টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া, পরিবেশ রক্ষার বার্তা নিয়ে হাঁটছেন তরুণ ফাহিম
‘কালো ধোঁয়া আর নয়, হেঁটেই করব দূরত্ব জয়’ স্লোগানকে সামনে রেখে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়ার উদ্দেশে প্রায় এক হাজার কিলোমিটারের পদযাত্রায় বের হওয়া তরুণ ফাহিম মুনতাসির এখন নীলফামারীতে পৌঁছেছেন। পরিবেশ রক্ষা, জ্বালানির ব্যবহার কমানো এবং মানুষকে হাঁটার অভ্যাসে উদ্বুদ্ধ করাই তাঁর এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের বাসিন্দা ২৬ বছর বয়সী ফাহিম মুনতাসির ছোটবেলা থেকেই হাঁটাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ হিসেবে গ্রহণ করেছেন। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘সোনালী সকাল’-এর সভাপতি এবং বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া যুবশাখার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি প্রকৃতি সংরক্ষণ, জলাধার রক্ষা ও পরিবেশবিষয়ক বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত রয়েছেন।
হাঁটার সংস্কৃতি গড়ে তোলার প্রত্যয়ে গত ১০ জুলাই কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে তাঁর যাত্রা শুরু হয়। দেশের বিভিন্ন জেলা অতিক্রম করে বর্তমানে তিনি নীলফামারীতে অবস্থান করছেন। পথে পথে বিভিন্ন স্থানে মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করে হাঁটার স্বাস্থ্যগত উপকারিতা, জ্বালানির সাশ্রয়, কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরছেন।
ফাহিম মুনতাসির বলেন, “একজন সুস্থ মানুষের প্রতিদিন অন্তত ১০ হাজার কদম হাঁটা উচিত। বর্তমানে মানুষ অতিমাত্রায় যানবাহনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। ফলে শারীরিক পরিশ্রম কমে যাচ্ছে এবং বিভিন্ন রোগ বাড়ছে। হাঁটার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারলে ব্যক্তি যেমন সুস্থ থাকবে, তেমনি জ্বালানির ব্যবহার কমে পরিবেশও উপকৃত হবে।”
তিনি আরও বলেন, “আমার এই পদযাত্রা শুধু হাঁটার প্রচারণা নয়, এটি প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষারও একটি বার্তা। জলাধার ভরাট, বন উজাড় এবং সাপসহ বিভিন্ন প্রাণীর আবাসস্থল ধ্বংসের ক্ষতিকর দিক নিয়েও মানুষকে সচেতন করছি।”
ফাহিম জানান, যাত্রাপথে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের কাছ থেকে তিনি ব্যাপক উৎসাহ ও সহযোগিতা পাচ্ছেন। অধিকাংশ স্থানেই পরিচিতজন বা শুভাকাঙ্ক্ষীদের বাসায় রাতযাপন করেছেন। মানুষের এই ভালোবাসাই তাঁকে পথচলায় অনুপ্রাণিত করছে।
পদযাত্রা শেষে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় পৌঁছানোর পর ভবিষ্যতে বাংলাদেশের ৬৪টি জেলা হেঁটে ভ্রমণের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। নীলফামারীর সচেতন মহলের মতে, এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগ মানুষকে স্বাস্থ্যসচেতন করার পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে এবং তরুণ প্রজন্মকে নতুনভাবে অনুপ্রাণিত করবে।
সাম্প্রতিক মন্তব্য
কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য লিখুন