আজঃ রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬ -এ ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ - ২ জ্বিলক্বদ ১৪৪৭
  • আজ রংপুরের আবহাওয়া
• গোবিন্দগঞ্জে আইনমন্ত্রীর আকস্মিক সফর: তৃণমূলের মানুষের সঙ্গে এক আন্তরিক বিকেল • রংপুরে শাপলা সিনেমা হলে অনৈতিক কার্যক্রমের অভিযোগে ৩৭ জন আটক • জমি দখলের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা • অবৈধ অর্থ উদ্ধারে আইন প্রণয়নের দাবি : প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি • কুড়িগ্রামে র‌্যাবের অভিযানে ৭৬ কেজি গাঁজাসহ ১ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার • গোবিন্দগঞ্জে আইনমন্ত্রীর আকস্মিক সফর: তৃণমূলের মানুষের সঙ্গে এক আন্তরিক বিকেল • রংপুরে শাপলা সিনেমা হলে অনৈতিক কার্যক্রমের অভিযোগে ৩৭ জন আটক • জমি দখলের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা • অবৈধ অর্থ উদ্ধারে আইন প্রণয়নের দাবি : প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি • কুড়িগ্রামে র‌্যাবের অভিযানে ৭৬ কেজি গাঁজাসহ ১ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

হাবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের স্মৃতিতে শৈশবের ঈদ

Nuclear Fusion Closer to Becoming a Reality6

মোঃ আরাফাত ইসলাম

মোঃ আরাফাত ইসলাম , হাবিপ্রবি , ক্যাম্পাস প্রতিনিধিঃ

আপডেটঃ 19 মার্চ, 2026

শৈশবের ঈদ মানেই ছিল অন্যরকম এক আনন্দ—নতুন জামার গন্ধ, সকালে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে ওঠা, নামাজ শেষে বন্ধুদের সঙ্গে দৌড়ঝাঁপ আর সারাদিনের হাসি-খুশি। তখন ঈদ ছিল নিখাদ আনন্দের, কোনো চাপ বা ব্যস্ততা ছাড়া একদিনের পূর্ণ উদযাপন। সময়ের সঙ্গে সেই দিনগুলো পেছনে পড়ে গেলেও, স্মৃতিগুলো এখনো ঠিক আগের মতোই রয়ে গেছে হৃদয়ের ভেতরে।

হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের কাছেও শৈশবের ঈদ মানে এমনই কিছু না-ভোলার মুহূর্ত। তাদের স্মৃতিতে উঠে এসেছে সেই দিনের সরলতা, উচ্ছ্বাস আর একসঙ্গে থাকার আনন্দের গল্প। বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে উঠে এসেছে তাদের শৈশবের ঈদের নানা রঙ, আবেগ আর অনুভূতি।

অর্থনীতি ২১ ব্যাচের শিক্ষার্থী মোঃ মাসুদ রানা বলেন, ❝শৈশবের ঈদ মানেই ছিল এক অন্যরকম উদযাপন, যা আজও মনে পড়লে এক মিষ্টি অনুভূতির সঞ্চার ঘটে। চাঁদ দেখার জন্য মাগরিবের পরেই ফাঁকা জায়গায় পুরো গ্রামের মানুষজন একত্রিত হওয়ার বিষয়টি আজও এক অন্যরকম অনুভূতি জাগায়।পরের দিন সকালে উঠে নামাজে যাওয়ার আগে আম্মু পাঞ্জাবি পরিয়ে এবং চোখে চিকন করে সুরমা দিয়ে বের করে দিতেন। তারপর কিছুটা রাস্তা হেঁটে, কিছুটা বাবার ঘাড়ে চড়ে, আর কিছুটা দৌড়ে প্রতিযোগিতা করতে করতে মাঠে গিয়ে নামাজ পড়ে আসা।শৈশব পেরিয়ে বয়সের বেড়াজালে, সেই সরল আনন্দ আর ঈদের উচ্ছ্বাস সেটাই যেন সবচেয়ে সুন্দর স্মৃতি হয়ে হৃদয়ে রয়ে গেছে।❞

একাউন্টিং ২২ ব্যাচের শিক্ষার্থী আরজিনা আক্তার রিশা বলেন,❝ঈদ আসলেই সবচেয়ে বেশি মনে পড়ে নতুন জামা কিনতে যাওয়ার দিনগুলো। আমি, আমার ভাইয়া আর আব্বু একসাথে বের হতাম। আমার জন্য জামা কেনা ছিল আব্বু আর ভাইয়ার সবচেয়ে কঠিন কাজ! কেন জানেন? আমার যদি জামা পছন্দ না হতো, তাহলে আমি দোকানেই কান্নাকাটি শুরু করে দিতাম, রাগ করতাম, এমনকি দোকানদারকেও বকা দিতাম! দোকানের অবস্থা ১২টা বাজিয়ে তবেই ফিরতাম। তাই পরিচিত দোকানদার আংকেলরা আগে থেকেই আমার জন্য আলাদা ইউনিক জামা রেখে দিতেন… তাও কিন্তু আমার রাগ কমতো না!আর ঈদের দিন সকালে আম্মু সেমাই রান্না করতেন, আর আমরা তিন ভাই-বোন একসাথে রেডি হতাম। ভাইয়া আমাদের ছবি তুলতো, আপু আমাকে সুন্দর করে সাজিয়ে দিতো… সেই মুহূর্তগুলো যেন এখনো চোখের সামনে ভাসে।ওহ! চাঁদ রাতের কথাটাও ভোলার নয়… বাড়ির সব বাচ্চারা মিলে দুই হাতে ভরা মেহেদি দিয়ে নদীর ধারে চাঁদ দেখতে দৌড়ে যেতাম। ইফতারে পানি খেয়েই সবাই ছুট!আর কারো মেহেদি যদি নষ্ট হয়ে যেত, তাহলে তো আর রক্ষা ছিল না—কান্নায় বাড়ি মাথায় তুলতাম!এখন এসব ছোট ছোট আনন্দ খুব বেশি মনে পড়ে… বিশেষ করে যখন আব্বু সুস্থ ছিলেন, সেই সময়ের প্রতিটা ঈদ। আব্বুর দেওয়া নতুন ১০০ টাকা, আম্মুর দেওয়া ১০ টাকা—এই ছোট ছোট জিনিসগুলোই ছিল আমার সবচেয়ে বড় সুখ।❞

ইসিই ২২ ব্যাচের শিক্ষার্থী আজিজুর রহমান বলেন,❝শৈশবের ঈদ মানেই ছিল এক অন্যরকম আনন্দের জগৎ। ঈদের আগের রাত থেকেই নতুন জামা পরে দেখার উত্তেজনা, সকালে ভোরে উঠে গোসল করে নতুন পোশাক পরে ঈদের নামাজে যাওয়ার প্রস্তুতি সবকিছুই ছিল ভীষণ রোমাঞ্চকর। নামাজ শেষে বড়দের সালাম করে সালামি নেওয়া ছিল সবচেয়ে আনন্দের মুহূর্ত। এরপর শুরু হতো বন্ধুদের সাথে ঘুরে বেড়ানো, এক বাসা থেকে আরেক বাসায় গিয়ে সেমাই, পায়েস আর নানা রকম মজার খাবার খাওয়া। দিনভর হাসি-আনন্দে কাটলেও দিনের শেষে মনটা একটু খারাপ হয়ে যেত, কারণ মনে হতো এই আনন্দটা যদি আরেকটু দীর্ঘ হতো! সেই নির্ভেজাল মুহূর্তগুলোই আজও শৈশবের ঈদের সবচেয়ে প্রিয় স্মৃতি হয়ে আছে।❞

কৃষি অনুষদের ২২ ব্যাচের শিক্ষার্থী পৌষী সাহা বলেন, ❝আমি ভিন্ন ধর্মের পরিবারে বড় হলেও ছোটবেলা থেকেই ঈদ আমার কাছে খুব আনন্দের একটা দিন ছিল। আমাদের পাড়ায় অনেক মুসলিম বন্ধু ছিল, তাই ঈদ মানেই ছিল তাদের সঙ্গে ঘুরে বেড়ানোর একটা বিশেষ সুযোগ।ঈদের দিন সকালে বন্ধুরা নতুন জামা পরে বাইরে বের হতো, আমিও ওদের সঙ্গে যোগ দিতাম। আগের দিনই ওরা বলে রাখত, ঈদের দিন কিন্তু আমাদের বাসায় আসবি। বিকেলে ওদের বাসায় গেলে আন্টিরা খুব আন্তরিকভাবে সেমাইসহ নানা নাস্তা খাওয়াতেন—সেই সেমাইয়ের স্বাদটা এখনো মনে আছে।

সারাদিন বন্ধুদের সঙ্গে ঘোরা, এক বাসা থেকে আরেক বাসায় যাওয়া—এই ছোট ছোট মুহূর্তগুলোই ঈদের আনন্দকে অন্যরকম করে তুলত। কখনোই নিজেকে আলাদা মনে হয়নি, বরং সবকিছুই খুব আপন লাগত।এখনো ঈদ এলে সেই ছোটবেলার দিনগুলোর কথা মনে পড়ে—তখনই বুঝেছিলাম, উৎসবের আনন্দ সবার জন্যই সমান।❞

সিএসই ২৪ ব্যাচের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আইয়ুব ইসলাম বলেন, ❝ঈদ মানে আনন্দ - ঈদ মানেই উচ্ছাস! ঠিক তেমন টাই ছিল আমার শৈশবের ঈদ উদযাপন! দীর্ঘ একমাস রোজা রাখার মাধ্যমে অপেক্ষা করতাম ঈদের দিন কে নিয়ে! প্রধান কারণই হচ্ছে নতুন জামা -পান্জাবি এবং সালামি পাওয়ার। রমজান মাসের শেষ রোজার ইফতারি করেই এলাকার সব পিচ্চি পোলাপান দল বেঁধে চাঁদ দেখতে বেরতাম! চাঁদ দেখা মাত্র আমরা হরেক রকমের পটকা ফুটাইতাম!ঈদের দিন খুব সক্কালে উঠে পরিবারের সব পিচ্চি পোলাপাইন দাদা -দাদি সহ সকলের বাসায় যায় সালামি নিতাম! সালামি নেওয়া শেষে গোসল করে নতুন জামা পড়ে, পায়েস খেয়ে সকলে নামাজে যেতাম। নামাজে যেয়ে বিভিন্ন ধরনের খেলনা নেওয়ার আবদার করতাম! এমনই ছিল আমার শৈশবের রঙিন, উৎসবমুখর ও আনন্দঘন ঈদযাপন!❞

ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২৪ ব্যাচের শিক্ষার্থী আরজুমান আঁখি বলেন, ❝ঈদ মানেই আনন্দ, তবে ছোটো বেলার ঈদ-মূহুর্ত গুলো একটু বেশিই রঙ্গিন ছিল। আমার ছোটোবেলায় ঈদের বেশ কিছু মজার স্মৃতি আছে, যা ভুলবার নয়।একবার হয়েছে কি!!...আমার মেহেদীটা আগে থেকেই লিকেজ ছিলো, জানতাম না। ঈদের আগের রাতে মেহেদী দেওয়ার পর রং হয়েছে ফ্যাকাশে। মা আমাকে খুব কষ্টে বুঝালো যে সকাল হলেই কালার চলে আসবে। আমিও সেটা মেনে নিয়ে ঘুমিয়ে গেলাম। সকালে উঠে হাতের অবস্থা আগের মতোই দেখে আমি তো বাড়িতে হুলস্থুল ফেলে দিলাম, কান্নাকাটি করে একাকার। কিছুক্ষণ পরেই আব্বুকে ঈদের নামাজে যেতে হবে। এদিকে আমাকে থামানোও মুশকিল হয়ে গেছে। এমুহূর্তে আব্বুকে চটজলদি পরিচিত দোকানির থেকে দোকান খুলে মেহেদী নিয়ে এসে আমাকে পরাতে হয়েছে। এখানেই শেষ নয়, আব্বু তো আর মেহেদী আর্টিস্ট না, তিনি আমার হাতে পাখি, লতা-পাতার ছবি একে দিলেন। এমন ডিজাইন দেখে আমার দুঃখ আর দেখে কে! সেই ঈদে আমার কান্নাতেই আসলে বঙ্গোপসাগর তৈরি হয়েছে।নতুন জামা নিয়ে এমনভাবে লুকিয়ে রাখতাম যেন সেটা কোনোভাবেই কেউ দেখতে না পারে, নাহলে জামা পুরোনো হয়ে যাবে যে!ঈদের চাঁদ দেখার সাথে সাথে দল বেধে সবার মাঝে মেহেদী দেওয়ার ধুম পড়ে যেতো। ঈদের দিন নতুন জামা কাপড় পরে সেজে গুজে সব ফ্রেন্ডস, কাজিনরা মিলে ঘুরতাম, আনন্দ করতাম।ছোটোবেলার এই সরল-ছোট বিষয়গুলো যেভাবে উপভোগ করতাম, এখন আর তেমন হয়ে ওঠে না।❞

মন্তব্য লিখুন

সাম্প্রতিক মন্তব্য

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

সম্পাদকের কলাম

সাইদুর রহমান
সাইদুর রহমান
সাইদুর রহমান
সাইদুর রহমান

মতামত ও কলাম

ড. মাহফুজ পারভেজ
অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
মামুন রশীদ
মো. নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া
ডঃ সাদিক আহমেদ বিপুল
image