মূল কনটেন্টে যান
আজঃ বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ -এ ২ আশ্বিন ১৪৩৩ - ৪ রবিউস সানি ১৪৪৮

পঞ্চগড় সদরে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম পর্যালোচনা ও করণীয় নিয়ে ত্রৈমাসিক সমন্বয় সভা

পঞ্চগড় সদরে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম পর্যালোচনা ও করণীয় নিয়ে ত্রৈমাসিক সমন্বয় সভা

ইকবাল বাহার

ইকবাল বাহার , পঞ্চগড় সদর , পঞ্চগড় প্রতিনিধিঃ

প্রকাশিতঃ ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩৪ দুপুর আপডেটঃ ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:০০ সকাল

সংক্ষেপে

পঞ্চগড় সদরের ১০ ইউনিয়নে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম পর্যালোচনা; তিন মাসে ১০৮ মামলার মধ্যে ১০২টি নিষ্পত্তি, ছয়টি অপেক্ষমাণ রয়েছে।

  • উপজেলা: পঞ্চগড় সদর
  • জেলা: পঞ্চগড়
  • বিভাগ: রংপুর

পঞ্চগড় সদর উপজেলায় গ্রাম আদালতের কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ চিহ্নিতকরণ এবং কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে করণীয় নির্ধারণে ত্রৈমাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) পঞ্চগড় সদর উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা প্রশাসন, পঞ্চগড় সদর এবং ‘বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (৩য় পর্যায়)’ প্রকল্পের আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বিজ্ঞাপন

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পঞ্চগড় সদর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোছাঃ লায়লা আরজুমান। অনুষ্ঠানে সদর উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন পরিষদের হিসাব সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটরসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। সভাটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা সমন্বয়কারী মো. মিজানুর রহমান।

সভায় সভাপতির স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু হয়। পরে বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ-৩য় পর্যায় প্রকল্পের আওতায় ইউনিয়ন পর্যায়ে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম, মামলা পরিচালনা, নথি ব্যবস্থাপনা, মামলা নিষ্পত্তি এবং নিয়মিত প্রতিবেদন প্রেরণসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

সভায় ইউনিয়ন পর্যায়ে গ্রাম আদালত পরিচালনার ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি চ্যালেঞ্জ তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে যথাসময়ে মামলা পরিচালনা না করা, হিসাব সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটরদের নিজস্ব কার্যবিবরণের বাইরে ইউনিয়ন পরিষদের অন্যান্য কাজে যুক্ত থাকায় গ্রাম আদালতের কাজে পর্যাপ্ত সময় না পাওয়া, অফিস সময়ের পর চেয়ারম্যানদের মামলা পরিচালনা করা এবং গ্রাম আদালতের বিচারিক সেবা সম্পর্কে সাধারণ মানুষের পর্যাপ্ত ধারণা না থাকা উল্লেখযোগ্য।

এ ছাড়া গ্রাম আদালতের এখতিয়ারভুক্ত মামলা কম আসার বিষয়টিও সভায় আলোচনায় উঠে আসে।

চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গ্রাম আদালত গঠন ও মামলা পরিচালনা নিশ্চিত করতে হবে। ইউনিয়ন পরিষদের অন্যান্য কাজের পাশাপাশি হিসাব সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটরদের গ্রাম আদালতের পেশকার হিসেবে দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন এবং মামলার নথি ব্যবস্থাপনা করতে হবে।

চেয়ারম্যানদের অফিস সময়ের মধ্যে গ্রাম আদালতের মামলা পরিচালনায় উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি প্রতিটি সভায়, বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায়, গ্রাম আদালতের কার্যক্রমের বিষয়গুলো উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সভায় মামলার স্লিপ ও সমন যথাসময়ে প্রেরণ, মামলার রেজিস্টার, পত্রপ্রদান রেজিস্টার, ফি রেজিস্টার এবং ডিক্রি ও জরিমানার রেজিস্টার নিয়মিত হালনাগাদ রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি নির্ধারিত ফরম্যাটে উপজেলা ও উপজেলা গ্রাম আদালত সমন্বয়কারীর কাছে মাসিক ও ত্রৈমাসিক প্রতিবেদন যথাসময়ে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে থাকা ইউনিয়নগুলোর কার্যক্রম নিয়েও আলোচনা হয়। এসব ইউনিয়নে চেয়ারম্যানদের নিয়মিত ইউনিয়ন পরিষদে উপস্থিতি ও অফিস সময়ে গ্রাম আদালত পরিচালনা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এ ছাড়া ইউনিয়ন পর্যায়ে মামলা নিষ্পত্তির পর ভিডিও ডকুমেন্টেশন তৈরির কার্যক্রম মনিটরিং ও ফলোআপ করার বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সভায় উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, পঞ্চগড় সদর উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে জুন ২০২৬ থেকে আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত গ্রাম আদালতে মোট ১০৮টি মামলা ছিল। এর মধ্যে পূর্বের অপেক্ষমাণ মামলা ছিল ১৪টি এবং নতুন করে দায়ের করা হয়েছে ৯৪টি মামলা।

এই সময়ে মোট ১০২টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। বর্তমানে অপেক্ষমাণ রয়েছে ৬টি মামলা।

সভায় গ্রাম আদালতের কার্যক্রম আরও গতিশীল করা, সাধারণ মানুষের মধ্যে এ আদালতের বিচারিক সেবা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং এখতিয়ারভুক্ত মামলা যথাযথভাবে গ্রহণ ও দ্রুত নিষ্পত্তির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

মন্তব্য লিখুন

সাম্প্রতিক মন্তব্য

এখনও কোনো মন্তব্য নেই।