মূল কনটেন্টে যান
আজঃ শুক্রবার, ০২ অক্টোবর, ২০২৬ -এ ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ - ১৯ রবিউস সানি ১৪৪৮

কারণ দর্শানোর কারণ নোটিশ ছাড়াই শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত, ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা

কারণ দর্শানোর কারণ নোটিশ ছাড়াই শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত, ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা

আল মাহমুদ দোলন , বোদা , পঞ্চগড় প্রতিনিধিঃ

প্রকাশিতঃ ১ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৫৫ সকাল আপডেটঃ ১ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:২৫ রাত

সংক্ষেপে

বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মোজাফফিজুর রহমান চৌধুরীর স্বাক্ষরিত ২৮ সেপ্টেম্বরের চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ১৬ জন শিক্ষকের মধ্যে ১৩ জন শিক্ষক কবি রানী সাহার বিরুদ্ধে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতির কাছে লিখিত অভিযোগ করেন

  • উপজেলা: দেবীগঞ্জ
  • জেলা: পঞ্চগড়
  • বিভাগ: রংপুর

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ কেজি স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী শিক্ষক কবি রানী সাহাকে সাময়িক বরখাস্তের ঘটনায় ক্ষোভ দেখা দিয়েছে অভিভাবকদের মধ্যে। যিনি কবিতা নামেই অধিক পরিচিত। অভিযোগ, কোনো ধরনের শোকজ বা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার এবং অধ্যক্ষের অপসারণ দাবি করে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতির কাছে লিখিত আবেদন করেছেন একদল অভিভাবক।


বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মোজাফফিজুর রহমান চৌধুরীর স্বাক্ষরিত ২৮ সেপ্টেম্বরের চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ১৬ জন শিক্ষকের মধ্যে ১৩ জন শিক্ষক কবি রানী সাহার বিরুদ্ধে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতির কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। পরে ২৮ সেপ্টেম্বরের পরিচালনা কমিটির সভার ৪ নম্বর আলোচ্যসূচিতে বিষয়টি বিস্তারিত আলোচনা করে সর্বসম্মতিক্রমে তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। চিঠিতে বলা হয়, ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।

বিজ্ঞাপন


তবে ওই চিঠিতে কবি রানী সাহাকে শোকজ করা বা তার বক্তব্য নেওয়ার কোনো উল্লেখ নেই।


সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী তফাজ্জল চিঠিটি কবি রানী সাহার বাসায় পৌঁছে দেন। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বরখাস্তের চিঠি বিদ্যালয়ের নোটিশ বোর্ডে টাঙানো হলে বিষয়টি জানাজানি হয়। এরপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন অনেক অভিভাবক। এই সময় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আব্দুল গণি বসুনিয়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে বিষয়টি নিয়ে আগামী শনিবার মিটিং ডেকেছনে বলে জানান তিনি।


অভিভাবকদের দেওয়া লিখিত অভিযোগে বলা হয়, কবি রানী সাহা ২০ বছরের বেশি সময় ধরে বিদ্যালয়টিতে শিক্ষকতা করছেন। এতদিন তার বিরুদ্ধে কোনো অভিভাবকের পক্ষ থেকে অভিযোগ ওঠেনি। যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে দাবি করে তারা ওই আদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানান। একই সঙ্গে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটিকে পাশ কাটিয়ে অধ্যক্ষ এককভাবে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অভিযোগ করে তার অপসারণও দাবি করা হয়।


অভিভাবকদের অভিযোগে আরও বলা হয়, সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করে কবি রানী সাহাকে পুনরায় কাজে যোগদানের সুযোগ দেওয়া এবং অধ্যক্ষের পদত্যাগের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।


বিদ্যালয়ের একটি সূত্র জানায়, গত শনিবারের অভিভাবক সমাবেশে অধ্যক্ষ প্রথম শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ক্লাস চালুর কথা জানান। তবে অধিকাংশ অভিভাবক এতে সম্মতি না দিয়ে মাসিক বেতন কিছুটা বাড়িয়ে নিয়মিত ক্লাসের সময় বাড়ানোর প্রস্তাব দেন।


সূত্রটির দাবি, কবি রানী সাহা নিজ বাসায় শিক্ষার্থীদের পড়ান। বিদ্যালয়ের আরও কয়েকজন শিক্ষকও প্রাইভেট পড়ান। তবে কবি রানী সাহার কাছে তুলনামূলক বেশি শিক্ষার্থী পড়ে। বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষকের ধারণা, বিশেষ ক্লাস চালু হলে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের বাইরে বিভিন্ন শিক্ষকের কাছে পড়ার প্রবণতা কমবে। আবার শিক্ষার্থীদের থেকে বিশেষ ক্লাস বাবদ আদায়কৃত ফি থেকে সকল শিক্ষক বাড়তি সম্মানী পাবেন।


কিন্তু বিশেষ ক্লাস চালু হলে প্রাইভেটে শিক্ষার্থী কমে যাবে ভেবে কবি রানী সাহা অভিভাবকদের সম্মতি না দেওয়ার জন্য বুঝিয়েছেন বলে শিক্ষকদের একটি অংশ মনে করেন। ধারণা করা হচ্ছে একারণে তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অভ্যন্তরীণ গ্রুপিং এর শিকার হয়েছেন বলে অনেকে জানিয়েছেন।


এদিকে, সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) পরিচালনা কমিটির সভায় কবি রানী সাহাকে নিয়ে আলোচনা হলেও তাকে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্তের বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি বলে নিশ্চিত করেছেন কমিটির সভাপতি আব্দুল গণি বসুনিয়া ও সদস্য রনজিৎ বর্মণ।


অভিভাবক নুসরাত জাহান জিশা বলেন, আমার ছেলে কবিতা ম্যাডামের কাছে প্রাইভেট পড়ে না। কিন্তু ক্লাসে উনি ভালো পড়ান, ছেলের মুখে শুনেছি। আজম নামে আরেক অভিভাবক বলেন, বিদ্যালয়ের পরিবেশ ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের হুটহাট সিদ্ধান্ত গ্রহণে আমরা বিব্রত। বিউটি নার্গিস নামে আরেক অভিভাবক বলেন, আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে একজন পুরনো শিক্ষককে এভাবে সাময়িক বরখাস্তের নোটিশ প্রদান মোটেও উচিত হয়নি। রাসেল প্রধান নামে অপর এক অভিভাবক বলেন, আমার সন্তানের কাছে স্কুলে কোন শিক্ষকের ক্লাস ভালো লাগে প্রশ্ন করলে যে ৩-৪ জনের নাম বলে তার মধ্যে কবিতা ম্যাডাম একজন।


এই বিষয় অধ্যক্ষ মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীকে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নি। 


এবিষয়ে মুঠোফোনে প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আব্দুল গণি বসুনিয়া বলেন, কবি রানী সাহা তিনি দীর্ঘদিন এপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করেন। শিক্ষকদের নিজেদের মধ্যে টানাপোড়েন চলছে এটা থাকবেনা। এবিষয়ে শনিবার বসে সবকিছুর সমাধান হবে আসা রাখি।

 

মন্তব্য লিখুন

সাম্প্রতিক মন্তব্য

এখনও কোনো মন্তব্য নেই।