নদী থেকে ২২ ঘণ্টা পর উদ্ধার হলো ইউনুসের মরদেহ
মাছের আশায় জালে হাত বাড়িয়েছিলেন ইউনুস আলী (৪৫)। কিন্তু কে জানত, সেই জালের সুতোই জড়িয়ে যাবে তাঁর জীবনের শেষ নিঃশ্বাস। গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে নলেয়া নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজের প্রায় ২২ ঘণ্টা পর অবশেষে মিলল তাঁর নিথর দেহ।
আজ শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার ইদিলপুর ইউনিয়নের রঘুনাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়-সংলগ্ন মরাঘাটি এলাকার নদী থেকে রংপুর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল তাঁর মরদেহ উদ্ধার করেন। নিহত ইউনুস আলী খোর্দ্দকোমরপুর ইউনিয়নের তরফজাহান গ্রামের বাসিন্দা।
যে নদী একসময় জীবন আর জীবিকার চঞ্চলতা জুগিয়েছে, সেই নলেয়াই আজ ইউনুস আলীর জীবনের শেষ ঠিকানায় পরিণত হলো। দীর্ঘ ২২টি ঘণ্টা—একটি পরিবারের জন্য যা ছিল অনন্তকালসম। নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে থাকা স্বজনদের চোখ তখনো পথ চেয়েছিল, যদি অলৌকিক কিছু ঘটে! যদি ইউনুস তাঁর চিরচেনা হাসিমুখে ফিরে আসেন কোলজুড়ে বসা আপনজনদের কাছে।
কিন্তু না, প্রকৃতির নিষ্ঠুর খেলায় নদীর শীতল জল তাঁকে ফিরিয়ে দিল নিথর করে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা যখন তাঁর দেহটি জল থেকে ওপরে তুললেন, তখন আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে স্ত্রী-সন্তান ও স্বজনদের হৃদয়বিদারক আর্তনাদে। মাছ ধরার একটি সাধারণ সকাল কীভাবে একটি পরিবারের সারা জীবনের কান্না হয়ে ফিরল, তার সাক্ষী হয়ে রইল সাদুল্লাপুরের এই নদীটি।
মরদেহ উদ্ধারের পর নিহতের পরিবারে নেমে আসে শোকের স্তব্ধতা। আকস্মিক এই শোকের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্লাপুর-পলাশবাড়ী) আসনের সংসদ সদস্য আবুল কাওছার মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম লেবু মাওলানা। স্বজনদের পাশে বসে সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা হারিয়ে ফেলেন তিনিও। প্রকাশ করেন গভীর সমবেদনা।
সাদুল্লাপুর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) আবদুর রহমান জানান, সাদুল্লাপুর ফায়ার সার্ভিসে নিজস্ব কোনো ডুবুরি দল নেই। পানিতে নিখোঁজের ঘটনায় রংপুর বিভাগ থেকে ডুবুরি দল আনতে হয়। গাইবান্ধায় ডুবুরি দল না থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার অভিযান চালানো সম্ভব হয়নি। শুক্রবার সকালে রংপুর থেকে ডুবুরি দল এসে অভিযান চালিয়ে ইউনুস আলীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
সাম্প্রতিক মন্তব্য
কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য লিখুন