নীলফামারীতে সামাজিক বৈষম্য দূর করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে মূলধারায় আনার আহ্বান
নীলফামারীতে 'মূলধারার সমাজে সর্বাধিক প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সামাজিক অন্তর্ভুক্তিতে করণীয় ও এগিয়ে যাওয়ার পথ শীর্ষক' মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১২ মে) বেলা ১১টায় জেলা পরিষদ হলরুমে ন্যাশনাল ইনডোমেন্ট ফর ডেমোক্রেসি, ল্যানকাসটার বিশ্ববিদ্যালয় ও রিসার্চ ইনিশিয়েটিভ বাংলাদেশের আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
নীলফামারী জাতীয় আরটিআই নাগরিক প্লাটফর্মের সদস্য আনোয়ারুল আলমের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র। বিশেষ অতিথি হিসেবে জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশিক্ষক সত্যেন্দ্র নাথ রায়, নীলফামারী কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্রশিক্ষক মশিউর রহমান, নীলফামারী প্রেসক্লাবের যুগ্ম সভাপতি হাসান রাব্বী প্রধান এবং দিনাজপুর আরটিআই নাগরিক প্লাটফর্মের সদস্য মো. সামিউল আলম বক্তব্য। এতে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন রিসার্চ ইনিশিয়েটিভ বাংলাদেশের সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার মো. মতিউর রহমান।
মতবিনিময় সভায় হরিজন, শীল, নরসুন্দর ও দলিত সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা তাদের বিভিন্ন সমস্যা ও বৈষম্যের চিত্র তুলে ধরেন। তারা জানান, এখনও সমাজে তারা যথাযথ সম্মান পান না। অনেক হোটেলে বসে খেতে দেওয়া হয় না, খাবারের জন্য আলাদা থালা-বাসন ব্যবহার করতে হয়। বিভিন্ন ক্ষেত্রে সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র বলেন, “প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষের প্রতি সামাজিক বৈষম্য দূর করতে জেলা প্রশাসন কাজ করছে। তাদের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সমাজের সকল স্তরের মানুষকে এ বিষয়ে সচেতন হয়ে এগিয়ে আসতে হবে।”
এসময় অন্যান্য অতিথিরা বলেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে সমাজের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন জরুরি। শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে তাদের মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান বক্তারা।
সভায় স্থানীয় সুশিল সমাজের প্রতিনিধি, সাংবাদিক, হোটেল মালিক সমিতির ব্যবসায়ীরা সহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
সাম্প্রতিক মন্তব্য
কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য লিখুন