মূল কনটেন্টে যান
আজঃ মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ -এ ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ - ৯ রবিউস সানি ১৪৪৮

ভারতীয় নাগরিক বাংলাদেশী আত্মীয়ের বাড়িতে এসে পাসপোর্ট হারিয়ে দিশেহারা

ভারতীয় নাগরিক বাংলাদেশী আত্মীয়ের বাড়িতে এসে পাসপোর্ট হারিয়ে দিশেহারা

আল মাহমুদ দোলন , বোদা , পঞ্চগড় প্রতিনিধিঃ

প্রকাশিতঃ ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:১৯ দুপুর আপডেটঃ ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:১৬ দুপুর

সংক্ষেপে

দেবীগঞ্জে আত্মীয়ের বাড়িতে যাওয়ার পথে তিন ভারতীয় নাগরিকের পাসপোর্টসহ ব্যাগ হারিয়েছে; থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন তারা।

  • উপজেলা: তেঁতুলিয়া
  • জেলা: পঞ্চগড়
  • বিভাগ: রংপুর

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে আত্মীয়ের বাসায় বেড়াতে এসে তিনটি পাসপোর্ট হারিয়ে বিপাকে পড়েছেন ভারতের তিন নাগরিক। বাংলাবান্ধা ইমিগ্রেশন দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের পর ব্যাটারিচালিত ভ্যানে করে আত্মীয়ের বাড়িতে যাওয়ার পথে পাসপোর্টসহ একটি ছোট লাল ব্যাগ হারিয়ে যায়।
 
হারিয়ে যাওয়া পাসপোর্টের মালিকরা হলেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ির জলপাই মোড় এলাকার বাসিন্দা শ্রী কাঞ্চন চন্দ্র দাস, তার স্ত্রী শরদীনি রানী দাস ও নাতনি মায়া রানী দাস।
 
ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বাংলাবান্ধা ইমিগ্রেশন দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন তারা। তাদের প্রথমে দেবীগঞ্জ উপজেলার শিবেরহাট এলাকায় নাতনি জামাই বিশ্বাস দাসের বাসায় যাওয়ার কথা ছিল। সেখানে কিছু সময় থাকার পর নীলফামারীর ডোমার উপজেলার বোড়াগাড়ীতে কাঞ্চন চন্দ্র দাসের ভাইয়ের বাসায় যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাদের।
 
বাংলাবান্ধা ইমিগ্রেশনে প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করে দেবীগঞ্জে পৌঁছাতে রাত প্রায় ১২টা বাজে। এরপর দেবীগঞ্জ পৌরসভার ব্রিজপাড় থেকে ব্যাটারিচালিত ভ্যানে করে দণ্ডপাল ইউনিয়নের কালীগঞ্জ বাজারের দিকে রওনা হন তারা।
 
ভ্যানে ওঠার সময় তিনজনের পাসপোর্ট একটি ছোট লাল ব্যাগে রেখে কাঞ্চন চন্দ্র দাস সেটি তার নাতনি মায়া রানী দাসের হাতে দেন। কিছুদূর যাওয়ার পর মায়া ব্যাগটি তার দাদি শরদীনি রানী দাসের হাতে দেন। ভ্যানটি কালীগঞ্জ বাজারের দিকে এগিয়ে যাওয়ার কোনো একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত ব্যাগটি রাস্তায় পড়ে যায়।
 
কালীগঞ্জ বাজারে পৌঁছে তারা একটি চায়ের দোকানে যান। সেখানে গিয়ে পাসপোর্টসহ লাল ব্যাগটি সঙ্গে নেই বুঝতে পারেন। পরে রাতে ভ্যান চলাচলের পথসহ আশপাশের বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন তারা। তবে কোথাও ব্যাগটির সন্ধান পাওয়া যায়নি।
 
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে তারা আবারও বিভিন্ন স্থানে পাসপোর্টসহ ব্যাগটির সন্ধানে খোঁজাখুঁজি করেন। পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে মাইকিং করা হয়। এরপরও পাসপোর্টগুলো উদ্ধার না হওয়ায় দুপুরে দেবীগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে আসেন তারা।
 
কাঞ্চন চন্দ্র দাস বলেন, ‘আমি এর আগেও পাঁচ-সাতবার বাংলাদেশে এসেছি। কিছুদিন আগে আমার ভাইস্তা মারা গেছে। তখন আসতে পারিনি। এজন্য ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করতে বাংলাদেশে আসা হয়। 
 
তিনি বলেন, গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় ইমিগ্রেশনের কাজ শেষ করে বাংলাদেশে আসি। বাংলাবান্ধায় ইমিগ্রেশনের কাজ শেষ করে রাত ১২টার দিকে দেবীগঞ্জে পৌঁছাই। ভ্যানে করে শিবেরহাটে নাতনি জামাইয়ের বাসায় যাওয়ার পথে আমার সঙ্গে আসা নাতনির হাতে থাকা ছোট একটা লাল ব্যাগ হারিয়ে যায়। ওই ব্যাগেই আমাদের তিনজনের পাসপোর্ট ছিল। গতকাল এবং আজ অনেক খুঁজেছি, কিন্তু এখনো পাইনি।’
 
এ বিষয়ে দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুসা মিয়ার ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও রিসিভ না করায় মন্তব্য জানা যায়নি।

মন্তব্য লিখুন

সাম্প্রতিক মন্তব্য

এখনও কোনো মন্তব্য নেই।