গাইবান্ধার ফুলছড়িতে বাল্যবিবাহ রোধে ‘সম্ভাবনার উৎসব’ (ক্যারিয়ার ফেস্টিভ্যাল) অনুষ্ঠিত
গাইবান্ধার ফুলছড়িতে বাল্যবিবাহ বন্ধে পদক্ষেপ তরান্বিত করার লক্ষ্যে স্কুলপড়ুয়া কিশোর-কিশোরী ও অভিভাবকদের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য “সম্ভাবনার উৎসব” (ক্যারিয়ার ফেস্টিভ্যাল) অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর ও জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ)-এর যৌথ উদ্যোগে, একশন এইড বাংলাদেশের কারিগরি সহায়তায় এবং এসকেএস ফাউন্ডেশন বাস্তবায়িত “বাংলাদেশে বাল্যবিবাহ বন্ধে পদক্ষেপ ত্বরান্বিত করা (দ্বিতীয় পর্যায়)” প্রকল্পের আওতায় গত ১১ সেপ্টেম্বর ফুলছড়ি উপজেলার বুড়াইল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে এই উৎসব আয়োজন করা হয়। সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত চলা এ উৎসবে প্রায় ২৩০ জন শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের বাংলাদেশের ফার্স্ট সেক্রেটারি ইয়ান সুইলেস, সিনিয়র ফিনান্সিয়াল অ্যাডভাইজার বার্ট ইসিং, সিনিয়র পলিসি অ্যাডভাইজার মাশফিকা জামান সাটিয়ার, ইউএনএফপিএ বাংলাদেশ চিফ অব অ্যাডোলেসেন্স অ্যান্ড ইয়ুথ ইলিজা আজরেই, একশন এইড বাংলাদেশের সিনিয়র অফিসার এ.জেড.এম. মৌসুম ইসলাম, এসকেএস ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক খন্দকার জাহিদ সারোয়ার (সোহেল), কো-অর্ডিনেটর (ফিল্ড অপারেশন) বাহরাম খানসহ স্থানীয় বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা ও পেশাজীবীরা।
আলোচনায় বক্তারা বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে শিক্ষিত ও দক্ষ প্রজন্ম গঠনের জন্য দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষা ও ক্যারিয়ার পরিকল্পনার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
উৎসবে ১০টি বিষয়ভিত্তিক স্টল স্থাপন করা হয়, যেখানে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, কৃষি, মৎস্য ও পশুপালন, ব্যবসা ও ফ্রিল্যান্সিং, আইন ও বিচার, ক্রীড়া, ব্যাংক ও বীমা, সাংবাদিকতা ও কনটেন্ট ক্রিয়েশন খাতের সফল নারী পেশাজীবীরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। শিক্ষার্থীরা এসব স্টল ঘুরে বিভিন্ন পেশা সম্পর্কে বাস্তব তথ্য, কর্মজীবনের নির্দেশনা ও প্রেরণাদায়ক গল্প শোনার সুযোগ পায়।
বিশেষ করে ছাত্রীদের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। তারা ডাক্তার, শিক্ষকসহ বিভিন্ন পেশাজীবীর সঙ্গে কথা বলে নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুনভাবে ভাবতে অনুপ্রাণিত হয়।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল “ড্রিম ওয়াল” ও কুইজ প্রতিযোগিতা। ড্রিম ওয়ালে শিক্ষার্থীরা তাদের স্বপ্ন ও পেশাগত আকাঙ্ক্ষা লিখে রাখে। অপরদিকে কুইজ প্রতিযোগিতায় কিশোর-কিশোরীরা লিঙ্গ সমতা, যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য অধিকার (SRHR) এবং নারীর প্রতি সহিংসতা (GBV) বিষয়ে নতুন জ্ঞান অর্জন করে। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় আকর্ষণীয় পুরস্কার।
সাম্প্রতিক মন্তব্য
কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য লিখুন