কাউনিয়ায় পাম্পে তেল নেই, ভোগান্তিতে যানবাহন চালক ও মোটরসাইকেল আরোহীরা
জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কাউনিয়ার যানবাহনের চালক ও মোটরসাইকেল আরোহীরা । উপজেলার মা সুফিয়া ফিলিং স্টেশনে অল্প পরিমাণে ডিজেল পাওয়া গেলেও পেট্রোল ও অকটেন একেবারেই মিলছে না।
রবিবার (২৯ মার্চ) মা সুফিয়া ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায় টানা পাঁচ দিন ধরে পেট্রোল ও অকটেনের সংকটে বিক্রি সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।এতে ঈদুল ফিতরের ছুটিতে বাড়ীতে আসা সাধারণ মানুষ, মোটরসাইকেল আরোহী ও যানবাহন চালকরা চরম বিড়ম্বনায় পড়েছেন। সংকট না কাটায় ভুক্তভোগীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।
মা সুফিয়ার ফিলিং স্টেশনের কর্তৃপক্ষ জানান গত পাঁচ দিন পর ডিপো থেকে জ্বালানি সরবরাহ করা হলেও শুধু ডিজেল দেয়া হয়েছে।এছাড়া পেট্রোল ও অকটেন না থাকায় গ্রাহকদের প্রচন্ড চাপ বেড়েছে।
অন্যদিকে, চাহিদার তুলনায় কম পরিমাণে ডিজেল বরাদ্দ পাওয়ায় ডিজেল চালিত যাবাহন ও কৃষক দের চাহিদা মত তেল সরবরাহ করা যাচ্ছে না। স্টেশনটিতে টানা ৫ দিন ধরে পেট্রোল ও অকটেন প্রদান করা হচ্ছে না। অল্প পরিমাণ ডিজেল সরবরাহ পাওয়া , তা দুই থেকে তিন ঘণ্টার মধ্যেই শেষ হয়ে যাচ্ছে। ফলে কৃষক, মোটরসাইকেল চালক ও সাধারণ পরিবহন চালকরা পড়েছেন চরম বিপাকে।
জানা গেছে উপজেলায় হারাগাছ পৌরসভা সহ মোট দুইটি ফিলিং স্টেশন রয়েছে, ডিপো থেকে সরবরাহ না পাওয়া এবং চাহিদার তুলনায় কম বরাদ্দের কারণে দুটি স্টেশনের একই অবস্থা।
এতে স্টেশনগুলোতে ‘তেল নেই’ সাইনবোর্ড টাঙিয়ে রাখতে হচ্ছে, যা জনভোগান্তিকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
সুফিয়া ফিলিং স্টেশনের সামনে কথা হয় রাজিব নামের একজন পরিবহন চালকের সাথে তিনি জানান , “ডিজেল যে পরিমাণ আসে, তা কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শেষ হয়ে যায়। অনেক সময় দীর্ঘসময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেক সময় তেল পাওয়া যায় না।” আবার কোথাও কোথাও ৫০০ টাকার বেশি তেল মিলছেনা,এরকম ভোগান্তির শেষ যে কবে হবে । মোটরসাইকেল আরোহী আমজাদ হোসেন বলেন কয়েক দিন ধরে পেট্রোল ও অকটেনের অভাবে আমি মোটরসাইকেল ঘর থেকে বের করতে পারছি না। এতে করে আমার দৈনন্দিন চলাফেরা ব্যবসায়িক কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বাধ্য হয়ে ভাড়া যানবাহনে চলাচল করতে হচ্ছে, আর এজন্য আগের চেয়ে অনেক বেশি ভাড়া গুনতে হচ্ছে। এই সংকটে আমরা খুবই কষ্টে আছি।
মা সুফিয়া ফিলিং স্টেশনের কর্তৃপক্ষ জানায়, ডিপো থেকে সরবরাহ না পাওয়ার কারণেই তারা পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি বন্ধ সাইনবোর্ড ঝুলে রাখতে বাধ্য হচ্ছেন। চাহিদা অনুযায়ী বরাদ্দ না বাড়লে পরিস্থিতির উন্নতি হবে না বলেও তারা জানান। এছাড়া ডিপো থেকে চাহিদার তুলনায় কম বরাদ্দ পাওয়ায় বাধ্য হয়েই ডিজেল বিক্রির পরিমাণ নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়েছে, যাতে সবাই অন্তত কিছুটা করে তেল পান।
কাউনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পাপিয়া সুলতানা জানান, জ্বালানি সংকটের বিষয়টি আমরা গুরুত্ব সহকারে দেখছি। সংশ্লিষ্ট জ্বালানি সরবরাহকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে খুব দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
সাম্প্রতিক মন্তব্য
কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য লিখুন