আজঃ বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ -এ ২২ মাঘ ১৪৩২ - ২৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৭
  • আজ রংপুরের আবহাওয়া
• সমাজ বিনষ্টকারীদের প্রতিরোধে প্রশাসনের আগে নাগরিকদের এগিয়ে আসতে হবে : আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার চেয়ারম্যান • নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে গাইবান্ধায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ • কাউনিয়ায় পে-স্কেলের দাবীতে বিক্ষোভ কর্মসূচী • পঞ্চগড়ে বায়ু ও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে যৌথ অভিযান : মোবাইল কোর্টে জরিমানা, হাইড্রোলিক হর্ণ জব্দ • আগামীর বাংলাদেশ হবে বিএনপি’র বাংলাদেশ, তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হয়ে ইতিহাস গড়বেন : নওশাদ জমির • সমাজ বিনষ্টকারীদের প্রতিরোধে প্রশাসনের আগে নাগরিকদের এগিয়ে আসতে হবে : আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার চেয়ারম্যান • নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে গাইবান্ধায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ • কাউনিয়ায় পে-স্কেলের দাবীতে বিক্ষোভ কর্মসূচী • পঞ্চগড়ে বায়ু ও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে যৌথ অভিযান : মোবাইল কোর্টে জরিমানা, হাইড্রোলিক হর্ণ জব্দ • আগামীর বাংলাদেশ হবে বিএনপি’র বাংলাদেশ, তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হয়ে ইতিহাস গড়বেন : নওশাদ জমির

বোদায় ভিডাব্লিউবি কার্ড বণ্টনে অনিয়মের অভিযোগ, প্রশ্নবিদ্ধ সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি

Nuclear Fusion Closer to Becoming a Reality6

ইকবাল বাহার

ইকবাল বাহার , পঞ্চগড় সদর , পঞ্চগড় প্রতিনিধিঃ

আপডেটঃ 15 সেপ্টেম্বর, 2025

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার চন্দনবাড়ী ইউনিয়নে সরকারি ভিডাব্লিউবি (ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট) কার্ডের চাল বণ্টনে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ—তারা প্রকৃত দরিদ্র ও অসহায় নারীদের বাদ দিয়ে বিত্তশালী পরিবারের হাতে এসব কার্ড তুলে দিচ্ছেন। প্রতিটি কার্ডের বিনিময়ে নেওয়া হচ্ছে ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা ঘুষ।

সরেজমিনে দেখা যায়, সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর অংশ হিসেবে হতদরিদ্র নারীদের জন্য দেওয়া হয় ভিডাব্লিউবি কার্ড। প্রতিটি কার্ডধারী নারী নির্দিষ্ট সময়ের জন্য প্রতি মাসে ৩০ কেজি চাল পাওয়ার কথা। কিন্তু প্রকৃত অসহায় নারীরা এসব সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বিপরীতে স্বচ্ছল পরিবার ও আর্থিকভাবে সক্ষম ব্যক্তিরা জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে লেনদেন করে সুবিধাভোগী হয়েছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ইউনিয়নের কিছু জনপ্রতিনিধি ও প্রভাবশালী ব্যক্তি মিলে একটি চক্র গড়ে তুলেছে। তারা নিজেদের আত্মীয়-স্বজন কিংবা সামর্থ্যবানদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে ভিডাব্লিউবি কার্ড করে দিচ্ছেন। ফলে প্রকৃত সুবিধাভোগীরা বঞ্চিত হয়ে অসহায় অবস্থায় পড়েছেন।

অভিযোগকারীরা জানান, শুধু স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাই নন—তালিকা অনুমোদনকারী কর্মকর্তারাও দায় এড়াতে পারেন না। এর আগে একাধিকবার অভিযোগ দেওয়া হলেও সঠিকভাবে তদন্ত হয়নি। বরং প্রশ্ন উঠেছে—বিনিময়ে কীসের ভিত্তিতে তালিকা অনুমোদন দেওয়া হলো।

তালিকা অনুমোদন করেছেন—তৌইবুর রহমান, সভাপতি, ইউনিয়ন ভিডাব্লিউবি কমিটি; আওলাদ হোসেন, সদস্য সচিব; রবিউল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, বোদা এবং এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা, বোদা। স্থানীয়দের দাবি, প্রত্যেকের ভূমিকা তদন্তসাপেক্ষে পরিষ্কার হওয়া জরুরি।

ভুক্তভোগীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন—

একজন প্রতিবন্ধী ভ্যানচালক: “আমি সারাদিন ভ্যান চালিয়ে সংসার চালাতেই কষ্ট হয়। অথচ আমার নামে কোনো কার্ড আসেনি। পাশের বাড়ির ধনী মানুষ টাকা দিয়ে কার্ড নিয়েছে। এটা অবিচার।”

একজন অসহায় গৃহবধূ: “আমার স্বামী অসুস্থ, সংসারে পাঁচজন মানুষ। তারপরও আমাকে তালিকায় রাখা হয়নি। চেয়ারম্যানের লোকজন টাকা ছাড়া কার্ড দেয় না।”

একজন প্রবীণ নারী: “আমরা ভোট দিই, নেতা বানাই—কিন্তু আমাদের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করে সেই নেতারাই। কার্ড করতে নাকি সাত হাজার টাকা লাগে—গরীব মানুষ কোথায় পাবে এত টাকা?” 

চন্দনবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান তৌইবুর রহমান বলেন, “তালিকা প্রকাশের পর কিছু অভিযোগ পেয়েছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। তারা বলেছেন, এগুলো নোট করে রাখতে এবং পরে সংশোধন করা হবে।”

এ বিষয়ে জেলা মহিলা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান সম্রাট-এর সঙ্গে ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। অফিসে গিয়ে সাংবাদিকরা বক্তব্য চাইলে তিনি কথা বলতে অস্বীকার করেন এবং তথ্য অধিকারে আবেদন করতে বলেন।

উল্লেখ্য, ভিডাব্লিউবি কার্ডের মাধ্যমে গ্রামীণ অসহায় নারীরা সরকারি সহায়তায় কিছুটা স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পেয়ে থাকেন। তবে অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে এ প্রকল্প প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ছে। স্থানীয়দের দাবি—সঠিক তদন্ত হলে অনিয়মের অসংখ্য প্রমাণ মিলবে।

মন্তব্য লিখুন

সাম্প্রতিক মন্তব্য

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

সম্পাদকের কলাম

আমাদের ৯০-এর শৈশব: যে সময় আর ফিরে আসবে না
এ যেন নদী নয়, অনিশ্চয়তার আর্তনাদ।
মানুষ অভাগা জন্মায় না; তাকে অভাগা বানিয়ে রাখার জন্য সমাজ, রাষ্ট্র ও বাস্তবতার সমন্বিত অনীহাই যথেষ্ট।
আমরা এই মহামূল্যবান পৃথিবীর যোগ্য সন্তান হতে চেয়েছি।