সুন্দরগঞ্জে দুই লাখ টাকার ফসল কেটে টুকরো টুকরো করল ইঁদুর ও উইপোকা
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে কৃষক তোফাজ্জল হোসেন ভাটিয়ার (৭২) প্রায় দুই লাখ টাকা কেটে ছিন্নভিন্ন করে ফেলেছে ইঁদুর ও উইপোকা। কাঠের আলমারিতে দীর্ঘদিন ধরে টাকাগুলো সঞ্চয় করে রেখেছিলেন ওই কৃষক।
ভুক্তভোগী কৃষক তোফাজ্জল হোসেন উপজেলার দহবন্দ ইউনিয়নের উত্তর ধুমাইটারি গ্রামের বাসিন্দা।
রবিবার (৯ আগস্ট) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন উপজেলার দহবন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল আলম সরকার। এর আগে শুক্রবার বিকেলে আলমারিতে টাকা রাখতে গিয়ে সঞ্চয় নষ্ট হওয়ার বিষয়টি দেখতে পান তোফাজ্জল হোসেন। শনিবার এর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন তিনি। একসময় ঢাকায় রিকশা চালিয়েও অর্থ উপার্জন করেছেন। স্ত্রী ও তিন মেয়ের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে কষ্ট করে জমানো টাকা কাঠের আলমারিতে সংরক্ষণ করেছিলেন।
তোফাজ্জল হোসেন বলেন, তিন মেয়ে ও স্ত্রীর ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে টাকাগুলো জমিয়েছি। জানতাম না এভাবে সব নষ্ট হয়ে যাবে। এই টাকা আমার কাছে শুধু টাকা ছিল না, ছিল অনেক দিনের পরিশ্রম ও ভবিষ্যতের স্বপ্ন। এখন আমি একেবারে নিঃস্ব।
তিনি আরও বলেন, এতে জমি বন্ধকের টাকাও ছিল। সরকারের কাছে তিনি সহযোগিতা চেয়েছেন। তা না হলে পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে পড়তে হবে।
স্থানীয় বাসিন্দা খলিল মিয়া বলেন, ঘরে নগদ টাকা রাখলে তা নিরাপদে সংরক্ষণ করা জরুরি। পুরোনো কাঠের আলমারিতে টাকা রাখার কারণেই এমন ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বৃদ্ধ কৃষকের দীর্ঘদিনের সঞ্চয় এভাবে নষ্ট হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
ইউপি সদস্য ছোবেদ আলী বলেন, তোফাজ্জল হোসেন খুবই অসহায়। চর এলাকা থেকে এসে এখানে বসবাস শুরু করেছেন। তেমন জায়গাজমিও নেই। ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করেই কষ্ট করে টাকা জমিয়েছিলেন। শুক্রবার বিকেলে নতুন করে আলমারিতে টাকা রাখতে গিয়ে তোফাজ্জল দেখতে পান, ইঁদুর ও উইপোকা টাকাগুলো কেটে নষ্ট করে ফেলেছে। টাকাগুলো নষ্ট হওয়ায় তাঁর পরিবার চরম বিপাকে পড়েছে।
এ বিষয়ে দহবন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল আলম সরকার বলেন, কৃষকের টাকাগুলো ইঁদুর ও উইপোকা এমনভাবে কেটেছে, যা চলার মতো না। কীভাবে ওই কৃষকের পাশে দাঁড়ানো যায়, সেই চেষ্টা করা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক মন্তব্য
কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য লিখুন