সুন্দরগঞ্জে কালভার্টের মুখ বন্ধ,পানি বন্দি ২৫ পরিবার,সীমাহীন দুর্ভোগ।
গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের দেওডোবা মৌজায় মাটি কেটে কালভার্টের মুখ বন্ধ করে দেয়ায় এলাকার ২৫ টি পরিবার জলাবদ্ধ অবস্থায় দূর্বিষহ জীবন যাপন করছেন।আগাম বৃষ্টিতে কালভার্টের মুখ বন্ধ থাকায় জলাবদ্ধতার কারনে অনেকের পুকুর ভেসে গিয়ে মাছ বের হয়ে গেছে।কালভার্টের নিকটবর্তী একটি সামাজিক কবর স্থানে গিয়ে দেখা যায় কবরস্থান ছুঁই ছুঁই পানি ফলে বিঘ্নিত হচ্ছে দাফন কাজ।
দেওডোবা মৌজার মৃত্যু লুৎফর রহমান(লাল মিয়া) এর ছেলে সুরুজ্জামান ও কামরুল ইসলাম গত আমন মৌসুমে বাড়ি করার উদ্দেশ্যে কালভার্টের মুখে থাকা ৪০ শতাংশ জমি স্কেবেটর দিয়ে মাটি কাটে ফলে বৃষ্টির পানি নামার একমাত্র পথটি বন্ধ হয়ে যায়।প্রভাবশালী ব্যাক্তি হওয়ায় এলাকাবাসীর বাঁধা উপেক্ষা করে মাটি কেটে কালভার্টের মুখ বন্ধ করে এবং স্থানীয় লোকজন প্রতিবাদ করলে হুমকি ধামকি প্রদান করেন।
এ বছর আগাম বৃষ্টির কারনে পানি নেমে না যাওয়ায় প্রায় এক মাস ধরে ২৫ টি পরিবার পানি বন্দী হয়ে রয়েছে।ভুক্তভোগী মাহবুবর রহমান বলেন জলাবদ্ধতার কারণে আমাদের বাড়িঘর,রাস্তাঘাট, পুকুরের মাছ ভেসে গেছে, পরিবার পরিজন নিয়ে প্রায় এক মাস ধরে সীমাহীন ভোগান্তিতে রয়েছি।
ভুক্তভোগী আলম সরকার জানান কালভার্টের মুখ বন্ধ থাকায় অতিরিক্ত জলাবদ্ধতায় তার সহ অনেকের পাকা ধান পানির নিচে ডুবে থাকে ফলে আশানুরূপ ফলন পাননি বলে আক্ষেপ প্রকাশ করেন।তিনি আরো জানান সুরুজ্জামান ও কামরুলের চাচা নাজিম উদ্দীন সরকারকে বিষয়টি অবগত করলে তিনি পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করে দিতে ব্যার্থ হন।স্থানীয় জনপ্রতিনিধি মোস্তাফিজার রহমান মোস্তা জানান অভিযোগ পাবার পর তিনি কামরুল ইসলামের সাথে কথা বললে তিনি জানান বর্ষা মৌসুমের আগে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করে দিবেন কিন্তু আগাম বৃষ্টির কারনে জলাবদ্ধতায় ফসল ডুবে যাবার পর তাদেরকে বললে তারা কালভার্টের মুখ খুলে দিবেনা বলে জানান।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায় জলাবদ্ধতার কারণে শুধু ফসল নয়,পুকুর সহ রাস্তা ছুঁই ছুঁই পানি জমে আছে।কালভার্টের পার্শ্ববর্তী একটি সামাজিক কবর স্থানে গিয়ে দেখা যায় কবরস্থান ছুঁই ছুঁই পানি। কবরস্থানের সাধারণ সম্পাদক মোঃ জয়নাল আবেদীন জানান দীর্ঘ সময় জলাবদ্ধতার কারণে আমরা কবর স্থানে মূর্দা দাফনে হিমশিম খাচ্ছি। অল্প একটু খুঁড়তেই কবরে পানি চলে আসে ফলে দাফন কাজ প্রায়শই বিঘ্নিত হচ্ছে। আমরা সামাজিক ভাবে কালভার্টের মুখ খুলে দিয়ে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করার জন্য অনুরোধ করলেও কামরুল ও তার পরিবারের সদস্যরা কোন ভাবেই কালভার্টের মুখ খুলে দিবেনা বলে জানান।এমনকি স্বয়ং তারেক রহমান আসলেও কালভার্টের মুখ খুলে দিবেন না বলে সমাজের লোকজনকে সাফ জানিয়ে দেন।প্রভাবশালী হওয়ায় প্রতিবাদ করতে গেলেই বিভিন্নভাবে হুমকি ধামকি দিয়ে আসছেন।মুঠোফোনে কামরুল ইসলামের সাথে কথা বলার চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি। এ অবস্থায় এলাকাবাসী পানি নিষ্কাশনের জন্য কালভার্টের মুখ খুলে দিতে প্রশাসনের সহয়তা কামনা করেন।
সাম্প্রতিক মন্তব্য
কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য লিখুন