মূল কনটেন্টে যান
আজঃ সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ -এ ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ - ১ রবিউস সানি ১৪৪৮

কুড়িগ্রামে রাতের অন্ধকারে সার পাচার, দায় নিচ্ছে না প্রশাসন

কুড়িগ্রামে রাতের অন্ধকারে সার পাচার, দায় নিচ্ছে না প্রশাসন

মোঃ আব্দুল হাই

মোঃ আব্দুল হাই , নাগেশ্বরী , কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ

প্রকাশিতঃ ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৩৪ সকাল আপডেটঃ ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:২৩ সকাল

সংক্ষেপে

নাগেশ্বরীতে গভীর রাতে নৌকায় পাচারের সময় ১,৯৫০ কেজি সার আটক; পরে স্থানীয় কৃষকদের তালিকা করে সরকারি দামে বিক্রি করা হয়।

  • উপজেলা: নাগেশ্বরী
  • জেলা: কুড়িগ্রাম
  • বিভাগ: রংপুর

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে গঙ্গাধর নদী দিয়ে গভীর রাতে নৌকাযোগে ৩৯ বস্তা সার পাচারের সময় স্থানীয়দের হাতে আটক হয়েছে বিপুল পরিমাণ সার। প্রতিটি বস্তায় ৫০ কেজি হিসেবে জব্দ করা সারের মোট পরিমাণ এক হাজার ৯৫০ কেজি। তবে সারগুলো কোথা থেকে এসেছে, কার বরাদ্দের এবং কীভাবে নদীপথে পাচার করা হচ্ছিল—এসব প্রশ্নে স্থানীয় প্রশাসনের কোনো দপ্তরই দায় নিতে রাজি হয়নি।

এদিকে, জব্দের একদিন পর রোববার স্থানীয় কৃষকদের তালিকা করে সরকারি দামে সারগুলো বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। তবে জব্দ করা সারের মালিকানা, বিক্রির অর্থ কার কাছে গেছে এবং কোনো আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন।

বিজ্ঞাপন

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত প্রায় ১টার দিকে উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আউয়ালের ঘাট এলাকায় সার পাচারের ঘটনাটি ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, গভীর রাতে গঙ্গাধর নদী দিয়ে একটি নৌকায় বিপুল পরিমাণ সার নিয়ে যাওয়ার খবর পেয়ে তারা নৌকাটি আটক করেন। পরে নৌকায় ৩৯টি বস্তায় মোট এক হাজার ৯৫০ কেজি সার পাওয়া যায়। স্থানীয়রা সারগুলো জব্দ করে স্থানীয় নেতা ফরিদুল জোয়ারদারের জিম্মায় রাখেন।

নৌকার মাঝি আনিসুর রহমান জানান, নারায়ণপুর এলাকার ব্যবসায়ী মোস্তফা মোল্লার কাছ থেকে বস্তাপ্রতি এক হাজার ৭০০ টাকা দরে সার কিনেছেন বল্লভেরখাস ইউনিয়নের মাদারগঞ্জ বাজারের তেলবীজ ব্যবসায়ী আলতাফ হোসেন। তারা শুধু নৌকায় করে সার পরিবহন করছিলেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মোস্তফা মোল্লা স্থানীয় এক ডিলারের খুচরা বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, এলাকায় চাহিদা অনুযায়ী সার পাওয়া যায় না। অথচ চোরাই বাজারে বেশি দামে পর্যাপ্ত সার পাওয়া যায়। তাদের দাবি, কৃষকদের জন্য বরাদ্দ করা সার এভাবেই বিভিন্ন মাধ্যমে পাচার হয়ে অন্যত্র বিক্রি করা হচ্ছে।

স্থানীয় নেতা ফরিদুল জোয়ারদার বলেন, রাতে নৌকায় করে পাচারের সময় ৩৯ বস্তা সার আটক করা হয়। পরে সারগুলো তার পাশের একটি বাড়িতে রাখা হয়। রোববার সকালে স্থানীয় কৃষকদের তালিকা করে সরকারি দামে সার বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে।

তবে জব্দ করা সারের বিক্রির টাকা কার কাছে যাবে—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, সারের মালিক আলতাফ হোসেন ওই টাকা পাবেন। এ বিষয়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা অবগত রয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে আলতাফ হোসেন এত বিপুল পরিমাণ সার কোথা থেকে সংগ্রহ করেছেন জানতে চাইলে তিনি জানান, সার কোথা থেকে এসেছে তা তিনি জানেন না। তবে সারের কোনো চালান বা রশিদ পাওয়া যায়নি। সারগুলো অবৈধভাবে সংগ্রহ করা হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এগুলো অবশ্যই অবৈধ উপায়ে সংগ্রহ করে বিক্রির উদ্দেশ্য ছিল।

নারায়ণপুর ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, মোস্তফা মোল্লা একজন সাব-ডিলার এবং তিনি আলতাফ হোসেনের শ্যালক। আলতাফ মোস্তফার মাধ্যমে সারগুলো এনেছেন। তবে এগুলো তাদের বরাদ্দের সার নয়। সারগুলো যাত্রাপুর এলাকা থেকে আনা হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, স্থানীয় কৃষকদের সারের প্রয়োজন থাকায় তারা সারগুলো আটক করেন। পরে রোববার সকালে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে সার বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি শুনেছেন।

অভিযুক্ত আলতাফ হোসেন সারগুলো তার বলে স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, বর্তমানে কৃষকদের মধ্যে সার বিতরণ করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত পরে জানাবেন বলে ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহরিয়ার হোসেন বলেন, জব্দ করা সার তাদের দপ্তরের হিসাবের নয় এবং আলতাফ হোসেন কোনো ডিলার বা সাব-ডিলার নন। তার ধারণা, আলতাফ হয়তো বিভিন্ন কৃষকের কাছ থেকে সার সংগ্রহ করেছেন।

তবে কৃষকরা যখন সার সংকটের অভিযোগ করছেন, তখন এত বিপুল পরিমাণ সার একজন ব্যবসায়ী কোথা থেকে সংগ্রহ করলেন এবং কী উদ্দেশ্যে নদীপথে পরিবহন করা হচ্ছিল—এমন প্রশ্নের কোনো স্পষ্ট উত্তর দেননি তিনি। বিষয়টি অনুসন্ধান করে দেখা হবে বলে জানান উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলাউদ্দিন বলেন, সার আটকের ঘটনাটি তার জানা নেই। বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
 

মন্তব্য লিখুন

সাম্প্রতিক মন্তব্য

এখনও কোনো মন্তব্য নেই।