আজঃ রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬ -এ ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ - ১০ সফর ১৪৪৮
  • আজ রংপুরের আবহাওয়া
• দিনাজপুরে কেয়ারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সমন্বয়ক সভা অনুষ্ঠিত • অথৈ জলের মিতালি: তেনাছিড়া বিল এখন রূপকথার এক টুকরো সমুদ্র • বিরামপুর সীমান্তে ৯ জনকে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবি-গ্রামবাসীর বাধায় ব্যর্থ বিএসএফ • ঠাকুরগাঁওয়ে জগন্নাথদেবের উল্টো রথযাত্রা মহোৎসব অনুষ্ঠিত • সুন্দরগঞ্জে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব • দিনাজপুরে কেয়ারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সমন্বয়ক সভা অনুষ্ঠিত • অথৈ জলের মিতালি: তেনাছিড়া বিল এখন রূপকথার এক টুকরো সমুদ্র • বিরামপুর সীমান্তে ৯ জনকে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবি-গ্রামবাসীর বাধায় ব্যর্থ বিএসএফ • ঠাকুরগাঁওয়ে জগন্নাথদেবের উল্টো রথযাত্রা মহোৎসব অনুষ্ঠিত • সুন্দরগঞ্জে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব

অথৈ জলের মিতালি: তেনাছিড়া বিল এখন রূপকথার এক টুকরো সমুদ্র

Nuclear Fusion Closer to Becoming a Reality6

আনোয়ার হোসেন

আনোয়ার হোসেন , গাইবান্ধা সদর , গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ

আপডেটঃ 25 জুলাই, 2026

চারদিকে অথৈ জলরাশি, মাঝখান দিয়ে চলে গেছে আঁকাবাঁকা একটি পাকা সড়ক। রাস্তার দুই পাশে গাছের সারি, আর জলে ভাসছে সাদা শাপলা ও গোলাপি পদ্ম। বিকেলের নরম আলো শান্ত জলে ঢেউ তুলে তৈরি করছে চমৎকার এক আবহ। গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার ঘুড়িদহ ইউনিয়নের তেনাছিড়া বিল এখন প্রকৃতির এমনই রূপ ধারণ করেছে, যা দর্শনার্থীদের কাছে পরিচিতি পেয়েছে ‘মিনি কক্সবাজার’ হিসেবে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিশেষ করে ছুটির দিনে জুমার নামাজের পর থেকেই বিলপাড়ে দর্শনার্থীদের আনাগোনা বাড়তে থাকে। মোটরসাইকেল, সিএনজি কিংবা ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন শত শত মানুষ। সবার লক্ষ্য একটাই—রাস্তায় দাঁড়িয়ে চোখ জুড়ানো প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করা, ছবি তোলা কিংবা ছোট নৌকায় বিলে ঘুরে বেড়ানো।

স্থানীয়রা জানান, সাঘাটা উপজেলার সবচেয়ে বড় এই তেনাছিড়া বিল বর্ষা এলেই পানিতে টইটুম্বুর হয়ে ওঠে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্মিত সড়কটির কিছু অংশ পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় জলের মাঝে নান্দনিক এক পরিবেশ তৈরি হয়। শীতল বাতাস, ঢেউয়ের খেলা আর সূর্যাস্তের মনোরম দৃশ্য উপভোগ করতে এখানে প্রতিদিন বিকেলে গাইবান্ধা ছাড়াও বগুড়া, রংপুরসহ আশপাশের জেলার নানা বয়সী মানুষের সমাগম ঘটছে। অনেকেই নৌকায় ভেসে বিল ঘুরে দেখছেন, আবার কেউ হাঁটুসমান পানিতে নেমে গোসল করে উপভোগ করছেন বর্ষার নির্মল পরিবেশ। শিশুদের হাসি, পানির কলকল শব্দ আর পাখির কিচিরমিচির ডাক—সব মিলিয়ে পুরো এলাকাজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে এক প্রশান্তিময় আবহ। স্থানীয়রা এখন ভালোবেসে বিলের এই জায়গাটির নাম দিয়েছেন ‘মিনি কক্সবাজার’।

সাঘাটা পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শিখর মাহমুদ বলেন, বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে এসেছি। দূর জেলায় গিয়ে পর্যটনকেন্দ্রে ঘোরা আমাদের জন্য ব্যয়বহুল। তাই ঘরের কাছের এই তেনাছিড়া বিলই আমাদের কাছে ‘কক্সবাজার’।

বগুড়া থেকে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা লেখক ও সাংবাদিক প্রতীক ওমর জানান, তেনাছিড়া বিল শুধু একটি বিল নয়, এটি গ্রামবাংলার প্রকৃতির এক অনন্য প্রতিচ্ছবি। বিশেষ করে সূর্যাস্তের মুহূর্তটি যে কাউকে মুগ্ধ করবে।

ঘুরতে আসা কলেজশিক্ষক মাইদুল ইসলাম বলেন, প্রাকৃতিক এমন সৌন্দর্য খুব কম জায়গায় দেখা যায়। সরকারিভাবে উদ্যোগ নিয়ে জায়গাটি সংরক্ষণ ও পর্যটনবান্ধব করা গেলে এটি উত্তরাঞ্চলের অন্যতম আকর্ষণীয় দর্শনীয় স্থানে পরিণত হতে পারে।

সাঘাটা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান জানান, চলতি মৌসুমে টানা বৃষ্টির কারণে তেনাছিড়া বিলে পর্যাপ্ত পানি জমেছে। একটি রাস্তার কিছু অংশ তলিয়ে গেছে। ফলে বিলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আগের তুলনায় অনেক বেশি ফুটে উঠেছে।

এ বিষয়ে সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আশরাফুল কবির বলেন, পানি বৃদ্ধির ফলে এই বিলে সুন্দর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিবেশকে আরও সুন্দর ও মানসম্মত কীভাবে করা যায়, সেটা নিয়ে কাজ করব।

মন্তব্য লিখুন

সাম্প্রতিক মন্তব্য

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

সম্পাদকের কলাম

সাইদুর রহমান
সাইদুর রহমান
সাইদুর রহমান
সাইদুর রহমান

মতামত ও কলাম

ড. মাহফুজ পারভেজ
অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
মামুন রশীদ
মো. নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া
ডঃ সাদিক আহমেদ বিপুল
image