সাঘাটায় আহত জামায়াত কর্মী সালাহউদ্দিনের মৃত্যু
গাইবান্ধার সাঘাটায় স্কুল কমিটির বিরোধ নিয়ে যুবদল নেতার নির্মম ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হওয়া জামায়াত কর্মী সালাউদ্দিন (২৭) টানা ৪৮ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে আজ শনিবার (৮ আগস্ট ২০২৬) ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বোনারপাড়ায় শোকের মাতম রেখে সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে চিরতরে না ফেরার দেশে চলে গেছেন (ইন্না লিল্লাহি...রাজিউন)। মরহুমের জানাজা নামাজ শনিবার বাদ মাগরিব সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বোনারপাড়া কাজী আজহার আলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হবে।
নিহত সালাউদ্দিন জামায়াতের যুব বিভাগের কর্মী ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী গাইবান্ধা সাঘাটা উপজেলার শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের নির্বাহী সদস্য মাওলানা শামসুল ইসলাম দুদুর ছোট ছেলে।
এই নৃশংস হামলা-হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও জামায়াতের জেলা আমীর মো. আব্দুল করিম এমপি, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুল ওয়ারেছ এমপি, অধ্যাপক মো. মাজেদুর রহমান এমপি, মাওলানা নজরুল ইসলাম লেবু এমপি, জেলা জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি সৈয়দ রোকনুজ্জামান, জেলা সহকারী সেক্রেটারি ও গাইবান্ধা পৌর মেয়র প্রার্থী মো. ফয়সাল কবির রানাসহ জেলা জামায়াতের নেতৃবৃন্দ। তাঁরা শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন। সেইসঙ্গে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে জড়িত আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তাঁরা।
নেতৃবৃন্দ বলেন, আমরা আমাদের নিবেদিতপ্রাণ একজন কর্মীকে হারালাম। মহান আল্লাহ আমাদের ভাইয়ের পিতা-মাতা ও আত্মীয়-পরিজনকে ধৈর্যধারণ করার তৌফিক দিন, জীবনের নেক আমলগুলো কবুল করুন এবং গুনাহখাতা মাফ করে শহীদ হিসেবে জান্নাতুল ফেরদৌসের মেহমান হিসেবে কবুল করুন।
উল্লেখ্য, গত ২১ জুন ২০২৬ সালের সেই কালবিকেল ৩টার দিকে সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া চারমাথা (চৌরাস্তা) এলাকায় নেমে এসেছিল এক বিভীষিকাময় তাণ্ডব। কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় যুবদল নেতার নেতৃত্বাধীন সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্য দিবালোকে চড়াও হয়। সেদিন নরপিশাচদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারিয়েছিলেন বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাইফুল্লাহ বারী। আর সেই হামলায় ঘাতকদের এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাতে জবাইয়ের উপক্রম ও মারাত্মক জখম নিয়ে লুটিয়ে পড়েছিলেন অতি-দরিদ্র পরিবারের সন্তান, ত্যাগের প্রতীক তরুণ জামায়াত কর্মী সালাউদ্দিন।
গাইবান্ধা ও বগুড়ার প্রাথমিক চিকিৎসা পেরিয়ে সালাউদ্দিনকে দ্রুত ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছিল। এখানে ইবনে সিনা হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে দীর্ঘ ৪৮টি দিন প্রতিটি মুহূর্ত কেটেছে তীব্র যন্ত্রণায়। হাসপাতালের হিমশীতল কেবিনে সালাউদ্দিনের নিথর হয়ে আসা শরীরটার দিকে তাকিয়ে বারবার কেঁদেছে শোকে বিহ্বল পরিবার।
অবশেষে শনিবার (৮ আগস্ট) ফজর পেরিয়ে সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে সব কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাস আর চিকিৎসকদের আপ্রাণ চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে চিরদিনের মতো থেমে যায় সালাউদ্দিনের হৃৎস্পন্দন।
অতি সাধারণ ও অতি-দরিদ্র ঘরে জন্ম নেওয়া সালাউদ্দিন ছিলেন তাঁর বৃদ্ধ বাবা-মায়ের বুকজুড়ে এক ফালি আলোর মতো। সেই আলো আজ সন্ত্রাসীদের নিষ্ঠুর বলি হয়ে নিভে গেল চিরতরে।
একজন তরুণ ইনসাফপ্রত্যাশী কর্মীর এমন মর্মান্তিক প্রয়াণ মেনে নিতে পারছেন না তাঁর সহযোদ্ধারা। হাসপাতালের বেডে তাঁর নিথর দেহ নিয়ে স্বজনদের কান্না ভারী করে তুলেছে চারপাশের আকাশ-বাতাস।
ঘটনার দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্ত সব দুষ্কৃতিকারী পুরোপুরি আইনের আওতায় না আসায় সাধারণ মানুষের মনে দানা বেঁধেছে তীব্র ক্ষোভ।
সাম্প্রতিক মন্তব্য
কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য লিখুন