বেশি লাভের আশায় ফুলবাড়ীতে আগাম শীতকালীন সবজি চাষ
শীতকালীন সবজি সাধারণত নভেম্বর থেকে জানুয়ারি মাসে বাজারে আসে। তবে সে সময় বাজারে সরবরাহ বেশি থাকায় কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পান না। এদিকে বর্ষার শেষে বাজারে সবজির ঘাটতি দেখা দেয়, চাহিদাও থাকে বেশি। তাই অধিক মুনাফার আশায় আগাম শীতকালীন সবজি চাষে ঝুঁকেছেন দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার কৃষকরা।
সরেজমিনে উপজেলার শিবনগর, আলাদীপুর, খয়েরবাড়ী, দৌলতপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, মাঠজুড়ে শিম, মুলা, ফুলকপি, গাজর, বাঁধাকপি, বেগুন, করলা, কাকরোল, লাউ, লালশাক, ধনিয়াপাতাসহ নানা প্রজাতির শীতকালীন সবজির আবাদ হয়েছে। ইতিমধ্যেই বাজারে উঠেছে কিছু আগাম শীতকালীন সবজি। আমদানি কম থাকায় দামও ভালো, ফলে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে।
শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে আলাদীপুর ইউনিয়নের ছোট ভিমলপুর গ্রামে কৃষক হামিদুল ইসলামকে ফুলকপির জমিতে স্প্রে করতে দেখা যায়। তিনি জানান, “৩৫ শতাংশ জমিতে আগাম জাতের কপি চাষ করেছি। ইতিমধ্যেই প্রায় ২২ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। সব মিলিয়ে ৩০ হাজার টাকার মতো খরচ হবে। ২০-২৫ দিনের মধ্যে বাজারে তুলতে পারব। গত বছর এই জমিতেই ২ লাখ ২০ হাজার টাকার কপি বিক্রি করেছিলাম, এবারও ভালো কিছু আশা করছি।”
একই গ্রামের কৃষক আলামিন হোসেন জানান, তিনি ৮০ শতাংশ জমিতে ফুলকপির চারা রোপণ করেছেন। তিনি বলেন, “যে কোনো সবজি মৌসুমের শুরুতে বাজারে তুলতে পারলে দাম ভালো পাওয়া যায়। ইতিমধ্যেই আগাম জাতের শিম, মুলা, লালশাক, পুঁইশাক, করলা, পালংশাক, বরবটি, টমেটো ও শসা বাজারে উঠতে শুরু করেছে। আমরা পর্যাপ্ত দাম পাচ্ছি।”
পৌর এলাকার উত্তর কৃষ্ণপুর গ্রামের কৃষক মশিউর বলেন, “৩০ শতাংশ জমিতে কপি আবাদ করেছি। ২৫ দিনের মধ্যে বাজারে তুলতে পারব। মৌসুমের শুরুতে সবজির দাম সবসময় বেশি থাকে, তাই ভালো লাভের আশা করছি।”
উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, চলতি মৌসুমে ফুলবাড়ীতে ১ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে সবজির আবাদ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে আগাম জাতের সবজির আবাদ হবে ৬৫০ হেক্টরে। এছাড়া এবার ১ হাজার ৮১০ হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ করা হবে।
উপজেলা ভারপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শাহানুর রহমান বলেন, “আগাম সবজি চাষ লাভজনক। মৌসুমের আগে বাজারে সবজি তুলতে পারলে কৃষকরা বেশি দাম পান। এখানকার সবজি স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলাতেও সরবরাহ করা হয়। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে আধুনিক পদ্ধতিতে সবজি চাষ ও রোগবালাই দমন বিষয়ে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।”
সাম্প্রতিক মন্তব্য
কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য লিখুন