দেশপ্রেম ও ঐক্যের আহ্বানে ডিমলায় মহান স্বাধীনতা দিবসের বর্ণাঢ্য আয়োজন
নীলফামারীর ডিমলায় যথাযোগ্য মর্যাদা, ভাবগাম্ভীর্য এবং উৎসবমুখর পরিবেশে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের ৫৬তম বার্ষিকী পালিত হয়েছে। ৫৬ বছর আগে শুরু হওয়া গৌরবোজ্জ্বল সশস্ত্র সংগ্রামের স্মৃতি হৃদয়ে ধারণ করে উপজেলার সর্বস্তরের মানুষ এদিন বীর শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সূর্যোদয়ের সাথে সাথে উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে দিবসের শুভ সূচনা হয়। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ ইমরানুজ্জামান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ রওশন কোবির, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মীর হাসান আলী বান্না, উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ সোহেল রানা এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম।
এছাড়া পুলিশ প্রশাসনের পক্ষে ডিমলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ শওকত আলী সরকার এবং ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিএনপির পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বর্ষীয়ান নেতা অধ্যাপক রইসুল আলম চৌধুরী, অধ্যক্ষ মানোয়ার হোসেন, গোলাম রাব্বানী প্রধান ও জাহাঙ্গীর আলম ডিয়ার। মুক্তিযোদ্ধা সংসদের পক্ষে প্রভাষক আবুল কাশেম এবং শ্রমিক সংগঠনের নেতা মোহাম্মদ জাকির হোসেনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ একে একে শহীদ বেদীতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন।
দিবসটি উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি পালন করা হয়। আলোচনা সভায় বক্তারা স্বাধীনতার তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, "বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অসামান্য আত্মত্যাগ আমাদের বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার প্রধান অনুপ্রেরণা। স্বাধীনতার মূল লক্ষ্যই ছিল রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তি এবং একটি শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা করা।"
বক্তারা আরও উল্লেখ করেন যে, রাষ্ট্র ও সমাজের সকল স্তরে সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার মাধ্যমেই স্বাধীনতার প্রকৃত স্বপ্ন বাস্তবায়ন সম্ভব। নতুন প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার ওপর তাঁরা বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
জাতীয় ঐক্য, সহমর্মিতা ও দেশপ্রেমের চেতনাকে ধারণ করে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার দৃঢ় শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচি শেষ হয়। সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ডিমলার এই আয়োজনকে তাৎপর্যপূর্ণ ও প্রাণবন্ত করে তোলে।
সাম্প্রতিক মন্তব্য
কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য লিখুন