কয়েকশ’ বিঘা জমির জলাবদ্ধতা নিরসনে উদ্যোগ, প্রশংসায় বিএনপি নেতা আব্দুর রাজ্জাক
পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাফিজাবাদ ইউনিয়নের বসুনিয়াপাড়া এলাকায় একটি কালভার্টের মুখ বন্ধ করে ঘর নির্মাণের কারণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা নিরসনে উদ্যোগ নিয়ে স্থানীয়দের প্রশংসায় ভাসছেন জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক ও হাফিজাবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক।
গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে কালভার্টের পানি চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বসুনিয়াপাড়া এলাকার কয়েকশ’ বিঘা কৃষিজমি পানির নিচে তলিয়ে যায়। এতে আমন মৌসুমের প্রস্তুতি ও বিভিন্ন ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দেয়। শুধু কৃষিজমিই নয়, কালভার্টের পানি চলাচল বন্ধ থাকায় পাশের সড়ক ভেঙে গিয়ে দুর্ভোগে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীরা। বিশেষ করে বসুনিয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাতায়াতে চরম ভোগান্তির শিকার হয় কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।
স্থানীয়রা জানান, কালভার্টের মুখের ওপর ঘর নির্মাণ করায় পানি স্বাভাবিকভাবে প্রবাহিত হতে পারেনি। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো এলাকা জলাবদ্ধ হয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যা সমাধানে স্থানীয়ভাবে নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও কোনো সমাধান হয়নি।
বসুনিয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়, রাস্তা ভেঙে যাওয়ায় তাদের বিদ্যালয়ে যেতে অনেক কষ্ট করতে হচ্ছে। অনেক সময় কাদা ও পানির কারণে পড়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে। এতে অভিভাবকরাও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য রশিদুল ইসলাম বলেন, আমরা বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেছি যাতে ঘরটি সরিয়ে নেওয়া হয়। কিন্তু কোনোভাবেই সফল হতে পারিনি। পরে জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক ও হাফিজাবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক ঘটনাস্থলে এসে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন। তিনি মানবিকভাবে বুঝিয়ে বলার পর আনসারুল ইসলাম বাচ্চুও বিষয়টি বুঝতে পারেন এবং ঘর সরিয়ে নিতে রাজি হন।
ঘরের মালিক আনসারুল ইসলাম বাচ্চু বলেন, আমার তেমন কোনো জায়গা-জমি নেই। প্রায় পাঁচ শতক জমির ওপর বাড়ি তৈরি করে বসবাস করছি। কালভার্টের মুখের জায়গাটি আমার হওয়ায় আমি সেখানে ঘর তুলেছিলাম। পরে আব্দুর রাজ্জাক ভাই এসে আমাকে ভালোভাবে বুঝিয়েছেন। তিনি বলেছেন এখানে একটি ড্রেন করে দেওয়া হবে এবং মাটি ভরাট ও ঘর সরানোর খরচ বাবদ ৮০ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হবে। তার কথায় আমি রাজি হয়েছি এবং ঘর সরিয়ে নিচ্ছি।
বসুনিয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বলেন, আমি প্রায় ১৭ বছর ধরে এখানে চাকরি করছি। কালভার্ট বন্ধ থাকার কারণে বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়ার রাস্তাটি ভেঙে গেছে। এতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও কমে গেছে। এখন যেহেতু কালভার্টের মুখ খুলে দেওয়া হয়েছে, তাই দ্রুত রাস্তাটি সংস্কার করে শিক্ষার্থীদের চলাচলের উপযোগী করার দাবি জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক ও হাফিজাবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, স্থানীয় লোকজন আমাকে ফোন করে বিষয়টি জানালে আমি ঘটনাস্থলে আসি এবং পুরো পরিস্থিতি আমাদের এমপি মহোদয় ব্যারিস্টার মুহম্মদ নওশাদ জমিরকে অবহিত করি। তার পরামর্শে আমরা আনসারুল ইসলাম বাচ্চুর সঙ্গে কথা বলি। তিনি এখানে একটি ড্রেন নির্মাণ ও মাটি ভরাটের জন্য ৮০ হাজার টাকা দাবি করেন। আমরা সেটি দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছি। মূল লক্ষ্য হচ্ছে এলাকার মানুষের দুর্ভোগ কমানো এবং কৃষিজমি ও শিক্ষার্থীদের চলাচল স্বাভাবিক রাখা।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধানে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ায় এলাকায় স্বস্তি ফিরেছে। কালভার্টের মুখ খুলে দেওয়ায় পানি নামতে শুরু করেছে এবং কৃষকরা নতুন করে আশার আলো দেখছেন।
সাম্প্রতিক মন্তব্য
কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য লিখুন