সুন্দরগঞ্জে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার শান্তিরাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবিএম মিজানুর রহমান খোকনের বিরুদ্ধে অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার ও আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ তুলে অনাস্থা প্রস্তাব দিয়েছেন পরিষদের নির্বাচিত সদস্যরা। একই সঙ্গে অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন তারা।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলি আবেদন পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এর আগে গত ৬ জুলাই শান্তিরাম ইউনিয়ন পরিষদের আটজন সাধারণ সদস্য ও দুইজন সংরক্ষিত নারী সদস্যের স্বাক্ষরিত ওই আবেদন ইউএনওর কাছে জমা দেওয়া হয়।
আবেদনে সদস্যরা উল্লেখ করেন, স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯ অনুযায়ী চেয়ারম্যানের পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনা, সভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন, আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জনস্বার্থে দায়িত্ব পালনের বাধ্যবাধকতা থাকলেও বর্তমান চেয়ারম্যান দীর্ঘদিন ধরে পরিষদের সিদ্ধান্ত অমান্য, সদস্যদের মতামত উপেক্ষা, প্রশাসনিক অনিয়ম এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে এককভাবে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। এতে পরিষদের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং নির্বাচিত সদস্যদের মধ্যে তার প্রতি আস্থাহীনতা সৃষ্টি হয়েছে।
আবেদনে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ইউনিয়ন পরিষদের ট্যাক্স আদায়ের অর্থ, পরিষদের ১ শতাংশ তহবিল, এডিপি প্রকল্পের অর্থ এবং হাট-বাজারের ৫ ও ১৫ শতাংশ রাজস্ব আত্মসাতের অভিযোগও আনা হয়েছে।
এ ছাড়া সদস্যরা অভিযোগ করেন, সম্প্রতি ভিডব্লিউবি কার্ড বিতরণেও চেয়ারম্যান একক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। নির্বাচিত সদস্যদের মতামত উপেক্ষা করে প্রতিটি ওয়ার্ডে মাত্র একটি করে সুপারিশ রাখলেও অধিকাংশ কার্ড নিজ সিদ্ধান্তে বিতরণ করেছেন বলে তারা দাবি করেন।
শান্তিরাম ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. মমিনুল ইসলাম বলেন, 'চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে এর আগেও অধিকাংশ সদস্য মিলে অনাস্থা প্রস্তাব দিয়েছিলাম। পরে প্রশাসনের মধ্যস্থতায় সমঝোতার মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হয়। তারপরও পরিষদের সিদ্ধান্ত ও সদস্যদের মতামত উপেক্ষা করে চেয়ারম্যান এককভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।'
একই ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, 'সাম্প্রতিক সময়ে ভিডব্লিউবি কার্ড বিতরণেও চেয়ারম্যান সদস্যদের মতামতকে গুরুত্ব দেননি। প্রতিটি সদস্যকে মাত্র একটি করে নাম সুপারিশের সুযোগ দিয়ে বাকি তালিকা নিজেই চূড়ান্ত করেছেন। এতে প্রকৃত উপকারভোগীরা বঞ্চিত হয়েছেন। আমরা চাই, এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হোক এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক।'
এ বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. মিঠু মিয়া বলেন, 'ইউনিয়ন পরিষদের স্বাভাবিক কার্যক্রম এখন ব্যাহত হচ্ছে। সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা না করেই বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। ফলে জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। এ কারণেই পরিষদের ১০ জন সদস্য একমত হয়ে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব দিয়েছি। এখন বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।'
এ বিষয়ে শান্তিরাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবিএম মিজানুর রহমান খোকনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, 'চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যদের একটি লিখিত আবেদন পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন ও সংশ্লিষ্ট বিধিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।'
উল্লেখ্য, শান্তিরাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবিএম মিজানুর রহমান খোকনের বিরুদ্ধে ইতোপূর্বে একাধিকবার অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। টিসিবির পণ্য বিতরণে অনিয়ম এবং ভিজিএফের চাল কম বিতরণ, টাকার বিনিময়ে কার্ড দেওয়া ও প্রকৃত উপকারভোগীদের বঞ্চিত করার অভিযোগে স্থানীয়রা তাঁকে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রেখেছিলেন। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা চেয়ারম্যান এবিএম মিজানুর রহমান খোকনকে উদ্ধার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে ইউনিয়ন পরিষদের অধিকাংশ সদস্য চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে কয়েক দফা অনাস্থা প্রস্তাব আনেন। তবে প্রশাসনের মধ্যস্থতায় সেগুলো সমঝোতার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়েছিল বলে জানা যায়।
সাম্প্রতিক মন্তব্য
কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য লিখুন