ভিডিও কলে কান্নার রোল, ওপারে চিরতরে স্তব্ধ পুলিশ সদস্যের প্রাণ
স্ক্রিনের ওপারে তখনো জ্বলজ্বল করছিল প্রিয়তমা স্ত্রীর মুখ। হয়তো চলছিল অভিমান, হয়তো বা কোনো না-বলা ক্ষোভের তীব্র ঝড়। কিন্তু সেই চলমান ভিডিও কলকে সাক্ষী রেখেই পৃথিবীর সব মায়া ত্যাগ করলেন পুলিশ সদস্য হাবিবুর রহমান (৩৩)।
বুধবার (২৬ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গাইবান্ধার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বি সার্কেল) শেখ মুত্তাজুল ইসলাম।
এদিন বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে গাইবান্ধা পুলিশ সুপারের বাসভবনের ব্যারাকে ঘটেছে এই বুকফাটা ঘটনা। স্ত্রীর চোখের সামনেই জীবনের শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন হাবিবুর রহমান নামের ওই তরুণ পুলিশ সদস্য।
নিহত হাবিবুর রহমান নীলফামারী সদর উপজেলার সরদারপাড়ার মন্টু মিয়ার ছেলে। তিনি ঢাকা থেকে এসে গত ১২ আগস্ট গাইবান্ধা পুলিশ সুপারের বাংলোয় গার্ড হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন। ঘরে রয়েছে তার এক ফুটফুটে ছোট ছেলে সন্তান। কিন্তু কোনো এক অজানা অভিমান বা পারিবারিক কলহের জেরে আজ বুধবার দুপুরে মোবাইল ফোনে স্ত্রীর সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলছিলেন হাবিবুর।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ভিডিও কলে কথা বলার একপর্যায়ে স্ত্রীর সঙ্গে তীব্র কথা-কাটাকাটি হয় হাবিবুরের। এরপর ক্ষোভে ও অভিমানে তিনি ব্যারাকের ওয়াশরুমে প্রবেশ করেন। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ওয়াশরুমের দরজা দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকায় সহকর্মীদের মনে সন্দেহের দানা বাঁধে। গার্ড কমান্ডার সোহেল মিয়া বারবার ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে গিয়ে তারা স্তব্ধ হয়ে যান। দেখা যায়, গামছা পেঁচানো অবস্থায় ভবনের রডের সঙ্গে ঝুলছে হাবিবুরের নিথর দেহ। ওপারে তখনো হয়তো ফোনে চলছিল কোনো এক বুকফাটা হাহাকার।
গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বি সার্কেল) শেখ মুত্তাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে একে পারিবারিক কলহজনিত আত্মহত্যা বলেই ধারণা করা হচ্ছে এবং ঘটনার সময় তিনি স্ত্রীর সাথে ভিডিও কলে যুক্ত ছিলেন। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। একটি পুলিশি জীবনের এমন করুণ ও আকস্মিক অবসান পুরো পুলিশ লাইনস ও তার পরিবারে শোকের ছায়া নামিয়ে এনেছে।
সাম্প্রতিক মন্তব্য
কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য লিখুন