আমতলী চা বাগান নিয়ে অপপ্রচারের অভিযোগ, সাবেক ব্যবস্থাপক কাজী মাসুদুর রহমানকে ঘিরে বিতর্ক
হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার আমতলী চা বাগানকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগ উঠেছে সাবেক ব্যবস্থাপক কাজী মাসুদুর রহমানের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি ২০১৪ সালের একটি লিখিত অঙ্গীকারনামা নতুন করে আলোচনায় এসেছে, যেখানে শ্রমিক ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ না করা এবং মানহানিকর কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার বিষয়ে তার প্রতিশ্রুতির তথ্য পাওয়া যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালের ২৫ আগস্ট আমতলী চা বাগানের তৎকালীন ব্যবস্থাপক কাজী মাসুদুর রহমান শ্রমিক প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্টদের কাছে একটি লিখিত অঙ্গীকারনামা প্রদান করেন। এতে তিনি ভবিষ্যতে শ্রমিক-কর্মচারীদের সঙ্গে অসদাচরণ না করা, মানহানিকর মন্তব্য থেকে বিরত থাকা এবং এ ধরনের অভিযোগ পুনরাবৃত্তি না হওয়ার আশ্বাস দেন।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, প্রশাসনিক অসহযোগিতা ও কর্মপরিবেশ নিয়ে নানা অভিযোগের প্রেক্ষিতে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ তার দায়িত্ব পুনর্বিন্যাস করে। পরবর্তীতে তাকে ম্যানেজার পদ থেকে সরিয়ে জেনারেল ম্যানেজার পদে দায়িত্ব দেওয়া হয় এবং পরে সহকারী ব্যবস্থাপক হিসেবেও কাজ করেন।
তবে এসব সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করে কাজী মাসুদুর রহমান ২০২০ সালে চাকরি থেকে পদত্যাগ করেন। পরবর্তীতে ব্যক্তিগত বিরোধ ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাগান সংশ্লিষ্ট নানা অভিযোগ উত্থাপন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে, আমতলী চা বাগানের বর্তমান ব্যবস্থাপক সোহেল রানা পাঠান বলেন, “আমতলী চা বাগান ঐতিহ্য ও সুনামের সঙ্গে উৎপাদন, শ্রমিক কল্যাণ এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো দুঃখজনক।”
তিনি আরও জানান, বাগানের উন্নয়ন, শ্রমিক কল্যাণ ও সার্বিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কর্তৃপক্ষ নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে এবং যেকোনো বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শ্রমিক প্রতিনিধিরাও বলেন, বাগানের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা, শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষা এবং উৎপাদন কার্যক্রম সচল রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, ব্যক্তিগত বিরোধ বা আইনি বিষয়কে কেন্দ্র করে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা না চালিয়ে তথ্যভিত্তিক আলোচনা ও আইনি প্রক্রিয়ার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা জরুরি।
সাম্প্রতিক মন্তব্য
কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য লিখুন