পঞ্চগড়ে যখন-তখন অনুপস্থিত সোনাহার উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক!
সংক্ষেপে
দেবীগঞ্জে বিদ্যালয়ে অনিয়মিত উপস্থিতির অভিযোগ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে; ছুটির অনুমোদন না নেওয়ার বিষয়টি চাকরিবিধি পরিপন্থী বলছেন শিক্ষা কর্মকর্তা।
- উপজেলা: দেবীগঞ্জ
- জেলা: পঞ্চগড়
- বিভাগ: রংপুর
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে নিজ মর্জিমাফিক বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া ও ছুটি কাটানোর অভিযোগ উঠেছে সোনাহার উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে তিনি অনেক সময় বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকেন। রোববারও বিদ্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন না তিনি। ওইদিন হাজিরা খাতায়ও তার স্বাক্ষর পাওয়া যায়নি।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে সরেজমিন সোনাহার উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রধান শিক্ষকের কার্যালয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। এ সময় শিক্ষক কমন রুমে থাকা সহকারী শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ে আসেননি। তবে কী কারণে তিনি অনুপস্থিত রয়েছেন, সে বিষয়ে তারা কোনো তথ্য দিতে পারেননি।
এ সময় হাজিরা খাতা দেখে রোববারের তারিখে প্রধান শিক্ষকের স্বাক্ষর পাওয়া যায়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন সহকারী শিক্ষক বলেন, প্রধান শিক্ষক হুটহাট বিদ্যালয়ে আসেন না। অনেক সময় দাপ্তরিক কিংবা ব্যক্তিগত কাজে বিদ্যালয়ের বাইরে থাকেন বলে জানান। আমরা শুধু অনুপস্থিতির বিষয়টি জানতে পারি, কি কারণে অনুপস্থিত সে বিষয়ে জানতে পারি না।
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এমপিওভুক্ত বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীদের ছুটি গ্রহণের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়ম রয়েছে। সাধার শিক্ষক ও কর্মচারীদের ছুটি প্রধান শিক্ষক মঞ্জুর করলেও প্রধান শিক্ষকের নিজের ছুটির বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের আওতায় পড়ে। সোনাহার উচ্চ বিদ্যালয়ে বর্তমানে কোনো ম্যানেজিং কমিটি না থাকায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দায়িত্বে রয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইন্দ্রজীৎ সাহা বলেন, “প্রধান শিক্ষক ছুটির ব্যাপারে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেননি।”
অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম বলেন, “এখন তো কমিটি নেই। ইউএনও স্যারকে ফোন করলে উনি ধরেনও না। প্রধান শিক্ষকরা জরুরী প্রয়োজন পড়লে ছুটিতে থাকতে পারেন। এটা পরেও সভাপতি বা ইউএনও স্যারকে জানানো যায়।”
তবে প্রধান শিক্ষকের বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, “এটা চাকরি বিধি পরিপন্থী। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে যখন-তখন হুটহাট করে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকার কোনো সুযোগ নেই। স্টেশন লিভ করলে সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করেই তা করতে হবে জানান এই কর্মকর্তা।
সাম্প্রতিক মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই।

মন্তব্য লিখুন