পঞ্চগড়ে চা শ্রমিকদের জন্য সরকারের উপহার নতুন পাকা ঘরের চাবি তুলে দিলেন এমপি নওশাদ জমির
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদের অর্থায়নে পঞ্চগড় সদর উপজেলায় চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে টেকসই আবাসন নির্মাণ কর্মসূচির আওতায় ৫ জন চা শ্রমিক পরিবারের মাঝে নবনির্মিত ঘর হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রতিটি পরিবারের অনুকূলে ২ লাখ ৮৪ হাজার টাকা করে মোট ১৪ লাখ ২০ হাজার টাকা বরাদ্দে ২০২৬ সালে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়।
শনিবার (৯ মে) পঞ্চগড় সদর উপজেলার সদর ইউনিয়নের প্রধানপাড়া এলাকায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উপকারভোগীদের হাতে নতুন ঘরের চাবি তুলে দেন পঞ্চগড়-১ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মুহম্মদ নওশাদ জমির। এসময় তিনি নবনির্মিত ঘরের নামফলক উন্মোচন করেন এবং চা শ্রমিক পরিবারের সদস্যদের মাঝে বিভিন্ন প্রয়োজনীয় উপকরণও বিতরণ করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফাহমিদা সুলতানা, পঞ্চগড় জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক অনিল চন্দ্র বর্মন, সহকারী পরিচালক মো. গোলাম ফারুক, সদর উপজেলা সমাজসেবা অফিসার লায়লা আরজুমান, সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আল ইমরানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্যারিস্টার মুহম্মদ নওশাদ জমির বলেন, চা শ্রমিকরা দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত ও পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর অংশ। বর্তমান সরকার তাদের জীবনমান উন্নয়নে আন্তরিকভাবে কাজ করছে। শুধু মাথা গোঁজার ঠাঁই নয়, নিরাপদ ও টেকসই আবাসন নিশ্চিত করার মাধ্যমে তাদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফাহমিদা সুলতানা বলেন, সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুফল যেন প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছে যায়, সেজন্য উপজেলা প্রশাসন ও সমাজসেবা বিভাগ সমন্বিতভাবে কাজ করছে। চা শ্রমিক পরিবারের জন্য এই আবাসন প্রকল্প তাদের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।
জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক অনিল চন্দ্র বর্মন বলেন, চা শ্রমিকদের জন্য নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করা সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। এই প্রকল্পের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত পরিবারগুলো স্থায়ীভাবে উপকৃত হবে।
নতুন ঘর পেয়ে উপকারভোগী আসাদুল ইসলামসহ চা শ্রমিক পরিবারের সদস্যরা আনন্দ প্রকাশ করে বলেন, নিজেদের একটি পাকা ঘর হবে, সেটা কখনো ভাবিনি। সরকারের এই সহায়তা আমাদের জীবনে নতুন আশার আলো এনে দিয়েছে।
অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা নবনির্মিত ঘরসমূহ পরিদর্শন করেন এবং উপকারভোগী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
সাম্প্রতিক মন্তব্য
কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য লিখুন