আজঃ সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬ -এ ২ চৈত্র ১৪৩২ - ২৭ রমজান ১৪৪৭
  • আজ রংপুরের আবহাওয়া
• হঠাৎ বৃষ্টিতে হিলিতে তলিয়ে গেছে আলুর ক্ষেত • আলোচিত সেই পকেটমার র‍্যাবের হাতে গ্রেপ্তার • দিনাজপুর জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হাসনা হেনা হীরার সাথে শেখপুরা শ্রমিক দলের সাক্ষাৎ • রংপুরে মোতাহার গ্রুপের উদ্যোগে ইউসেপের শিক্ষার্থীদের ঈদ উপহার প্রদান • গাইবান্ধা জেলা পরিষদ প্রশাসকের নিয়োগ পেলেন ডা. মইনুল হাসান সাদিক • হঠাৎ বৃষ্টিতে হিলিতে তলিয়ে গেছে আলুর ক্ষেত • আলোচিত সেই পকেটমার র‍্যাবের হাতে গ্রেপ্তার • দিনাজপুর জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হাসনা হেনা হীরার সাথে শেখপুরা শ্রমিক দলের সাক্ষাৎ • রংপুরে মোতাহার গ্রুপের উদ্যোগে ইউসেপের শিক্ষার্থীদের ঈদ উপহার প্রদান • গাইবান্ধা জেলা পরিষদ প্রশাসকের নিয়োগ পেলেন ডা. মইনুল হাসান সাদিক

সিয়ামের শিক্ষা : প্রবৃত্তির নিয়ন্ত্রণ ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন

Nuclear Fusion Closer to Becoming a Reality6

রংপুর নিউজ ডেস্ক

রংপুর নিউজ ডেস্ক

আপডেটঃ 13 মার্চ, 2026

রমজান মুসলমানদের জন্য পুণ্যময় মাস। এ মাস মুসলিমদের জীবনে শান্তি, স্বস্তি, ইমানের বার্তা, নবি (সা.)-এর অনুসরণ এবং আল্লাহভীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত নিয়ে আসে। অতীতের গুনাহ থেকে মুক্ত হওয়ার আশা নিয়ে এই মাস হাজির হয়। নবিজি (সা.) বলেছেন, ...আর যে ব্যক্তি ইমানসহ সওয়াবের আশায় রমজানে সিয়াম পালন করবে, তার অতীতের সমস্ত গুনাহ মাফ করা হবে। (সহিহ বুখারী, ১৯০১)।
শৃঙ্খলাবোধ এবং নিয়মানুবর্তিতার এক অনন্য অনুশীলন সাধিত হয় এই মাসে। প্রবৃত্তির মন্দ তাড়না থেকে মুক্তি লাভের জন্য রমজান মাসই শ্রেষ্ঠ সময়। রমজানে দীর্ঘ এক মাস সিয়াম পালন করার মাধ্যমে ঈমানদাররা তাদের মন্দ প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করেন এবং ঈমান বৃদ্ধি করেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন, রমজান মাসÑ এ মাসেই নাজিল করা হয়েছে আল-কুরআন: মানুষের জন্য দিক-নির্দেশনা এবং সৎপথ ও (ন্যায়-অন্যায়ের) মানদ-ের স্পষ্ট প্রমাণস্বরূপ... (আল-বাকারাহ, ১৮৫)।


সিয়াম কাকে বলে : সিয়াম শব্দের আভিধানিক অর্থ, বিরত থাকা। ইমাম নববী ও হাফেয ইবনু হাজার (রহ.) বলেন, নির্দিষ্ট শর্তের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কাজ থেকে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বিরত থাকাকে সিয়াম বা সাওম অথবা (ফারসিতে) রোজা বলা হয়। এখানে নির্দিষ্ট কাজ হলো, পানাহার ও স্ত্রী সম্ভোগ করা। আর নির্দিষ্ট শর্ত হলো, সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্তের পর পর্যন্ত পানাহার ও স্ত্রী সম্ভোগ থেকে বিরত থাকা। তবে, সিয়ামের পূর্ণ সওয়াব লাভের জন্য পরনিন্দা, চোগলখোরি, হিংসা-বিদ্বেষ, মিথ্যা বলা, সুদ-ঘুষ লেনদেন, পিতামাতার অবাধ্যতা, গালি দেওয়া ইত্যাদি মন্দ কর্ম থেকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে।
সিয়াম এসব খারাপ ও বদকর্ম থেকে একজন রোজাদারকে রক্ষা করে। এজন্যই সিয়াম ঢাল স্বরূপ। হাদীসে এসেছে, আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত : রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, সিয়াম ঢাল স্বরূপ। সুতরাং অশ্লীলতা করবে না এবং মূর্খের মত কাজ করবে না। যদি কেউ রোজাদারের সাথে ঝগড়া করতে চায় অথবা গালি দেয়, তবে সে যেন দুই বার বলে, আমি সাওম পালন করছি। (সহিহ বুখারী, ১৮৯৪)

সিয়ামের সময়সীমা : রোজাদার পূর্ব আকাশে সাদা রশ্মি স্পষ্ট হওয়া পর্যন্ত সেহরি খেতে পারবে। এ সম্পর্কে কুরআনে বলা হয়েছে, প্রত্যুষে কালো রেখা হতে সাদা রেখা প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত তোমরা আহার ও পান কর, অতঃপর রাত সমাগম পর্যন্ত তোমরা সিয়াম পূর্ণ কর। (আল-বাকারাহ, ১৮৭)।
রোজাদার পশ্চিম আকাশে সূর্য ডুবে যাওয়ার সাথে সাথে ইফতার করবে। কেননা, জলদি ইফতার করা কল্যাণ প্রাপ্তির এবং দেরিতে ইফতার করা অকল্যাণের লক্ষণ। এ সম্পর্কে রাসূল (সা.) বলেছেন, যখন এদিক (পূর্বদিক) হতে রাত্রির আগমন দেখতে পাবে তখন সাওম পালনকারী ইফতার করবে। (সহিহ বুখারী, ১৯৫৮)। তিনি (সা.) আরো বলেছেন, যতদিন মানুষ বিলম্ব না করে ইফতার করবে, ততদিন তারা কল্যাণের উপর থাকবে। (সহিহ মুসলিম, ২৪৪৪)।

রোজার প্রতিদান আল্লাহ দিবেন : রোজাদার সারাদিন পানাহার ত্যাগ করে শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। সে ইফতার তৈরি ও পরিবেশন করে এবং তা সামনে নিয়ে সূর্য অস্ত যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করে। কারণ আল্লাহর আদেশ হচ্ছে, সূর্যাস্ত যাওয়ার আগে রোজাদার ইফতার করতে পারবে না। যখন আল্লাহ তায়ালা তার বান্দাকে ইফতার সামনে নিয়ে অপেক্ষারত দেখেন তখন তিনি অত্যন্ত খুশি হন। এজন্য রোজার প্রতিদান তিনি নিজে দিবেন। কারণ, সাওম শুধুমাত্র আল্লাহর জন্য। হাদিসে কুদসীতে আল্লাহ তা’আলা বলেছেন, সাওম আমার জন্যই আর আমিই এর প্রতিদান দেব। কারণ, সে আমারই সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য তার প্রবৃত্তি ও পানাহার ত্যাগ করেছে। (সহিহ বুখারী, ৭৪৯২)।

রমজানে আল্লাহর পক্ষ থেকে ক্ষমা : রমজান হলো আল্লাহ্ তায়ালা কর্তৃক মুমিনদের বিশেষভাবে ক্ষমা করার মাস। সেহরি ও ইফতার করা মুমিনদের জন্য অত্যন্ত আনন্দদায়ক এবং উৎসবের সমতুল্য। সেহরীতে রয়েছে বরকত এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি জন্য ইফতার করলে রয়েছে আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ ক্ষমা ও জাহান্নাম থেকে মুক্তির সুসংবাদ। নবী (সা.) বলেছেন, তোমরা সেহরী খাও। কেননা সেহরীতে বরকত রয়েছে। (সহিহ বুখারী, ১৯২৩)। তিনি (সা.) আরো বলেছেন, আল্লাহ্ তায়ালা প্রতি ইফতারের সময় মানুষকে (জাহান্নাম থেকে) মুক্তি দেন। (ইবনে মাজাহ, ১৬৪৩)।

রমজানে তারাবির সালাত আদায় : শ্রেষ্ঠতম মাস রমজানে সালাত আদায়ে রয়েছে বিশেষ নেয়ামত। আল্লাহ তায়ালা প্রত্যেক ইবাদতের প্রতিদান দশ থেকে সাতশ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করেন। বিশেষ করে রমজানে তারাবীর সালাত আদায় করলে আল্লাহ তার বান্দার পূর্ববর্তী গুনাহ মাফ করে দেন। তারাবির সালাতে কমপক্ষে একবার প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত কুরআন খতম করা মুস্তাহাব পর্যায়ের আমল। নবী (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি রমজানে ঈমানের সাথে সওয়াব লাভের আশায় তারাবীর সালাত আদায় করবে তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ মাফ করে দেয়া হবে। (সহিহ বুখারী, ২০০৮)
রমজানে দানশীলতা : দানশীলতা একজন প্র্যাকটিসিং মুসলিমের বিশেষ বৈশিষ্ট্য। দান করা ও অসহায়কে সাহায্য করার মধ্যে সওয়াব রয়েছে। রমজানে এই সওয়াব দুটো কল্যাণে রূপান্তরিত হয়। এক, অসহায়কে সাহায্য করে সাওয়াব কামাই করা। দুই, দান করার মাধ্যমে রমজানের বিশেষ বরকত এবং ক্ষমা লাভ করা। হাদীসে এসেছে, ইবনু আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, নবী (সা.) ধন-সম্পদ ব্যয় করার ব্যাপারে সকলের চেয়ে দানশীল ছিলেন। রমজানে জিবরাঈল (আ.) যখন তাঁর সঙ্গে সাক্ষাত করতেন, তখন তিনি আরো অধিক দান করতেন। রমজান শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রতি রাতেই জিবরাঈল (আ.) তাঁর সঙ্গে একবার সাক্ষাত করতেন... তখন তিনি রহমতসহ প্রেরিত বায়ুর চেয়ে বেশি ধন-সম্পদ দান করতেন। (সহিহ বুখারী, ১৯০২)।

ইতিকাফ ও লাইলাতুল কদর তালাশ করা : রমজান সর্বোত্তম মাস। কারণ, এ মাসে কদরের রাতে লাওহে মাহফুজ থেকে একবারে প্রথম আসমান বায়তুল ইজ্জতে কুরআন নাজিল হয়েছে। এরপর তেইশ বছর ধরে ধীরে ধীরে নবী (সা.)-এর উপর তা নাজিল হয়েছে। কদরের রাত হাজার মাস থেকেও শ্রেষ্ঠ। এই রাতে ফেরেশতাগণ অবতীর্ন হন। ফজর পর্যন্ত তারা অনবরত মানুষকে শান্তি, ক্ষমা ও বরকতের সুসংবাদ দিতে থাকেন। নবী (সা.) রমজানের শেষ দিকে লাইলাতুল কদরের রাত অনুসন্ধান করতে বলেছেন। রসুল (সা.) বলেছেন, তোমরা রমাযানের শেষ দশকের বেজোড় রাতে লাইলাতুল কদরের অনুসন্ধান কর। (সহিহ মুসলিম, ২০১৭)। কদরের রাত তালাশ করার জন্য নবী (সা.) প্রতিবছর মসজিদে ইতিকাফে থাকতেন। রমজানের শেষ দশ দিন ইতিকাফ থাকা সুন্নতে মুয়াক্কাদা কেফায়া। কোনো মহল্লার একজনও ইতিকাফে না থাকলে, মহল্লার সকলেই গুনাহগার হবে।

সবশেষে বলা যায়, রমজান হলো আত্ম সংশোধনের মাস, নিয়মানুবর্তিতার মাস, চরিত্র গঠনের মাস, ,আল্লাহর কাছে বান্দার মর্যাদা বাড়ানোর মাস, আত্মশুদ্ধির মাস এবং সংযমের মাস। কুরআন তেলাওয়াত, তারাবির নামাজ আদায়, দানশীলতা, যাকাত দেওয়া ও ফিতরা আদায়ের মাধ্যমে আমরা এ মাসে আমাদের ব্যক্তিজীবন, সামাজিক জীবন, অর্থনৈতিক জীবন এবং রাষ্ট্রীয় জীবন পরিশুদ্ধ করতে পারি । সাথে সাথে রমজানে বেশি বেশি দোয়া, ইস্তিগফার এবং আত্মসমালোচনা চর্চা করার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারি।

মন্তব্য লিখুন

সাম্প্রতিক মন্তব্য

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

সম্পাদকের কলাম

সাইদুর রহমান
সাইদুর রহমান
সাইদুর রহমান
সাইদুর রহমান

মতামত ও কলাম

ড. মাহফুজ পারভেজ
অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
মামুন রশীদ
মো. নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া
ডঃ সাদিক আহমেদ বিপুল
image