মূল কনটেন্টে যান
আজঃ বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬ -এ ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ - ১৭ জুমাদাল উলা ১৪৪৮

বোদা ভূমি অফিসে ঘুষ ছাড়া মেলে না সেবা! কর্মচারীদের ঘুষ লেনদেনের ভিডিও ভাইরাল

বোদা ভূমি অফিসে ঘুষ ছাড়া মেলে না সেবা! কর্মচারীদের ঘুষ লেনদেনের ভিডিও ভাইরাল

আল মাহমুদ দোলন , বোদা , পঞ্চগড় প্রতিনিধিঃ

প্রকাশিতঃ ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৩১ দুপুর আপডেটঃ ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:১৮ রাত

সংক্ষেপে

যে কাগজপত্র বাতিল করেন বা যে ডিসিশন দেন, আমি সবকিছু দেখে শুধু এ বিষয়ে রিপোর্ট দিই। এর বাইরে আমি কিছু জানি না। আমার নাম বলে যদি কারও কাছ থেকে কেউ টাকা নেয়, তাহলে সেটা তার ব্যক্তিগত বিষয়।’

  • উপজেলা: বোদা
  • জেলা: পঞ্চগড়
  • বিভাগ: রংপুর

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলা ভূমি অফিসে ঘুষ ছাড়া কোনো ভূমিসেবা মিলছে না বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। নামজারিসহ (মিউটেশন) বিভিন্ন সেবা নিতে গিয়ে সরকারের নির্ধারিত ফির বাইরে সেবাপ্রার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এরই মধ্যে ভূমি অফিসের কয়েকজন কর্মচারীর ঘুষ লেনদেনের কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় স্থানীয় সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

​সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোতে বোদা উপজেলা ভূমি অফিসের ক্রেডিট চেকিং কাম সায়রাত সহকারী আল আমিন লাবু এবং অফিস সহায়ক হারুন অর-রশীদের বিরুদ্ধে সেবাপ্রার্থীদের কাছ থেকে প্রকাশ্যে টাকা নেওয়ার দৃশ্য দেখা গেছে। এ ছাড়া অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সার্ভেয়ার আবু সোয়েবের বিরুদ্ধেও ঘুষ গ্রহণের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগীরা। বর্তমানে তিনি দেবীগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার হিসেবে দায়িত্বরত আছেন।

​ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, জমির নামজারির ক্ষেত্রে জমির পরিমাণ ও দলিলের ধরন বিবেচনা করে ৫ হাজার টাকা বা তার চেয়েও বেশি ঘুষ দাবি করেন সার্ভেয়ার আবু সোয়েব। তবে এই টাকা তিনি নিজে সরাসরি না নিয়ে ক্রেডিট চেকিং কাম সায়রাত সহকারী আল আমিন লাবুর মাধ্যমে আদায় করেন। অন্যদিকে, নামজারির নানা ত্রুটি বা কারণ দেখিয়ে সেবাপ্রার্থীদের কাছ থেকে ৩ হাজার টাকা করে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে আল আমিন লাবুর বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, নামজারির শুনানির তারিখ নির্ধারণ ও সিরিয়াল পাইয়ে দেওয়ার নামে অফিস সহায়ক হারুন অর-রশীদ প্রতি প্রার্থীর কাছ থেকে ১ হাজার টাকা করে উৎকোচ নেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

​সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের ক্ষোভ, সরকারি নির্ধারিত ফি ব্যাংকে জমা দেওয়ার পরও বিভিন্ন অজুহাতে তাঁদের দ্বারে দ্বারে ঘোড়ানো হয় এবং অতিরিক্ত টাকা দাবি করা হয়। এতে সাধারণ মানুষ আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। অনেকেই বাধ্য হয়ে দালালের মাধ্যমে কিংবা সরাসরি অতিরিক্ত টাকা দিয়ে জরুরি সেবা নিচ্ছেন। এই অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে জড়িতদের নিরপেক্ষ তদন্তের আওতায় এনে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে ভূমি অফিসে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

​এ বিষয়ে অভিযুক্ত অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা বোদা উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার আবু সোয়েব তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি তো সেখানে সপ্তাহে দু-একদিন যাই। এসিল্যান্ড স্যার যে কাগজপত্র বাতিল করেন বা যে ডিসিশন দেন, আমি সবকিছু দেখে শুধু এ বিষয়ে রিপোর্ট দিই। এর বাইরে আমি কিছু জানি না। আমার নাম বলে যদি কারও কাছ থেকে কেউ টাকা নেয়, তাহলে সেটা তার ব্যক্তিগত বিষয়।’

​সার্বিক বিষয়ে বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রবিউল ইসলাম বলেন, ‘বোদা উপজেলা ভূমি অফিসের কয়েকজন কর্মচারীর অনিয়মের কিছু ভিডিও ও ছবি আমার নজরে এসেছে। এসব বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে যতটুকু বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন, তা অবশ্যই নেওয়া হবে।’

মন্তব্য লিখুন

সাম্প্রতিক মন্তব্য

এখনও কোনো মন্তব্য নেই।