মূল কনটেন্টে যান
আজঃ শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর, ২০২৬ -এ ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ - ২৬ রবিউস সানি ১৪৪৮

মাদকে ভাসছে ঘোড়াঘাটের রামেশ্বরপুর গ্রাম

মাদকে ভাসছে ঘোড়াঘাটের রামেশ্বরপুর গ্রাম

মোঃ রেজাউল করিম স্বাধীন , নবাবগঞ্জ , দিনাজপুর প্রতিনিধিঃ

প্রকাশিতঃ ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৩৫ বিকাল আপডেটঃ ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৩৩ রাত

সংক্ষেপে

পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ, অভিযোগের পরেও থামছে না তৎপরতা, উদ্বেগে গ্রামবাসী।

  • উপজেলা: ঘোড়াঘাট
  • জেলা: দিনাজপুর
  • বিভাগ: রংপুর

মাদকে ভাসছে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার রামেশ্বরপুর গ্রাম।মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে স্থানীয়দের। 
গ্রামের বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘদিন ধরে মাদক কেনাবেচা ও সেবনের তৎপরতা বেড়ে যাওয়ায় সন্তানদের নিয়ে উদ্বেগ উৎকণ্ঠায় রয়েছেন অভিভাবকরা।মাদক কারবার ও সেবল বন্ধে রামেশ্বরপুর গ্রামের মোঃ আব্দুর রশিদ নামে  এক অভিভাবক গ্রামের চিহ্নিত ৫ থেকে ৬ জন মাদক কারবারীদের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তর এবং পুলিশ সুপার সহ আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।
আব্দুর রশিদ জানান,উপজেলার রামেশ্বর পুর গ্রামের মাদকসেবী ও মাদককারবারী জহুরুল  ইসলামের পুত্র মোঃ জনি মিয়া, হাফিজুর রহমানের পুত্র মোহাম্মদ রাসেল, মোহাম্মদ রফিকের পুত্র শাহিনুর রহমান, মৃত, আব্দুল রহিমের পুত্র মোহাম্মদ ওয়াসিম, মোঃ রজবউদ্দিন ওরফে সালামের পুত্র মোঃ শুভ , আজিবর রহমানের পুত্র মোহাম্মদ সাকিব হোসেন, মোহাম্মদ মনজুরুল ইসলাম (মনাই)
, এর পুত্র রঞ্জু মিয়া. রাত দিন মাদক সেবন এবং মাদক ব্যবসার অতি উশৃঙ্খলতায় সাধারন গ্রাম বাসী জিম্মি হয়ে পড়েছে। দিন রাত মাদক সেবন আর মাদক ব্যবসার এর কারনে গ্রামের উঠতি বয়সি যুব সমাজ চরম হুমকির মুখে পড়েছে।

যা সামাজিক অবক্ষয়ের কারন হয়ে দাড়িয়েছে। ফলে এলাকায় সিচকে চুরি ও ছিনতাইসহ নানা অপরাধ কর্মকান্ড বেড়েছে। এবং উল্লেখিত   মাদক সেবি ও মাদক কারবারির দৌরাত্ম্যে গ্রামবাসী চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরী বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী গ্রামবাসী।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয়দের অভিযোগ কাউকে মাদক কারবারি হিসেবে চিহ্নিত করা নয়—বরং অভিযোগের উৎস, মাদকের সরবরাহ পথ ও সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা তদন্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি উঠেছে।সরেজমিনে রামেশ্বরপুরের কয়েকটি এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সন্ধ্যা নামলেই বদলে যায়  চিত্র। দিনের ব্যস্ততা কমে সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে গ্রামের কিছু রাস্তা ও নিরিবিলি স্থান অনেকটাই ফাঁকা হয়ে পড়ে। স্থানীয়দের ভাষ্য, এই সময়েই কিছু স্থানে এলাকার মাদকসেবী মাদককারবারী অপরিচিত মানুষের আনাগোনা বাড়ে। 

রাস্তার পাশে বা নির্জন জায়গায় ছোট ছোট জটলা করে মাদক সেবন ও মাদক কেনাবেচা চলে। এ নিয়েও বেড়েছে তাদের উদ্বেগ।একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, দিনের বেলায় সব স্বাভাবিক মনে হয়। কিন্তু সন্ধ্যের পর কিছু জায়গায় কারা আসে, কারা যায়, কেন আসে, এ নিয়ে মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন ওঠে। প্রশাসন চাইলে নজরদারি করলেই বিষয়টি পরিষ্কার হতে পারে।আর এক বাসিন্দা বলেন মাদকের কারণে কয়েকটি পরিবার আগে থেকেই সমস্যায় পড়েছে বলে আমরা শুনেছি। এখন ভয় হচ্ছে আমাদের ছেলেমেয়েদের কেউ এতে জড়িয়ে না পড়ে।

একজন অভিভাবক বলেন তরুণরা সন্ধ্যার পর কোথায় যাচ্ছে কার সঙ্গে মিশছে এ নিয়ে অভিভাবকদের উদ্বেগ বেড়েছে সুযোগ গ্রেফতার করলেই হবে না, মাদকের উৎসও  বন্ধ করতে হবে।স্থানীয় এক শিক্ষক বলেন একটি এলাকায় মাদক ঢুকে গেলে তার প্রভাব শুধু মাদক সেবীর মধ্যে থাকে না। পারিবারিক অশান্তি, অপরাধ প্রবণতা ও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই শুরুতেই কঠোর নজরদারি দরকার।, রামেশ্বরপুরে মাদকবিরোধী ব্যবস্থা জোরদার এবং অভিযোগের তদন্ত চেয়ে জেলা প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তর এবং পুলিশ সুপারসহ  আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি—শুধু মাঝেমধ্যে অভিযান নয়, মাদকের সরবরাহ কোথা থেকে আসছে এবং কারা এর  সাথে জড়িত, তা অনুসন্ধান করা হোক।অভিযোগের পর পুলিশের নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।অভিযোগ যখন লিখিতভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছেছে, তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে। 

এখানেই ওদের দাবি,অভিযোগের ভিত্তিতে গোয়েন্দা অনুসন্ধান রামেশ্বরপুরে নিয়মিত টহল বাড়ানো, অভিযোগে উল্লিখিত স্থানগুলো নজরদারির আওতায় আনা, মাদকের উৎস ও সরবরাহকারীদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া।ঘোড়ারঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মাহমুদ হাসান বলেন,রামেশ্বরপুরের অভিযোগ আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান করা হবে। মাদক কারবারে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। তবে নির্দিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তদন্তে প্রমাণ প্রয়োজন। এলাকায় টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর বিষয়টিও

 গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে।ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ রুবানা তানজিন বলেন,মাদক নিয়ন্ত্রণ শুধু পুলিশের একার দায়িত্ব নয়। প্রশাসন, পুলিশ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় জনগণকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। রামেশ্বরপুরের অভিযোগ যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখতে সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা হবে।”রামেশ্বরপুরের মানুষ বলছেন, তারা কাউকে হয়রানি করতে চান না। তারা চান অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রকৃত মাদককারবারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা। 
 

মন্তব্য লিখুন

সাম্প্রতিক মন্তব্য

এখনও কোনো মন্তব্য নেই।