আজঃ বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল, ২০২৬ -এ ২৬ চৈত্র ১৪৩২ - ২১ শাওয়াল ১৪৪৭
  • আজ রংপুরের আবহাওয়া
• টাইব্রেকারে হংকংকে হারিয়ে এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ • রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করলেন শহিদ আবু সাঈদের বাবা • আবু সাইদ হত্যা মামলার রায়ের পর ‘জয় বাংলা’ স্লোগান আসামিদের • কাউনিয়ার ইউপি সদস্য ও মহিলা সহ সড়ক দুর্ঘটনায় ২ জনের মৃত্যু : আহত ৪ • আবু সাঈদ হত্যা মামলায় ৩০ আসামির মধ্যে দুজনের মৃত্যুদণ্ড ও তিনজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড • টাইব্রেকারে হংকংকে হারিয়ে এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ • রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করলেন শহিদ আবু সাঈদের বাবা • আবু সাইদ হত্যা মামলার রায়ের পর ‘জয় বাংলা’ স্লোগান আসামিদের • কাউনিয়ার ইউপি সদস্য ও মহিলা সহ সড়ক দুর্ঘটনায় ২ জনের মৃত্যু : আহত ৪ • আবু সাঈদ হত্যা মামলায় ৩০ আসামির মধ্যে দুজনের মৃত্যুদণ্ড ও তিনজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

পঞ্চগড় পৌরসভার টিআর প্রকল্পে অস্তিত্বহীন মাদ্রাসায় লাখো টাকার বরাদ্দ

Nuclear Fusion Closer to Becoming a Reality6

ইকবাল বাহার

ইকবাল বাহার , পঞ্চগড় সদর , পঞ্চগড় প্রতিনিধিঃ

আপডেটঃ 6 এপ্রিল, 2026

পঞ্চগড় পৌরসভার গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) কর্মসূচির অর্থ বরাদ্দে ভয়াবহ অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে অস্তিত্বহীন এবং ব্যক্তিগতভাবে পরিচালিত প্রাইভেট মাদ্রাসার নামে সরকারি অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যার কোনো বাস্তব হিসাব-নিকাশ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এতে করে জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ২০২৫ সালের ৩ মার্চ জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মিজানুর রহমান স্বাক্ষরিত এক চিঠির মাধ্যমে পঞ্চগড় পৌরসভার সাতটি মাদ্রাসায় টিআর কর্মসূচির আওতায় উন্নয়ন কাজের জন্য মোট ১৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

বরাদ্দপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে পঞ্চগড় মার্কাস মাদ্রাসা উন্নয়ন, রৌশনাবাগ মাদরাসাতুল ফালা বালিকা মাদ্রাসা, রৌশনাবাগ মাদরাসাতুল ফালা বালক মাদ্রাসা, ইসলামবাগ মাদ্রাসাতুল রাইয়ান মাদ্রাসা, মিসবাউল উলুম নূরানি ও হাফেজিয়া মাদ্রাসা (দক্ষিণ রাজনগর) এবং তুলারডাঙ্গা নুরানি ও হাফেজিয়া মাদ্রাসা।

তবে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে মহিলা কলেজ রোডের একটি মাদ্রাসা বাড়ি ভাড়া নিয়ে শিক্ষার্থীদের বেতন-ফি দিয়ে ব্যক্তিগতভাবে পরিচালিত হচ্ছে। সরকারি বরাদ্দ পাওয়ার মতো কোনো স্থায়ী অবকাঠামো বা সরকারি স্বীকৃতির স্পষ্ট প্রমাণ সেখানে পাওয়া যায়নি।

সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে পঞ্চগড় মার্কাস উন্নয়ন মাদ্রাসা নিয়ে। স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে এ মাদ্রাসার কোনো অস্তিত্বই পাওয়া যায়নি। কোথাও এর অবকাঠামো নেই, এমনকি এলাকাবাসীর কাছেও এর কোনো পরিচিতি নেই। অথচ এই নামের বিপরীতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা।

পশ্চিম জালাসী এলাকার বাসিন্দা জোবায়ের রাব্বি বলেন, মার্কাস মসজিদের পাশে এমন কোনো মাদ্রাসা আছে বলে কখনো শুনিনি বা দেখিনি।

মার্কাস মসজিদের সাবেক ইমাম আরিফুল ইসলাম জানান, আমি প্রায় ১৪ মাস দায়িত্ব পালন করেছি। এখানে মসজিদ, মেহমানখানা ও সাইকেল গ্যারেজ রয়েছে, কিন্তু কোনো মাদ্রাসার কার্যক্রম কখনো দেখিনি।

নিয়মিত মুসল্লি মাসুদ প্রধান রানাও একই কথা বলেন, আমরা প্রতিদিন নামাজ পড়ি, কিন্তু কখনো মাদ্রাসার অস্তিত্ব চোখে পড়েনি। অথচ লাখো টাকার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এটা আমাদের জন্য বিস্ময়কর।

তবে মার্কাস মসজিদের দায়িত্বে থাকা হাজী আব্দুল আলীম খান দাবি করেন, বর্তমানে মাদ্রাসার কার্যক্রম না থাকলেও ভবিষ্যতে চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। বরাদ্দের টাকা মেহমানখানা ও ল্যাট্রিন মেরামতে ব্যয় করা হয়েছে।

এ বিষয়ে পঞ্চগড় পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী প্রণব চন্দ্র দে বলেন, আমি বিষয়টি সরেজমিনে পরিদর্শন করে অনিয়ম পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ব্যক্তিগত মাদ্রাসায় বরাদ্দ দেওয়ার বিষয়টিও শর্ত অনুযায়ী যাচাই করা হবে।

এদিকে, সরকারি অর্থের এমন বেহিসাবি ব্যবহার ও অস্বচ্ছতা নিয়ে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে অর্থ লুটপাট বন্ধ না হলে উন্নয়ন প্রকল্পের প্রতি মানুষের আস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়বে।


 

মন্তব্য লিখুন

সাম্প্রতিক মন্তব্য

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

সম্পাদকের কলাম

সাইদুর রহমান
সাইদুর রহমান
সাইদুর রহমান
সাইদুর রহমান

মতামত ও কলাম

ড. মাহফুজ পারভেজ
অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
মামুন রশীদ
মো. নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া
ডঃ সাদিক আহমেদ বিপুল
image