কুড়িগ্রাম পেলো অতিরিক্ত ১ হাজার মেট্রিকটন সার বরাদ্দ, বিগত ৫ বছরে সর্বোচ্চ
সংক্ষেপে
কুড়িগ্রামে কৃষকদের বাড়তি চাহিদায় সেপ্টেম্বরের জন্য অতিরিক্ত ১ হাজার মেট্রিকটন ইউরিয়া বরাদ্দ দিয়েছে সরকার; মোট বরাদ্দ দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৬৪৪ টন।
- উপজেলা: কুড়িগ্রাম সদর
- জেলা: কুড়িগ্রাম
- বিভাগ: রংপুর
কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলে লক্ষ্যমাত্রার অতিরিক্ত চাষাবাদ এবং কৃষকদের চাহিদার কথা বিবেচনায় সেপ্টেম্বর মাসে মাসভিত্তিক বরাদ্দের বাইরে অতিরিক্ত আরও ১ হাজার মেট্রিকটন ইউরিয়া সার বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। দুই দফায় পৃথক আদেশে এই বরাদ্দ দেওয়া হলো। যা বিগত ৫ বছরে সেপ্টেম্বর মাসের মাসভিত্তিক গড় বরাদ্দের সর্বোচ্চ।
কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক (ডিসি) অন্নপূর্ণা দেবনাথ এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘ নিয়মিত সময়ের আমন খেতে এখন ডিএপি কিংবা ইউরিয়া দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। দিলে সেটা অপচয় হবে। যেসব আমন খেতের পাতার আগা হলুদ বর্ণ ধারণ করেছে সেসব খেতে এমওপি বা পটাশ সার প্রয়োগ করতে হবে, সাথে জমিতে পানি লাগবে।’
অতিরিক্ত সার বরাদ্দ প্রসঙ্গে ডিসি অন্নপূর্ণা দেবনাথ জানান, গত সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন (বিসিআইসি) থেকে জারি করা বরাদ্দ আদেশে ৫০০ মেট্রিকটন এবং গত বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) কৃষি মন্ত্রণালয়ের সার ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিং শাখা থেকে আরও ৫০০ মেট্রিকটন ইউরিয়া সার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে কুড়িগ্রাম জেলার অনুকূলে দুই দফায় সেপ্টেম্বর মাসের মাসিক বরাদ্দের অতিরিক্ত আরও ১ হাজার মেট্রিকটন ইউরিয়া বরাদ্দ পাওয়া গেছে।
কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, চলতি বছর জুলাই, আগস্ট এবং সেপ্টেম্বর মাসে কুড়িগ্রামে ইউরিয়া বরাদ্দ হয়েছে ১২ হাজার ৪৮৩ টন। এর মধ্যে শুধু সেপ্টেম্বরে মাসিক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৪ হাজার ৬৪৪ মেট্রিকটন, যা গত বছর সেপ্টেম্বরে ছিল ৩ হাজার ৮৯৪ মেট্রিকটন।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের সার ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিং শাখার বরাদ্দ আদেশে বলা হয়েছে, বিগত ৫ বছরে কুড়িগ্রামে সেপ্টেম্বর মাসে ইউরিয়া সারের বরাদ্দের গড় ছিল ৪ হাজার ৫৫ মেট্রিকটন। অতিরিক্ত ১ হাজার মেট্রিকটন বরাদ্দ দেওয়ায় চলতি বছর সেপ্টেম্বর মাসে জেলায় ইউরিয়া বরাদ্দ দাঁড়ালো ৫ হাজার ৬৪৪ মেট্রিকটন, যা বিগত ৫ বছরের মাসিক গড় বরাদ্দের সর্বোচ্চ।
কৃষি বিভাগ জানায়, জেলা জুড়ে আমন চারার গাঢ় সবুজ রঙ ধারণ করেছে। এসব খেতে ইউরিয়া কিংবা ডিএপি দেওয়ার প্রয়োজন নেই। কিন্তু কৃষকদের মধ্যে অতিরিক্ত সার প্রয়োগের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। অনেকে ভুল তথ্যে সার সংকটের আশঙ্কা থেকে ভুট্টা চাষের জন্য আগাম সার সংগ্রহ করে মজুদ করছেন।
কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, এ বছর বন্যা না হওয়ায় চরাঞ্চলের কিছু নিচু জায়গা চাষাবাদ যোগ্য হয়েছে। কৃষকরা ওই জায়গাগুলোতে বিলম্বে আমন এবং রবি মৌসুমের আগাম সবজি চাষ শুরু করেছেন। এর ফলে অতিরিক্ত সারের চাহিদা দেখা দিয়েছে। ওই সকল স্থানের কৃষকদের চাহিদা বিবেচনায় ফসলের উৎপাদন অব্যাহত রাখার স্বার্থে সরকার অতিরিক্ত সার বরাদ্দ দিয়েছে। শিগগির এই সার কৃষকদের মাঝে বিতরণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন,‘ অতিরিক্ত ১ হাজার মেট্রিকটন ইউরিয়া বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এছাড়াও অক্টোবর মাসের মাসিক বরাদ্দ (৩ হাজার ৬৩৯ মে.টন) আগাম উত্তোলনের অনুমতি পাওয়া গেছে। সারের কোনো কমতি হবে না। কৃষকদের আশ^স্ত করতে চাই যে, রবি মৌসুমেও সারের কোনো সংকট হবে না। প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রয়েছে।’
তবে সার বিতরণে বৈষম্যের অভিযোগ তুলছেন কৃষকরা।
এছাড়াও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা, ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের ত্রিমুখী সিন্ডিকেট, ডিলারদের স্বজনপ্রীতি, রাজনৈতিক প্রভাব এবং মজুদের অভিযোগও আছে।
প্রশাসনের অভিযানে বিভিন্ন স্থান থেকে সার উদ্ধার এবং বেশি দামে খুচরা বিক্রেতাদের কাছে সারপ্রাপ্তির ঘটনা কৃষকদের অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ করে।
সাম্প্রতিক মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই।
মন্তব্য লিখুন