঃ হানিফ আলী বলেন, “নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার মাধ্যমে আমরা একটি স্বনির্ভর কমিউনিটি তৈরির দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। এই প্রশিক্ষণ তাদের জীবনে বাস্তব পরিবর্তন আনছে।”
এই সফল যাত্রার ধারাবাহিকতায় ১২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে বেতগাড়ী এসডো অফিসে আয়োজন করা হয়েছে সনদ বিতরণ অনুষ্ঠান এবং উদ্যোক্তা ও পণ্য প্রদর্শনী মেলা। উক্ত অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসন, উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি, প্রকল্প অংশীদার এবং উপকারভোগী নারীরা উপস্থিত ছিলেন। এই আয়োজন জিরো ওয়েস্ট মডেলকে আরও বিস্তৃত করার পাশাপাশি স্থানীয় নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক মন্তব্য
কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য লিখুন