কুড়িগ্রামে ছুরিকাঘাতে মাকে হত্যা বাবা আশঙ্কাজনক, ৫ ঘণ্টার মধ্যে ঘাতক ছেলে আটক
সংক্ষেপে
ওসি কামাল হোসেন বলেন, ‘আমি নিজে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করেছি। তাকে থানায় নেওয়া হয়েছে। নিহতের ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে।’
- উপজেলা: কুড়িগ্রাম সদর
- জেলা: কুড়িগ্রাম
- বিভাগ: রংপুর
মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছিল। এরই মধ্যে মা-বাবাকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ ওঠে ছেলের বিরুদ্ধে। এতে প্রাণ হারিয়েছেন মা মুনিরা বেগম (৫৬) এবং গুরুতর আহত হয়েছেন বাবা অবসরপ্রাপ্ত টেক্সটাইল প্রকৌশলী সরদার আলী (৬৫)।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) ভোরে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের পলাশবাড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পর পালিয়ে গেলেও ৫ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন অভিযুক্ত ছেলে মোস্তাকিন আলম শোভন (৩৫)। এদিন বেলা ১১টার দিকে সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়নগামী ‘ভাইরাল সড়ক’ থেকে তাকে আটক করা হয়।
কুড়িগ্রাম সদর থানার ওসি কামাল হোসেন আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত শোভন দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। তাকে কয়েক দফায় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে পাঠানো হলেও সেখান থেকে পালিয়ে বাড়ি ফিরে আসেন। সম্প্রতি তাকে আবারও নিরাময় কেন্দ্রে পাঠানোর উদ্যোগ নেন মা-বাবা। এজন্য বুধবার ভোরে সিরাজগঞ্জের একটি নিরাময় কেন্দ্রের কর্মীরা তাদের বাড়িতে অপেক্ষা করছিলেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, এ সময় ঘর থেকে বেরিয়ে একটি ছুরি দিয়ে মায়ের বুকে আঘাত করেন শোভন। বাবা এগিয়ে এলে তার পেটেও উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করেন তিনি। এরপর দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
পরে নিরাময় কেন্দ্রের কর্মীরা রক্তাক্ত অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মুনিরা বেগমকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত সরদার আলীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
মা নিহত ও বাবা গুরুতর আহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তকে ধরতে অভিযান শুরু করে পুলিশ। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পর হলোখানাগামী ‘ভাইরাল সড়ক’ থেকে স্থানীয়দের সহায়তায় শোভনকে আটক করা হয়।
ওসি কামাল হোসেন বলেন, ‘আমি নিজে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করেছি। তাকে থানায় নেওয়া হয়েছে। নিহতের ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে।’
ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। খলিলগঞ্জ এলাকার একটি কলেজের সহকারী অধ্যাপক আব্দুল কাদের বলেন, অভিযুক্তের কারণে তার কলেজশিক্ষক বড় ভাই বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র ভাড়া থাকেন। যে মা ছেলেকে আগলে রেখেছিলেন, সেই মাকেই তার হাতে প্রাণ দিতে হলো। বাবার অবস্থাও আশঙ্কাজনক।
তিনি আরও বলেন, মাদকের সহজলভ্যতায় অনেক তরুণ ও যুবক আসক্ত হয়ে পড়ছেন। সন্তানদের মাদকের ছোবল থেকে রক্ষা করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ।নতুন ভাষা শিখুন
পুলিশ জানিয়েছে, নিহতের ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
সাম্প্রতিক মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই।
মন্তব্য লিখুন