আজঃ মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট, ২০২৬ -এ ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ - ১৯ সফর ১৪৪৮
  • আজ রংপুরের আবহাওয়া
• ভূল্লী উপজেলার প্রথম স্থায়ী ইউএনও হিসেবে যোগ দিলেন সাদ্দাম হোসেন • মাদক, ইভটিজিং ও বাল্যবিবাহমুক্ত পীরগাছা গড়তে পুলিশের বিশেষ অভিযান • বেরোবিতে ‘সাইবার নিরাপত্তা ও ডিজিটাল সুরক্ষা’ বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা • জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণে নীলফামারী শিল্পকলা একাডেমীর ‘গানে গানে জুলাই’ • হাকিমপুরে চাহিদার অর্ধেকও নয় বিদ্যুৎ সরবরাহ • ভূল্লী উপজেলার প্রথম স্থায়ী ইউএনও হিসেবে যোগ দিলেন সাদ্দাম হোসেন • মাদক, ইভটিজিং ও বাল্যবিবাহমুক্ত পীরগাছা গড়তে পুলিশের বিশেষ অভিযান • বেরোবিতে ‘সাইবার নিরাপত্তা ও ডিজিটাল সুরক্ষা’ বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা • জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণে নীলফামারী শিল্পকলা একাডেমীর ‘গানে গানে জুলাই’ • হাকিমপুরে চাহিদার অর্ধেকও নয় বিদ্যুৎ সরবরাহ

সবুজ চারায় ছেয়ে গেছে মাঠ, সোনালি স্বপ্ন বুনছেন কৃষক

Nuclear Fusion Closer to Becoming a Reality6

মাসুদ রানা

মাসুদ রানা , খানসামা , দিনাজপুর প্রতিনিধিঃ

আপডেটঃ 2 আগস্ট, 2026

বর্ষার টানা বৃষ্টিতে পানিতে টইটম্বুর বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন শুধুই সবুজের সমারোহ। সারিবদ্ধভাবে রোপণ করা হচ্ছে আমন ধানের চারা। ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় কৃষকদের কর্মব্যস্ততা; সূর্য যত ওপরে ওঠে, ততই প্রাণচাঞ্চল্যে ভরে ওঠে মাঠ। এমন মনোমুগ্ধকর দৃশ্য এখন দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের কৃষিজমিতে।

কাঁধে ধানের চারা, হাতে কৃষি সরঞ্জাম নিয়ে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে নেমে পড়ছেন জমিতে। কেউ চারা রোপণ করছেন, কেউ আগাছা পরিষ্কার করছেন, আবার কেউ জমি পরিচর্যায় ব্যস্ত। কোথাও পরিবারের সদস্যরা একসঙ্গে কাজ করছেন, কোথাও শ্রমিক নিয়োগ করে দ্রুত শেষ করা হচ্ছে রোপণের কাজ। চারদিকে সবুজ চারার সারি যেন কয়েক মাস পরের সোনালি ফসলেরই আগাম বার্তা দিচ্ছে।

উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের মাঠ ঘুরে দেখা যায়, সময়মতো রোপণ শেষ করতে কৃষকদের নিরলস প্রচেষ্টা চলছে। তাঁদের চোখে-মুখে ক্লান্তি থাকলেও রয়েছে ভালো ফলনের প্রত্যাশা। কারণ, এ অঞ্চলের অধিকাংশ কৃষকের জীবিকা ও স্বপ্ন জড়িয়ে আছে আমন ধানের সফল উৎপাদনের সঙ্গে।

স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, চলতি মৌসুমে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হওয়ায় সেচের প্রয়োজন অনেকটাই কমে গেছে। এতে উৎপাদন ব্যয় কিছুটা কমলেও শ্রমিকের মজুরি এবং কৃষি উপকরণের দাম বৃদ্ধি নতুন করে চাপ সৃষ্টি করেছে। তারপরও তাঁরা আশাবাদী। অনুকূল আবহাওয়া বজায় থাকলে ভালো ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে বলেই তাঁদের বিশ্বাস।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে খানসামা উপজেলায় ১৩ হাজার ৭৬০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে ১১ হাজার ৯৫০ হেক্টর জমিতে চারা রোপণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। অবশিষ্ট জমিতেও দ্রুতগতিতে কাজ চলছে। কৃষি বিভাগের আশা, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শতভাগ আবাদ সম্পন্ন হবে।

কৃষকদের উৎপাদনে উৎসাহিত করতে সরকারের কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় উপজেলার ৩ হাজার ৫০০ জন কৃষককে বিনামূল্যে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেককে ৫ কেজি ধানবীজ, ১০ কেজি ডিএপি সার এবং ১০ কেজি এমওপি (পটাশ) সার বিতরণ করা হয়েছে। কৃষি বিভাগের মতে, এ সহায়তা উৎপাদন ব্যয় কমানোর পাশাপাশি উন্নত জাতের ধান চাষে কৃষকদের আরও আগ্রহী করে তুলবে।

প্রণোদনা বিতরণের পাশাপাশি মাঠ পর্যায়েও চলছে নিবিড় তদারকি। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত কৃষকদের জমি পরিদর্শন করছেন এবং সঠিক সময়ে চারা রোপণ, সুষম সার প্রয়োগ, আগাছা দমন, রোগ-পোকার আক্রমণ প্রতিরোধ ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন। কোনো কৃষক সমস্যায় পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে সমাধানেরও চেষ্টা করা হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ইয়াসমিন আক্তার বলেন, “চলতি মৌসুমে খানসামা উপজেলায় ১৩ হাজার ৭৬০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধানের আবাদ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ১১ হাজার ৯৫০ হেক্টর জমিতে চারা রোপণ সম্পন্ন হয়েছে। সরকারের কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় উপজেলার ৩ হাজার ৫০০ জন কৃষককে ৫ কেজি ধানবীজ, ১০ কেজি ডিএপি সার এবং ১০ কেজি এমওপি (পটাশ) সার বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের নিয়মিত কারিগরি পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ৭১ হাজার ৬৯৭ মেট্রিক টন আমন ধান উৎপাদনের আশা করছি। কৃষকদের সময়মতো চারা রোপণ, সুষম সার প্রয়োগ এবং রোগবালাই দেখা দিলে দ্রুত উপজেলা কৃষি অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানাচ্ছি।”

কৃষি বিভাগের এই আশাবাদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন কৃষকরাও। তাঁদের প্রত্যাশা, মৌসুমের বাকি সময়েও আবহাওয়া অনুকূলে থাকবে এবং বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দেবে না। তাহলে এ বছর আমনের বাম্পার ফলন ঘরে তুলতে পারবেন তাঁরা।

আজ যে মাঠগুলো সবুজ চারায় ভরে উঠেছে, কয়েক মাস পর সেগুলোই সোনালি ধানের ঢেউয়ে রূপ নেবে। সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে প্রতিদিন ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অক্লান্ত পরিশ্রম করে চলেছেন খানসামার হাজারো কৃষক। তাঁদের ঘাম, শ্রম, অধ্যবসায় আর আশার ওপরই নির্ভর করছে চলতি মৌসুমের আমন উৎপাদনের সফলতা; আর সেই সফলতাই কৃষকের মুখে হাসি ফোটানোর পাশাপাশি দেশের খাদ্য উৎপাদন ও খাদ্য নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

মন্তব্য লিখুন

সাম্প্রতিক মন্তব্য

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

সম্পাদকের কলাম

সাইদুর রহমান
সাইদুর রহমান
সাইদুর রহমান
সাইদুর রহমান

মতামত ও কলাম

ড. মাহফুজ পারভেজ
অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
মামুন রশীদ
মো. নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া
ডঃ সাদিক আহমেদ বিপুল
image