পঞ্চগড়ে স্থানীয় পণ্যের ব্র্যান্ডিং ও বিপণনে কর্মশালা উদ্যোক্তাদের দক্ষতা উন্নয়ন ও বাজার সম্প্রসারণে গুরুত্বারোপ
পঞ্চগড়ে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী ও সম্ভাবনাময় পণ্যের ব্র্যান্ডিং, বাজারজাতকরণ এবং ডিজিটাল প্রচারণা জোরদার করার লক্ষ্যে শিল্প ব্যক্তিদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয়েছে দিনব্যাপী কর্মশালা। “অ্যাসেট” প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত এ কর্মশালায় উদ্যোক্তাদের পণ্যের গুণগত মান উন্নয়ন, আকর্ষণীয় উপস্থাপন এবং আধুনিক বিপণন কৌশল নিয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
শনিবার (২৩ মে) পঞ্চগড় সদর উপজেলার তালমা এলাকার হিমালয় বিনোদন পার্কের হলরুমে পঞ্চগড় সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের আয়োজনে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলার বিভিন্ন এলাকার ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, শিল্প ব্যক্তি, ব্যবসায়ী ও তরুণ উদ্যোক্তারা অংশ নেন।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফাহমিদা সুলতানা। তিনি বলেন, বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকতে হলে স্থানীয় পণ্যকে আধুনিকভাবে উপস্থাপন করতে হবে। শুধু পণ্য উৎপাদন করলেই হবে না, সেটিকে কীভাবে মানুষের কাছে পৌঁছানো যায় এবং ক্রেতার আস্থা অর্জন করা যায় সেই বিষয়েও উদ্যোক্তাদের দক্ষ হতে হবে। তিনি স্থানীয় উদ্যোক্তাদের প্রযুক্তিনির্ভর বিপণনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
পঞ্চগড় সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল মতিন ডালির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন চেম্বার অব কমার্সের সহ-সভাপতি আব্দুস সামাদ পুলক। তিনি বলেন, পঞ্চগড়ের বিভিন্ন স্থানীয় পণ্য দেশের বাজার ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক বাজারেও সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। এজন্য প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা, মান নিয়ন্ত্রণ এবং কার্যকর ব্র্যান্ডিং।
কর্মশালায় আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রিপন কুমার প্রাসাদ, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি পঞ্চগড়ের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মাজহারুল ইসলাম, পঞ্চগড় সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের চিফ ইন্সট্রাক্টর (ইলেকট্রিক্যাল) গৌরাঙ্গ নাথ রায় এবং সেন্ট্রাল প্লাজার স্বত্বাধিকারী মেহেদী হাসান খান বাবলা।
বক্তারা বলেন, স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী পণ্যকে বৃহত্তর বাজারে পরিচিত করতে হলে পণ্যের গুণগত মান নিশ্চিত করার পাশাপাশি আকর্ষণীয় প্যাকেজিং, সঠিক মূল্য নির্ধারণ এবং আধুনিক বিপণন কৌশল অনুসরণ করতে হবে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারাও এখন সহজেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাদের পণ্য পৌঁছে দিতে পারছেন।
তারা আরও বলেন, তরুণ উদ্যোক্তাদের এগিয়ে নিতে প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত সহায়তা ও বাজারসংযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ সমন্বিতভাবে কাজ করলে স্থানীয় পণ্য ঘিরে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হবে।
কর্মশালায় অংশ নেওয়া উদ্যোক্তারা জানান, এ ধরনের আয়োজন তাদের জন্য অত্যন্ত কার্যকর। এতে তারা পণ্য বাজারজাতকরণ, ক্রেতা আকর্ষণ এবং ব্যবসা সম্প্রসারণ বিষয়ে বাস্তব অভিজ্ঞতা ও পরামর্শ পেয়েছেন।
এ সময় শতাধিক শিল্প ব্যক্তি ও উদ্যোক্তা কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন। পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত বিভিন্ন পণ্যের স্টল প্রদর্শন করা হয়, যা উপস্থিত অতিথি ও অংশগ্রহণকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
সাম্প্রতিক মন্তব্য
কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য লিখুন