চিলমারীতে সমবায় সমিতির বিরুদ্ধে ৪ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সহস্রাধিক ভুক্তভোগীর বিক্ষোভ
নিজেদের গচ্ছিত অর্থ ফেরত পেতে কুড়িগ্রামের চিলমারীতে বেসরকারি দারিদ্র্যমুক্ত বহুমুখী সমবায় সমিতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন সহস্রাধিক প্রতারিত সদস্য। শনিবার সকালে উপজেলার জোড়গাছ নতুন বাজারে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ২০০৭ সালে রেজিস্ট্রেশন পাওয়া এ সমিতি প্রথমে লোক দেখানো ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রম শুরু করে। পরে উচ্চ হারে লভ্যাংশের প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় ৩ হাজার গ্রাহকের কাছ থেকে ৩ থেকে ৪ কোটি টাকা সংগ্রহ করে সমিতির কর্তৃপক্ষ। একপর্যায়ে কার্যক্রম বন্ধ করে তারা টাকা ফেরত দিতে গড়িমসি শুরু করে।
ছকিনা বেগম নামের এক নারী জানান, ভিক্ষা ও দিনমজুরির টাকা থেকে সাড়ে ৬ লাখ টাকা জমা দিয়েছিলেন। দীর্ঘদিনেও টাকা ফেরত না পেয়ে তিনি পাগলপ্রায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। একইভাবে রিপন মিয়া (২ লাখ ৩০ হাজার টাকা), জয়ন্ত রায় (১ লাখ ২২ হাজার টাকা), সুফিয়া (১ লাখ ২৮ হাজার টাকা), জেলেখা বেওয়া (১ লাখ ৪৮ হাজার টাকা), কসভান বেওয়া (৬০ হাজার টাকা), মিম আক্তার (৩৬ হাজার ৫০০ টাকা)সহ প্রায় ৩ হাজার গ্রাহকের কোটি কোটি টাকা আটকে গেছে বলে জানান তারা।
সমবায় সমিতির সম্পাদক নুর আলম বলেন, “পরিচালক আনিসুর রহমান আনিস ও মিল্টন ১৭ জন কর্মচারীর কাগজপত্র জিম্মায় নেওয়ায় আমরা হিসাব দিতে পারছি না। তবে সম্প্রতি জমি বিক্রির মাধ্যমে প্রায় ৯৫ লাখ টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাকি গ্রাহকের টাকা ফেরত দেওয়ার মতো অর্থ এখন সমিতিতে নেই।”
পরিচালক আনিসুর রহমান আনিসের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।
সাম্প্রতিক মন্তব্য
কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য লিখুন