আজঃ সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬ -এ ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ - ৪ সফর ১৪৪৮
  • আজ রংপুরের আবহাওয়া
• পার্বতীপুরে মাদক কেনাবেচা ও সেবন বন্ধের দাবিতে ইউএনওকে স্মারকলিপি • ফুলবাড়ীতে অটোরিকশা ছিনতাই ও হত্যার ঘটনায় একজন আটক • নদীভাঙনের কবলে শিক্ষা, অনিশ্চয়তায় দুই হাজার শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ • নীলফামারীতে ৪ জন নিহতের ঘটনায় ট্রাকচালক গ্রেপ্তার • ভূরুঙ্গামারীতে পুলিশি অভিযানে ভারতীয় গরু ও সচল সিমসহ তিনজন গ্রেপ্তার • পার্বতীপুরে মাদক কেনাবেচা ও সেবন বন্ধের দাবিতে ইউএনওকে স্মারকলিপি • ফুলবাড়ীতে অটোরিকশা ছিনতাই ও হত্যার ঘটনায় একজন আটক • নদীভাঙনের কবলে শিক্ষা, অনিশ্চয়তায় দুই হাজার শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ • নীলফামারীতে ৪ জন নিহতের ঘটনায় ট্রাকচালক গ্রেপ্তার • ভূরুঙ্গামারীতে পুলিশি অভিযানে ভারতীয় গরু ও সচল সিমসহ তিনজন গ্রেপ্তার

নদীভাঙনের কবলে শিক্ষা, অনিশ্চয়তায় দুই হাজার শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ

Nuclear Fusion Closer to Becoming a Reality6

আনোয়ার হোসেন

আনোয়ার হোসেন , গাইবান্ধা সদর , গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ

আপডেটঃ 19 জুলাই, 2026

কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা জেলায় তিস্তা, ধরলা, ঝিঞ্জিরাম এবং ব্রহ্মপুত্র-যমুনার তীব্র ভাঙনে ১৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামো ও খেলার মাঠ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে চরাঞ্চলের প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থীর প্রাথমিক শিক্ষাজীবন থেকে ঝরে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি গত দুই মাসে নদীভাঙনের শিকার হয়ে দুই জেলার প্রায় ১০ হাজার পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়ে বিভিন্ন স্থানে মানবেতর জীবন যাপন করছে।

গাইবান্ধা জেলা ও উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, সাঘাটা উপজেলার গাড়ামারা সিপি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও গুয়াবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় যেকোনো মুহূর্তে নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। ফুলছড়ি উপজেলার চৌমোহন, আগারীদহ ও উত্তর খাটিয়ামারী—এই তিনটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ফলে এসব বিদ্যালয়ের চার শতাধিক শিক্ষার্থী পরিবারের সঙ্গে বিভিন্ন চরে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে।

এ ছাড়া গাইবান্ধা সদর উপজেলার মোল্লারচর ইউনিয়নের চিতুলিয়া দিঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি তীব্র ভাঙনের মুখে পড়ায় শিক্ষার্থীশূন্য হয়ে পড়েছে এবং পাঠদান প্রায় বন্ধের উপক্রম হয়েছে। সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের ভোরের পাখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টিও তিস্তার ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে।

এদিকে, কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলার ব্রহ্মপুত্র ও ঝিঞ্জিরাম নদীর ভাঙনে ফলুয়ারচর এবং চরখোদাইমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দুটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে পাশের চরে কোনোমতে অস্থায়ী ঘর তুলে বিদ্যালয় দুটির কার্যক্রম টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করা হলেও, ২৬০ জন শিক্ষার্থীর পড়ালেখা সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। অন্যদিকে, চররাজিবপুর উপজেলার মোহনগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টিও ভাঙনের মুখে থাকায় আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এটি স্থানান্তর করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান।

চিলমারী উপজেলার চুষমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মোনতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চিলমারী ১ নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বেল মান্দিয়ার খাতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং উলিপুর উপজেলার সাহেবের আলগা ও বুড়াবুড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ব্রহ্মপুত্রের ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে। অন্যদিকে, কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার কালির আলগা, আটাশির চর ও বালাডোবা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় তিন মাস আগে স্থানান্তর করা হলেও নতুন স্থানে তীব্র শিক্ষার্থী সংকটে পড়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গাইবান্ধার সাঘাটা, ফুলছড়ি, সদর ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ২০টি পয়েন্টে নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। গত দুই মাসে অন্তত ৭ হাজার পরিবার ভাঙনের শিকার হয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে। কুড়িগ্রামের রৌমারী, চররাজিবপুর, চিলমারী, উলিপুর, সদর, নাগেশ্বরী ও ভূরুঙ্গামারী উপজেলার ১৭টি পয়েন্টে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আরও ৩ হাজারের বেশি পরিবার। সব মিলিয়ে নদীভাঙনে গৃহহীন হওয়া এসব পরিবারের চরাঞ্চলের প্রায় ২ হাজার শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

 

মন্তব্য লিখুন

সাম্প্রতিক মন্তব্য

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

সম্পাদকের কলাম

সাইদুর রহমান
সাইদুর রহমান
সাইদুর রহমান
সাইদুর রহমান

মতামত ও কলাম

ড. মাহফুজ পারভেজ
অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
মামুন রশীদ
মো. নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া
ডঃ সাদিক আহমেদ বিপুল
image