"জমি নিয়ে বিরোধ : মিলছেনা বিচার"
গাইবান্ধায় জমি নিয়ে বিরোধে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেও নিরবে নিভৃতে কাঁদছে বিচারের বাণী। ভোগ দখলীয় জমি বেহাত হওয়ার শঙ্খায় উদ্বেগ উৎকণ্ঠায় দিনাতিপাত করছেন ভুক্তভোগী আঙ্গুর আলী।
অভিযোগে জানা গেছে, গাইবান্ধা সদর উপজেলার গোবিন্দপুর সুপারির ভিটা গ্রামের মৃত মোহাম্মদ আলীর পুত্র আঙ্গুর আলীর সাথে তার একই গ্রামের প্রতিপক্ষ মৃত রফিক সরকারের পুত্র সবুর মুন্সিগং এর জমি-জমা নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে বিরোধ চলে আসছে।
ভুক্তভোগী আঙ্গুর আলীর দাবী, গোবিন্দপুর মৌজার জে এল নং-০১, এসএ খতিয়ান নং-২২৩, বিআরএস খতিয়ান নং-১১৯৫, সাবেক দাগ লং-৪১৪৩, জমির পরিমাণ-১২ শতাংশ পৈত্রিক সুত্রে প্রাপ্ত হয়ে ভোগ দখল করে আসছেন। এই ১২ শতাংশ জমির মধ্যে ৫ শতাংশে পুকুর, অবশিষ্ট ০৭ শতাংশে হিরা-২ জাতের ধান রোপন করেছিলেন। এই ভোগদখলীয় জমির রেকর্ড প্রতিপক্ষ সবুর মুন্সিগং এর নামে প্রস্তুত হয়। এ সুযোগে প্রতিপক্ষ সবুর মুন্সিগং গায়ের জোরে উক্ত জমির মিথ্যা দাবি করে বেদখলের চেষ্টাসহ রোপনকৃত ধান কর্তন করার হুমকি ধামকি প্রদর্শন করলে আঙ্গুর আলী বিজ্ঞ আদালতে সিআর মামলা নং-৬৩/২০২৫ দায়ের করেন। উক্ত মামলায় ২৯/০৪/২০২৫ ইং ধার্য তারিখ থাকায় হাজিরা দিতে বিজ্ঞ আদালতে যান। এ সুযোগে প্রতিপক্ষ সবুর মন্সিগং সঙ্গীয় লোকজন নিয়ে
এ দিন বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৩টায় ভোগ দখলীয় তপশীল বর্নিত ৭ শতাংশ জমির হিরা-২ জাতের ধান কর্তন করে নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী আঙ্গুর আলী থানায় অভিযোগ করলে তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা বিষয়টি মিমাংসার জন্য স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের উপর দায়িত্বভার অর্পন করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে চেয়ারম্যান সাহেব গত-১৬/০৬/২০২৬ ইং তারিখে একটি বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি মিমাংসার জন্য সময় নির্ধারণ করে দেন। পরবর্তীতে নির্ধারিত সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও অদৃশ্য কারণে বিভিন্ন টালবাহানায় সময় ক্ষেপণ করে আসায় আইনি সেবা থেকে বঞ্চিত হন। এতে নিরুপায় হয়ে পরবর্তীতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর অভিযোগ করেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার
বিষয়টি মিমাংসা করার জন্য ইউপি চেয়ারম্যান সাহেবের উপর দায়িত্বভার অর্পন করেন। চেয়ারম্যান সাহেব উক্ত বিষয়ে কোন প্রতিকার না করায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার পুনঃরায় উপজেলা ভূমি অফিসারের নিকট দায়িত্ব অর্পন করেন। পরিতাপের বিষয় দীর্ঘদিন অতিবাহিত হওয়ার পর উপজেলা ভূমি অফিসার সাহেব বিষয়টি মিমাংসা করিতে ব্যর্থ হন। পরে পুলিশ সুপার বরাবরে অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ সুপার
ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সদর থানার অফিসার ইনচার্জকে দায়িত্ব দেন। অফিসার ইনচার্জ একজন এসআইকে দায়িত্ব দিলে তিনিও ইউপি চেয়ারমানের সাথে যোগাযোগ করে বিচার করা সম্ভব নয় মর্মে সাফ জানিয়ে দেন। এভাবেই ন্যায় বিচার প্রত্যাশার আশায় প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বিচার না পেয়ে মারাত্মক হয়রানির শিকার হয়ে আসছেন। ভুক্তভোগী আঙ্গুর আলী আক্ষেপ করে বলেন, স্বাধীন দেশের নাগরিক হয়ে বিচার পাওয়ার অধিকার কি আমার নেই?
এ বিষয়ে প্রতিপক্ষ সবুর মন্সির সাথে কথা হলে জানান, ওই জমি আমাদের। পৈত্রিক সুত্রে প্রাপ্ত হয়ে ভোগদখলে চাষাবাদ করে আসছি। ওই জমির দাবীর স্বপক্ষে আঙ্গুর আলীর বৈধ কোন কাগজপত্র নেই। সে নিজেই গায়ের জোরে মিথ্যা দাবি করে বিরোধ সৃষ্টি করে আসছে।
ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ জানান, বিষয়টি সমাধানের জন্য আঙ্গুর আলীকে কাগজপত্রসহ ডাকা হলেও বৈঠকে হাজির না হওয়ায় বিরোধ নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়নি।
আঙ্গুর আলীর দাবী, জমির মালিকানার স্বপক্ষে যাবতীয় কাগজপত্র রয়েছে যা বিচার আমলে প্রমাণিত হবে। চেয়ারম্যান সাহেব জোরালো কোন পদক্ষেপ না নেয়ায় ন্যায় বিচার হতে বঞ্চিত হয়ে আসছি।
সচেন মহলের দাবী, প্রশাসন তৎপর হলে সঠিক তদন্তে বেড়িয়ে আসবে ঘটনার আসল রহস্য। ঘটবে সৃষ্ট ঘটনার সুষ্ঠু সমাধান।
সাম্প্রতিক মন্তব্য
কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য লিখুন