আজঃ বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬ -এ ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ - ২৯ মুহাররম ১৪৪৮
  • আজ রংপুরের আবহাওয়া
• শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে গাইবান্ধায় পরীক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ • মিথ্যা ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের প্রতিবাদে নীলফামারীতে পরিবহন শ্রমিকদের মানববন্ধন • বোদায় বিস্কুটের প্রলোভন দেখিয়ে দুই শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার • ঘোড়াঘাটে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও অপপ্রচার প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক সভা • পঞ্চগড়ে অনলাইন জুয়ায় আসক্ত যুবকের দেনার দায়ে আত্মহত্যা • শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে গাইবান্ধায় পরীক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ • মিথ্যা ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের প্রতিবাদে নীলফামারীতে পরিবহন শ্রমিকদের মানববন্ধন • বোদায় বিস্কুটের প্রলোভন দেখিয়ে দুই শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার • ঘোড়াঘাটে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও অপপ্রচার প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক সভা • পঞ্চগড়ে অনলাইন জুয়ায় আসক্ত যুবকের দেনার দায়ে আত্মহত্যা

পঞ্চগড়ে শিশুদের "মিড ডে মিলে" নষ্ট দুধ পরিবেশেনর অভিযোগ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রংপুরের আরডি ফুড এন্ড প্রাইভেট লিঃ এর বিরুদ্ধে

Nuclear Fusion Closer to Becoming a Reality6

আল মাহমুদ দোলন

আল মাহমুদ দোলন , বোদা , পঞ্চগড় প্রতিনিধিঃ

আপডেটঃ 20 মে, 2026

পড়াশোনায় শিশুদের আগ্রহ বৃদ্ধি ও বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চো উপস্থিতি নিশ্চিতের লক্ষে সারাদেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে "মিড ডে" মিলের ব্যাবস্থা করেছে সরকার। সপ্তাহের ৫দিন পর্যায়ক্রমে প্রতি দুপুরে স্কুলগুলোতে শিশুদের দেওয়া হচ্ছে, দুধ, ডিম, কলা, বিস্কুট ও বনরুটি। ক্লাসের ফাঁকে কোমলমতি এসব শিশুদের পুষ্টিকর ও নিরাপদ দুপুরের খাবার নিশ্চিতে সরকারের আন্তরিকতার কোন ঘাটতি না থাকলেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে পরিলক্ষিত হচ্ছে খাবার পরিবেশনে নিয়োজিত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি। সারাদেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের দুপুরের খাবার নিশ্চিত করতে সরকারের নেওয়া সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকার 'মিড ডে মিল' প্রকল্পে শুরুতেই অনিয়ম ও গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে।

গত সোমবার (১৮ মে) বোদা উপজেলার বড়শশী সামেরডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় শিক্ষার্থীদের মাঝে দুপুরের খবার "মিড ডে মিল" পরিবেশন করা হয় নষ্ট, পচা দুর্গন্ধযুক্ত দুধ। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সরবরাহ করা তরল দুধের প্যাকেট খোলার পর বিপত্তিতে পড়ে কোমলমতী শিশুরা।

শিক্ষার্থীরা জানায়, দুধ মুখে দেওয়া মাত্রই পঁচা দুর্গন্ধ ও তেতো স্বাদ পাওয়ার পরপরই তাৎক্ষণিকভাবে শিক্ষকদের বিষয়টি জানায়। চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র কাফি জানায় প্যাকেট ছেঁড়ার পরই নাকে গন্ধ পাই এবং একটু মুখে নিয়ে দেখি তেতো স্বাদ লাগে পরে ম্যাডামকে জানিয়ে দেই।

এবিষয়ে  সত্যতা নিশ্চিত করে সামেরডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হযরত আলী জানান, আমি অফিসের কাজে উপজেলায় গেলে স্কুলে থাকা আমার সহকারি সহকর্মীরা ফোনে বিষয়টি জানান। যেহেতু শিশু খাদ্য তাই দেরি না করে তড়িঘড়ি করে স্কুলে গিয়ে কার্টুনের বেশ কিছু দুধের প্যাকেট অস্বাভাবিক ফোলা দেখতে পাই। যা দুধের প্যাকেটের ভেতরে গ্যাস হয়েছে ধারনা করা হয়।  শিশুদের কাছ থেকে সেইসব প্যাকেট ফেরত নিয়ে ফেলে দেওয়া হয়েছে। এবং পরবর্তীতে বিষয়টি আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে বাকি প্যাকেটগুলো ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে ফেরত পাঠানো হয়। শুধু দুধেই নয়, প্রকল্পটির আওতায় সরবরাহ করা কলার মান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

আজমল হোসেন, অতিরিক্ত শিক্ষা অফিসার, বোদা, পঞ্চগড় তিনি জানান, সব সময় স্কুলগুলোতে আমরা মনিটরিং করছি এবং বিশেষ করে শিশু খাদ্য নিয়ে শিক্ষকদেরকে নজরদারি রাখার কথা বলা হয়। কোনভাবেই পচা খাদ্য কোন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সরবরাহ করতে না পারে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্র হতে জানা যায়, পঞ্চগড় জেলার ৪ টি উপজেলায় ৫৯০ টি বিদ্যালয়ের ৭৮ হাজার ৬২৬ জন শিক্ষার্থী এই সুবিধার আওতায় রয়েছে।

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার বিদ্যালয়ের খাবার সরবরাহের দায়িত্বে নিযুক্ত রয়েছে "রংপুর ডেইরি ফুড" এন্ড প্রাইভেট লিমিটেড। নষ্ট দুধ সরবরাহের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির প্রকল্প প্রধান জাকারিয়া হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, সামান্য বিষয়ে বাড়াবাড়ি করার কিছুই নেই। নষ্ট হয়েছে তাতে কি সমস্যা, তরল জিনিস নষ্ট হওয়াটাই স্বাভাবিক, পরিবর্তন করে দেওয়া হবে এই বলে ফোন কেটে দেন।

বড়শশী মহিষবাথান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মাহবুব আলম সহ স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, সরকারের কোটি টাকার মহতী উদ্যোগটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গাফিলতির কারণে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। নষ্ট ও পচা খাবার খেয়ে শিশুরা মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়তে পারতো। এই কোমলমতি শিশুদের পুষ্টি ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এই প্রকল্পে নিয়মিত এবং কঠোর মনিটরিং নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা। 

এ বিষয়ে বোদা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নজরুল ইসলাম জানান, ১৭১নং সামেরডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সেখানে ত্রুটিপূর্ণ দুধের প্যাকেট নষ্ট হয়েছে অভিযোগ পেয়েছি। ইতোমধ্যে স্কুলের কর্তব্যরত শিক্ষকরা সেসব নষ্ট দুধ প্যাকেট ফেরত দেওয়া হয়েছে। তবে শিক্ষা কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম একটি বড় ঘাটতির কথা উল্লেখ করে বলেন, স্কুলগুলোতে শিশুদের খাবার পরিবেশনের আগে বা পরে তা যাচাই-বাছাই বা মনিটরিং করা সুনির্দিষ্ট কোন নীতিমালা তাদের হাতে নেই।

মন্তব্য লিখুন

সাম্প্রতিক মন্তব্য

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

সম্পাদকের কলাম

সাইদুর রহমান
সাইদুর রহমান
সাইদুর রহমান
সাইদুর রহমান

মতামত ও কলাম

ড. মাহফুজ পারভেজ
অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
মামুন রশীদ
মো. নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া
ডঃ সাদিক আহমেদ বিপুল
image