নাব্যসংকটে তিন বছর ধরে বন্ধ ১৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বালাশী-বাহাদুরাবাদ ফেরিঘাট টার্মিনাল
গাইবান্ধার ফুলছড়ির বালাশী ঘাট ও জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জের বাহাদুরাবাদ ঘাট— ব্রহ্মপুত্র ও যমুনার দুই তীরের এ নৌপথ একসময় উত্তরবঙ্গ-ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ রুট ছিল। ব্রিটিশ আমলে চালু হওয়া রেলওয়ে ফেরি সার্ভিস দীর্ঘদিন মানুষের যাতায়াত ও কৃষিপণ্য পরিবহনে ভরসা জুগিয়েছে। কিন্তু ২০০০ সালে যমুনা বহুমুখী সেতু চালুর পর ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
বিকল্প যোগাযোগ রুট চালুর দাবিতে ২০১৭ সালে একনেক সভায় অনুমোদন পায় বালাশী-বাহাদুরাবাদ ফেরিঘাট টার্মিনাল প্রকল্প। বাজেট ধরা হয় প্রথমে ১২৪ কোটি টাকা, পরে বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ১৪৫ কোটি। ফেরিঘাটে টার্মিনাল ভবন, টোল বুথ, আনসার ব্যারাক, ফায়ার স্টেশন, খাদ্যগুদামসহ নানা অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়। নদী খননেও ব্যয় হয় প্রায় ২৪ কোটি টাকা।
২০২২ সালে প্রকল্প উদ্বোধনের সময় লঞ্চ সার্ভিস চালু করা হলেও কিছুদিনের মধ্যেই নাব্যসংকটে তা বন্ধ হয়ে যায়। ফেরি কখনোই আনা হয়নি। বর্তমানে বিশাল টার্মিনাল ভবন, টোল বুথ, আনসার ব্যারাক সবই পড়ে আছে অচল ও নির্জন অবস্থায়।
স্থানীয়রা বলছেন, কোটি কোটি টাকা খরচ হলেও মূল উদ্দেশ্য—উত্তরাঞ্চলের কৃষিপণ্য দ্রুত রাজধানীতে পৌঁছানো ও যাতায়াত সহজ করা—বাস্তবায়িত হয়নি। গাইবান্ধা প্রেসক্লাব সভাপতি অমিতাভ দাশ বলেন, “সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ছাড়া প্রকল্প হাতে নেওয়া পরিকল্পনার ব্যর্থতা। এ ধরনের অপচয় মানুষের আস্থা নষ্ট করছে।”
সম্প্রতি বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যান কমোডর আরিফ আহমেদ মোস্তফা পরিদর্শনে এসে জানান, নদীর নাব্যসংকটের কারণে ফেরি বা লঞ্চ চালানো সম্ভব নয়। তাই বালাশী টার্মিনাল ইকোপার্ক ও হাইড্রোলজি অফিস এবং বাহাদুরাবাদ টার্মিনাল প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে সরকার।
তবে নাগরিক সংগঠনগুলোর দাবি, কেবল বিকল্প ব্যবহার খোঁজা নয়, দায়ী কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা জরুরি। জনগণের করের ১৪৫ কোটি টাকা ব্যয় হয়েও যখন ফেরি একদিনও চালু হলো না, তখন এটি রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনা ও জবাবদিহি সংকটের প্রতিচ্ছবি।
সাম্প্রতিক মন্তব্য
কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য লিখুন