আধুনিকায়নের মাধ্যমে রংপুর চিনিকল পুনরায় চালুর আশ্বাস দিলেও ১০ মসেও নেই কার্যক্রম
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মহিমাগঞ্জে অবস্থিত দেশের একমাত্র কৃষিভিত্তিক ভারীশিল্প কারখানা রংপুর চিনিকল। এ চিনিকলের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে লাখো মানুষের জীবন-জীবিকা।
২০২০ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্যশিল্প সংস্থার নিয়ন্ত্রণাধীন ১৫টি চিনিকলের মধ্যে ৬টিতে মাড়াই কার্যক্রম বন্ধ করে সরকার। এর মধ্যে অন্যতম ছিল রাষ্ট্রায়ত্ত রংপুর চিনিকল। সে সময় আধুনিকায়নের মাধ্যমে পুনরায় চালুর আশ্বাস দিলেও প্রায় চার বছর পেরিয়ে গেলেও কার্যক্রম শুরু হয়নি।
গত বছরের ডিসেম্বরে অন্তবর্তী সরকারের পক্ষ থেকে বন্ধ ছয়টি চিনিকল পুনরায় চালুর ঘোষণা দেওয়া হলে এলাকায় খুশির জোয়ার বইলেও ১০ মাস পেরিয়ে গেলেও বাস্তবায়ন না হওয়ায় আবারও হতাশ হয়ে পড়েছেন আখচাষী ও শ্রমিকরা।
স্থানীয় আখচাষী ও শ্রমিকরা অভিযোগ করেন, ২০২০ সালের শেষ মুহূর্তে মাড়াই কার্যক্রম হঠাৎ স্থগিত করায় তারা ক্ষতিগ্রস্ত হন। হাজার হাজার শ্রমিক ও চাষীর আন্দোলন-আকুতিও উপেক্ষা করা হয়। তখন জানানো হয়েছিল, দ্রুত আধুনিকায়নের মাধ্যমে পুনরায় চালু করা হবে। কিন্তু প্রায় এক হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী ও অর্ধসহস্রাধিক চুক্তিভিত্তিক শ্রমিক চাকরি হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অনেকেই এখন রিকশা-ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন।
আখচাষীরাও বিক্ষুব্ধ। তারা জানান, পার্শ্ববর্তী চালু থাকা চিনিকলের তুলনায় রংপুর চিনিকলের মাড়াই সক্ষমতা বেশি ছিল এবং এলাকায় আখ উৎপাদনও বিপুল। অথচ রহস্যজনকভাবে এটিকে বন্ধ রাখা হয়েছে।
রংপুর চিনিকলের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. হাবিবুর রহমান জানান, “সরকারি সিদ্ধান্তে মাড়াই বন্ধ হওয়া এ চিনিকলের বিপুল সম্পদ রক্ষা করা হচ্ছে। পাশাপাশি জয়পুরহাট চিনিকলের সাবজোনের কর্মকাণ্ডে সার্বিক সহযোগিতা করা হচ্ছে। তবে এলাকায় আখের সহজলভ্যতা থাকায় আধুনিকায়নের মাধ্যমে পুনরায় চালু করা গেলে এটি লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হতে পারে।”
সাম্প্রতিক মন্তব্য
কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য লিখুন