দিনাজপুরের পুলিশ সুপারের পরিচয়ে প্রতারণা, গ্রেফতার ৪
সংক্ষেপে
পুলিশের দাবি, রিন্টু আলী দিনাজপুরের পুলিশ সুপারের ইউনিফর্ম পরিহিত ছবি ব্যবহার করে ০১৩২২-৫১১১৮৬ নম্বরের সিম দিয়ে পরিচালিত একটি হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের কথা স্বীকার করেছেন।
- উপজেলা: দিনাজপুর সদর
- জেলা: দিনাজপুর
- বিভাগ: রংপুর
দিনাজপুর প্রতিনিধি: দিনাজপুরের পুলিশ সুপারসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ইউনিফর্ম পরিহিত ছবি ও পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণার অভিযোগে চার জনকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
সোমাবার (১২ অক্টোবর) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টায় রাজশাহী থেকে একজনকে এবং মঙ্গলবার (১৩অক্টোবর) দুপুরে রাজশাহী ও নাটোর থেকে ৩জনকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ছয়টি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন-রাজশাহী জেলার বাঘা সুলতানপুর গ্রামের মোঃ আতাউর রহমানের ছেলে মোঃ নাঈম ইসলাম (২৩), মোঃ রিন্টু আলী (২৯), নাটোর জেলার লালপুর থানার মির্জাপুর গ্রামের মোঃ আহসান আলীর ছেলে মোঃ নাঈম ইসলাম (২৩), একই গ্রামের মোঃ ফজলু আলীর ছেলে মোঃ আশিকুর রহমান (১৯), রাজশাহী জেলার বাঘা থানার জোতরাঘব গ্রামের মোঃ আবুল কালামের ছেলে মোঃ রজব আলী (২৩)।
দিনাজপুর ডিবি পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ আলমগীর হোসেন সংবাদপত্রে রাত ৮টায় পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সোমাবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে রাজশাহীর বাঘা থানা পুলিশের সহায়তায় বাঘা থানার সুলতানপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে নাঈম ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার হেফাজত থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত একটি অ্যান্ড্রয়েড ও একটি বাটন মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
পরে নাঈমের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার দুপুর পৌনে ১টার সময় নাটোরের লালপুর থানার মোহরকয়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে রিন্টু আলীকে গ্রেফতার করা হয়। তার কাছ থেকেও একটি অ্যান্ড্রয়েড ও একটি বাটন মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। পরে তার দেয়া তথ্যের ভিক্তিতে বিকাল ৩টায় একই সময় অভিযান চালিয়ে একই সময় নাটোরের লালপুর থানার মির্জাপুর গ্রাম এবং রাজশাহীর বাঘা থানার জোতরাঘব গ্রামে অভিযান চালিয়ে আশিকুর রহমান ও রজব আলীকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশের দাবি, রিন্টু আলী দিনাজপুরের পুলিশ সুপারের ইউনিফর্ম পরিহিত ছবি ব্যবহার করে ০১৩২২-৫১১১৮৬ নম্বরের সিম দিয়ে পরিচালিত একটি হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের কথা স্বীকার করেছেন।
প্রাথমিক অনুসন্ধান ও জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, চক্রটি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নাম ও ছবি ব্যবহার করে অন্যের নামে নিবন্ধিত সিমকার্ডের মাধ্যমে হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করত। এসব অ্যাকাউন্টে নিজেদের পুলিশ কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা এবং বিভিন্ন মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।
দিনাজপুরের পুলিশ সুপার মোঃ জেদান আল মুসা জানান, জব্দ করা মোবাইল ফোন, সিমকার্ড ও অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে চক্রটির অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী মামলার প্রস্তুতি চলছে।
সাম্প্রতিক মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই।
মন্তব্য লিখুন